
আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন নাপোলির নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ভিক্টর ওসিমেন। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) মরক্কোর মারাক্কেশ শহরে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ওসিমেনের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
গত মৌসুমে ইতালিয়ান সিরি-এ লিগ শিরোপা জয়ে নাপোলিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওসিমেন। আফ্রিকার সর্বোচ্চ এই পুরস্কার পেতে ওসিমেন লিভারপুলের মিশরীয় উইঙ্গার মোহাম্মেদ সালাহ ও পিএসজির মরোক্কান রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমিকে পিছনে ফেলেছেন।
পুরস্কার হাতে নিয়ে ২৪ বছর বয়সী ওসিমেনের ভাষ্য, এটা আমার কাছে স্বপ্ন সত্যি হবার মতো ঘটনা। আমার প্রতি সমর্থনের জন্য নাইজেরিয়ানদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে পুরো আফ্রিকার প্রতি কৃতজ্ঞ, যে কারণে বিশ্ব এখন আমাকে চিনে। আমার অনেক ভুল-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে আমাকে উৎসাহিত করার জন্য, প্রতিরোধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
গত মৌসুমে নাপোলির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৩১ গোল করেছেন ওসিমেন। ৩৩ বছর পর প্রথমবারের মতো নাপোলির ইতালিয়ান লিগ শিরোপা জয়ের পিছনে ওসিমেনের অবদান ছিল অনেক বেশি। এই পারফরমেন্সের পরপরই ওসিমেনের জন্য ট্রান্সফার ফি বাবদ নাপোলি রাতারাতি ২০০ মিলিয়ন ইউরো হাঁকানো শুরু করেছে।
২০১৫ সালে চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ থেকেই ওসিমেনের প্রতি ইউরোপিয়ানদের নজর পড়ে। ওই বছর তিনি জার্মান ক্লাব উলফসবার্গে যোগ দেন। এরপর তাকে ধারে বেলজিয়ান ক্লাব চার্লেরোই চুক্তি করে। কিছুদিন পর সেই চুক্তি স্থায়ী হয়।
২০১৯ সালে ওসিমেন ফরাসি ক্লাব লিলিতে যোগ দিয়ে ২৭ ম্যাচে ১৩ গোল করেন। এক বছর পর ৭০ মিলিয়ন ইউরোতে নাপোলি তাকে চুক্তিবদ্ধ করে। কিন্তু নাইজেরিয়া সফরে গিয়ে কোভিডে আক্রান্ত হবার পর মাথার ইনজুরিতে পড়ে ওসিমেনের নাপোলির হয়ে অভিষেক কিছুটা বিলম্ব হয়।ওই ইনজুরির পর থেকে ওসিমেন প্রতিরক্ষামূলক মাস্ক পড়ে খেলতে নামেন। কিছুদিন পরেই গণমাধ্যমে তাকে ‘‘মুখোশধারী ঘাতক” হিসেবে আখ্যা দেওয়া শুরু হয়।
ইনজুরির কারণে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত ২০২২ আফ্রিকান নেশন্স কাপ খেলা হয়নি ওসিমেনের। তিউনিসিয়ার কাছে হতাশাজনক হারে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় নাইজেরিয়া।
২০২৪ আফ্রিকান নেশন্স কাপের বাছাইপর্বে ওসিমেন সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন। আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে আইভরি কোস্টে মূল পর্ব শুরু হচ্ছে। বাছাইপর্বে সাও টোমে ই প্রিন্সিপকে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত করে রেকর্ড গড়েছে নাইজেরিয়া। ওই ম্যাচে ওসিমেন হ্যাট্রিকসহ চার গোল করেছেন।




