
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরার সাথে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ ছিল। স্প্যানিশ এই কোচের অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ভালো পারফরম্যান্স করায় চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এক বছর বাড়িয়ে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জামাল ভূঁইয়াদের কোচ থাকবেন এই মাস্টারমাইন্ড।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের অন্যতম সহ-সভাপতি এবং জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ। কোচের চুক্তি নবায়ন সম্পর্কে বাফুফের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই পক্ষের আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন হয়েছে। একইসঙ্গে তার দাবি এবং পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে সম্মানী আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।’
২০২২ সালে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হয়ে এসেছিলেন ক্যাবরেরা। মেয়াদের প্রথম বছর তার অধীনে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স আশানুরুপ না হলেও এই স্প্যানিশের ওপর আস্থা রেখে চুক্তি নবায়ন করেছিল বাফুফে। মেয়াদের দ্বিতীয় বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ক্যাবরেরার অধীনে ১৪ বছর পর বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠেছিল।
অক্টোবরে মালদ্বীপকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম পর্ব টপকে উঠেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। এ রাউন্ডে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও দারুণ নৈপূণ্য দেখিয়ে ড্র করেছে লেবাননের মতো দলের সঙ্গে। তার অধীনে এশিয়ান গেমসে চীনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তাই তার চুক্তির মেয়াদ বাড়বে, এমনটাই অনুমেয় ছিল।
তবে গত বছর চুক্তি বৃদ্ধির সময় বাফুফে হ্যাভিয়েরের বেতন বাড়ায়নি। ফলে প্রথম চুক্তিতে উল্লেখিত বেতনই পেয়ে আসছিলেন তিনি। এবার সাফ এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে হ্যাভিয়েরের অধীনে বাংলাদেশ ভালো পারফরম্যান্স করেছে। এজন্য তিনি প্রায় দ্বিগুণ অর্থ দাবি করেছিলেন। গত কয়েক দিন দুই পক্ষের মধ্যে বেতন নিয়েই মূলত দর কষাকষি হয়েছে। দুই পক্ষ মাঝামাঝি অবস্থানে আসায় সম্পাদন হয়েছে চুক্তি।
এদিকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সামনে কঠিন সব চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আগামী মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘আই’ গ্রুপে পরবর্তী লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিপক্ষে পরবর্তী দুটি ম্যাচ খেলবে জাতীয় দল। এরপর জুনে আরও ফিলিস্তিন ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাকি দুটি ম্যাচ। তাঁর অধীনে এখন পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে ৫টি জয়ের বিপরীতে হার ৪টি, ৪টি ড্র।




