ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিরে দেখা ২০২৪

আলোচিত ফুটবলারদের অবসর

মাহফুজ মুকুল

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:২৮ পিএম
ছবি- এএফপি

প্রতি বছরই হাজার হাজার ফুটবল প্রেমিকদের হতাশ করে অবসরে যান প্রিয় খেলোয়াড়রা। ২০২৪ সালও তার ব্যতিক্রম নয়। এ বছরও বিশ্বের আলোচিত অনেক ফুটবলার অবসরে গিয়েছেন। কোনো ফুটবলার এ বছর শুধু জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন। আবার কিছু ফুটবলার আছেন যারা সকল প্রকার ফুটবল থেকে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছেন এই বছরেই। এমন কিছু তারকাকে নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ম্যানুয়েল নয়্যার

গোলপোস্ট আগলে ও বিশ্বসেরা হওয়া যায় সেটি ম্যানুয়েল নয়্যার ফুটবল জগতকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন খুব ভালোভাবেই। জার্মান গোলপোস্টের দেয়ালখ্যাত নয়্যারও জাতীয় দলকে গুডবাই জানিয়ে দিয়েছেন। এতে থামলো তার ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়। তিনি ২০১১ থেকে ২০২০ দশকের সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী নয়্যার গোলকিপার হিসেবে বিশ্বকাপ ও ইউরোতে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার।

থমাস মুলার

এ বছর দেশের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন আরেক জার্মান স্ট্রাইকার থমাস মুলার। ইউরো থেকে বিদায়ের পর অবসরের সুর ওঠে। সেই সুরই পরে সত্যি করে জার্মানি দলকে বিদায় জানালেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩১ ম্যাচ খেলা মুলারের নামের পাশে রয়েছে ৪৫টি গোল।

টনি ক্রুস

বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার বলা হয়ে থাকে টনি ক্রুসকে। গত ইউরোর পর সব ধরনের ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই মিডফিল্ডার। জাতীয় দল ও ক্লাব ফুটবলের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন ক্রুস। ছয়টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি সুপার কাপের পাশাপাশি জার্মানির হয়ে ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপও জিতেছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার।

এছাড়াও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও স্প্যানিশ লিগও জিতেছেন ক্রুস। জার্মানির জার্সিতে ১১৪ ম্যাচ খেলা ক্রুস গোল করেছেন ১৭টি। জার্মানির হয়ে বয়সভিত্তিক দলে ২৩টি গোল রয়েছে এই তারকার। রিয়ালের হয়ে ৪৬৫ ম্যাচ খেলা ক্রুস ২৮টি গোলের পাশাপাশি ৯৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা ২০৫ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ২৪টি। সহায়তা ৪৯ গোলে। লেভারকুসেনের হয়ে ৪৮ ম্যাচে ১০ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট রয়েছে ক্রুসের।

আনহেল ডি মারিয়া

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রাণভোমরা ছিলেন আনহেল ডি মারিয়া। তাকে ম্যান ইন ফাইনাল নামেও ডাকেন ভক্তরা। গত তিন বছরে আর্জেন্টিনা যে চারটি শিরোপা জিতেছে তার সব গুলোতেই খেলেছেন তিনি। তার একমাত্র গোলেই ব্রাজিলকে হারিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আলবেসেলেস্তেরা। এর মাধ্যমে কোপায় ২৮ বছরের শিরোপা খরাও ঘোচায় আর্জেন্টিনা।

পরের বছর ফিনালিসিমায়ও গোল করেন এই উইঙ্গার। আর্জেন্টিনা ৩৬ বছরের আরাধ্য বিশ্বকাপ জেতে ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে। সেই ম্যাচেও গোল করেছিলেন ডি মারিয়া। সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। তবে বেনফিকার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৪৫ বার মাঠে নেমেছেন আনহেল ডি মারিয়া। গোল করেছেন ৩১টি।

লুইস সুয়ারেজ

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে অবসর জানিয়েছেন উরুগুয়ের তারকা ‍লুইস সুয়ারেজও। বার্সেলোনার সাবেক তারকা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। তিনি উরুগুয়ে জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সুয়ারেজের গোল ৬৯টি। ম্যাচ খেলেছেন ১৪৩টি।

আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা

ইতিহাসের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন ধরা হয় স্প্যানিশ তারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। জাতীয় দলের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছেন ইনিয়েস্তা। তার গোলেই ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল স্পেন। সাবেক বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার জাপানিজ ক্লাব ভিসেল কোবেলের পর গত মৌসুমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব এমিরেটসে যোগ দিয়েছিলেন। সবাইকে স্তব্ধ করে অবসরের ঘোষণা দেন ৪০ বছর বয়সি এই তারকা। বার্সেলোনায় থাকাকালীন ইনিয়েস্তা লিগ শিরোপার পাশাপাশি, ক্লাব বিশ্বকাপ, স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সহ অনেক শিরোপা জিতেছেন।

ইলকায় গুন্দোয়ান

বর্তমান ফুটবলবিশ্বের অন্যতম আরকে সেরা মিডফিল্ডার জার্মানির ইলকায় গুন্দোয়ান। গত ১৯ আগস্ট তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন। এই জার্মান মিডফিল্ডার জাতীয় দলের জার্সিতে ৮২ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১৯টি।

অলিভিয়ের জিরুদ

ফ্রান্সের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ের জিরুদ। জাতীয় দলের হয়ে ৫৭ গোল করেছেন এই তারকা। কাতার বিশ্বকাপে ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। গত জুলাইয়ে ইউরো টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল থেকে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। এরপর নিজেও ফ্রান্স ফুটবলকে বিদায় জানান লস অ্যাঞ্জেলসে সদ্য যোগ দেয়া এই তারকা।

জেরদান শাকিরি

জুলাইয়ে শেষ হওয়া ইউরোর পর দেশের জার্সি ‍তুলে রেখেছেন সুইজারল্যান্ডের জেরদান শাকিরি। এতে ১২৫ ম্যাচেই থামে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। জাতীয় দলের জার্সিতে এই তারকার গোল রয়েছে ৩২টি। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে রয়েছে আরও চার গোল।

সুনীল ছেত্রী

ভারতীয় ফুটবলের পোস্টারবয় সুনীল ছেত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার ওপরে রয়েছেন ১৩২ গোল করা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ১০৯ গোল করা লিওনেল মেসি ও ইরানের আলী দাই। সুনীল ছেত্রী ভারতের জার্সিতে ১৫১ ম্যাচে গোল করেছেন ৯৪টি। গত জুনে তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলেছেন।

এডিনসন কাভানি

উরুগুয়ে ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা এডিনসন কাভানিও জাতীয় দলকে গুডবাই বলে দিয়েছেন। ক্ষিপ্র গতির এই স্ট্রাইকার যেকোনো দলের রক্ষণে কাঁপন ধরিয়ে দেয়ার জন্য যতেষ্ট ছিলেন। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকেই জাতীয় দলে উপেক্ষিত ছিলেন এই তারকা। সবশেষ কোপা আমেরিকাতেও জায়গা হয়নি উরুগুয়ে দলে। কে জানে হয়তো বুঝে গিয়েছেন জাতীয় দলে তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। তাইতো তিনিও বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন উরুগুয়ে দলকে। জাতীয় দলের জার্সিতে কাভানির গোলের সংখ্যা ৫৮টি।

রাফায়েল ভারানে

ফরাসি ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের অবসরটা অবাক করেছে ফুটবল ভক্তদের। মাত্র ৩১ বছর বয়সে ভারানের ইনজুরি তাকে অবসর নিতে বাধ্য করেছে। চলতি মৌসুমেই মাত্র ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি।

সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবলার ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে বেশকিছু শিরোপা জিতেছে। তার মধ্যে স্প্যানিশ লা লিগা, সুপার কাপ, এফএ কাপ অন্যতম। ফ্রান্সের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা এই ডিফেন্ডার ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছেন।

পেপে

পর্তুগালের ডিফেন্ডার পেপে’কে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারের একজন ধরা হয়। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার গত পাঁচ মৌসুম ধরে স্বদেশী ক্লাব পোর্তোতে খেলছিলেন। তবে মৌসুম শেষে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

২০০৭ থেকে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত পর্তুগালকে সার্ভিস দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডার। ক্লাব ফুটবলে অনেক শিরোপা জিতলেও, জাতীয় দলের হয়ে একটি করে নেশন্স লিগ এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন তিনি।

এ ছাড়া চলতি বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন স্পেনের ফুটবলার জেসুস নাভাস, ইংলিশ ডিফেন্ডার কিরান ট্রিপিয়ার, একই দলের ডিফেন্ডার হ্যারি মাগুইরে, বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার জন ভার্টোনহেন, সুইস গোলকিপার ইয়ন সমার, সার্বিয়ার অধিনায়ক দুসান তাদিচ, নেদার‌ল্যান্ডসের দালেই ব্লিইন্ড এবং ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মার্সেলো ব্রোজোভিচ।

আরটিভি/এমএম/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিপিএল ২০২৫ / নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে বিপিএলের ১১তম আসরে শুভসূচনা করেছে গ্লোবাল সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল রংপুর রাইডার্স। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও। সিলেটকে ৩৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ব্যাক টু ব্যাক জয় পেয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দলটি। চার উইকেট তুলে নিয়ে এই জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ রানা। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল রংপুর। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় রংপুর রাইডার্স। চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি সিলেট। ৩ বলে ২ রান করে দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জর্জি মানজি। তিনে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস বড় করতে পারেননি জাকির হাসানও। ১২ বলে ১৮ রান করে বোল্ড আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি পল স্ট্রালিংও। ৫ বলে ৬ রান করে এই আইরিশ ব্যাটার আউট হলে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারায় সিলেট। তবে জাকের আলীকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার রনি তালুকদার। দুজনের ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে সিলেট।  কিন্তু ১৫তম ওভারে রনি তালুকদারকে বোল্ড করেন খুশদিল শাহ। এর আগে ৩৬ বলে ৪১ রান করেন রনি। পরের বলে আরিফুল হককে ডাক আউট করে রংপুরকে খেলায় ফেরান খুশদিল শাহ। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করতে থাকেন জাকের আলী। তবে ১৬তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ২৪ রান করে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারকে ফিরিয়ে উল্লাস শুরু করে পেসার নাহিদ রান। এরপর তানজিম হাসান সাকিব (৩), নাহিদুজ্জামান (১) এবং শিনওয়ারি ৮ রান করে আউট হন। শেষ পর্যন্ত রিস টপলি ৫ রানে এবং আল আমিন ৩ রানে অপরাজিত থাকলেও নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২১ রান তুলতে পারে সিলেট। এতে ৩৪ রানের জয় পায় সোহান-মাহেদীরা। রংপুর রাইডার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেন নাহিদরা। এ ছাড়াও খুশদিল শাহ ও সাইফউদ্দিন দুটি করে উইকেট নেন। আর এক উইকেট নেন কামরুল হাসান। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল রংপুর। আরটিভি/এসআর/এআর  
নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ব্যাক টু ব্যাক জয় রংপুরের
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
জয় দিয়ে বছরটা রাঙিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বছরের শেষ ম্যাচে কষ্টার্জিত হলেও জয়ে ফিরল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বসুন্ধরা কিংস ফেডারেশন কাপ শুরু করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে জয় দিয়ে। মাঝখানে ফর্টিস এফসির কাছে হেরেছে। আজ কিংস অ্যারেনায় নিজেদের গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ঘরের মাঠে কিংস অ্যারেনায় জয়ে পেতে মরিয়া বসুন্ধরা ম্যাচের শুরুতেই গোলের দেখা পায়। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে তপু বর্মণের গোলে এগিয়ে গেলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি বসুন্ধরার উল্লাস। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই পুলিশ সমতা ফেরে আল আমিনের গোলে। তবে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের ১১তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ফেরেইরার গোলে আবারও এগিয়ে যায় কিংস। ২৫ মিনিটে গোলরক্ষক রাকিবুল তুষার ও সাগর মিয়ার ভুমিকায় পুলিশ গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায়। ৩৪ মিনিটে রাকিবকে আরেকবার হতাশ করেন গোলরক্ষক তুষার। প্রথমার্ধের খেলা ২–১ ব্যবধানে থেকে শেষ করে দুই দল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩–১ করেন কিংসের আরেক ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফার্নান্দেজ। ৫৪ মিনিটে পুলিশের আল আমিন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান ৩–২ করে খেলা জমিয়ে তুলেছিলেন। তবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে কিংসকে চোখ রাঙালেও শেষ পর্যন্ত দারুণ কিছু করতে পারেনি পুলিশ। এ ম্যাচে পুলিশ হারলেও চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা দলটির স্ট্রাইকার আল আমিনের ২টি গোলই নজর কেড়েছে। অষ্টম মিনিটে ঈসা ফয়সালের ক্রস থেকে আল আমিনের প্রথম গোলটি ছিল সুযোগের সন্ধানে থাকার ফল। প্রিমিয়ার লিগে ৬ গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা আল আমিনের দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। সৈয়দ কাজেমের ডিফেন্সচেরা থ্রু ধরে কিংসের গোলকিপার মেহেদী হাসানকে কাটাতে গিয়ে বাঁ পাশে সরে গেলেও বেশ কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বল জালে পাঠান আল আমিন।  কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে দিনের অন্য খেলায় জয় কুমারের জোড়া গোলে বড় জয় পেয়েছে ফর্টিস এফসি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে তারা হারিয়েছে ৩–০ গোলে।  আরটিভি/এমএম
পুলিশকে হারিয়ে জয়ে ফিরল কিংস
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে সিলেটকে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি রংপুর। ৭ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। ৭ বলে ৪ রান করে তাকে সঙ্গে দেন সাইফ হাসান। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আরেক ওপেনার স্টিভেন টেইলর। ১৫ বলে ১২ রান করেন তিনি। তবে ইফতেখার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে ২১ রান করে বাউন্ডারি লাইনে কাটা পড়েন এই পাক অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেপ ইফতেখারকে সঙ্গ দেন নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ব্যাটে ভর করে ১৬তম ওভারে ১০০ রানের কোটা পার করে রংপুর। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে সোহানকে সাজঘরে ফেরান আরিফুল ইসলাম। ২৪ বলে ৪১ রান করেন তিনি। এরপর পিচে এসে বলে বলে বাউন্ডারি মারতে থাকেন শেখ মাহেদী। শেষ দিকে মাহেদী ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও ইফতেখারের ২৪ বলের অপরাজিত ৪২ রানে ভর করে ১৫৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় রংপুর। সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে দুই উইকেট শিকার করেন আল আমিন হোসেন ও তানজিম সাকিব। এ ছাড়াও সাইমুল্লাহ শিনওয়ারি ও রিস টপলি এক করে উইকেট নেন। আরটিভি/এসআর/এআর  
সোহান ও ইফতেখারের ব্যাটে ভর করে সিলেটকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিলো রংপুর
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ১১তম আসরে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দেখা গিয়েছে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদকে। এই সময় ধারাভাষ্য কক্ষে বেশ কিছু সময় পার করেন তিনি।   মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনা টাইগার্স এবং চট্টগ্রাম কিংসের মধ্যকার ম্যাচের কিছু সময় ধারাভাষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ। এদিন ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ধারাভাষ্য কক্ষে প্রবেশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক। এরপর কিছুক্ষণ বাংলায় ধারাভাষ্য দেন তিনি। এসময় খুলনার ছুঁড়ে দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেট তাড়া করছিল চট্টগ্রাম। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করেন ফারুক। সেখানে ধারাভাষ্য করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ফারুককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বল-টু-বল ধারাভাষ্য করতে হয়নি। আমি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছি।’ আরটিভি/এমএম
বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেন বিসিবি সভাপতি
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচে চিটাগংকে ৩৭ রানে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। এই ম্যাচের দ্বিতীয় প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে এসে ১ বলে ১৫ রান খরচ করে রেকর্ড গড়েছেন ওশানে থমাস। তবে তার একটি নো বলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খুলনার কোচ তালহা জুবায়ের। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) খুলনার দেওয়া ২০৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন নাইম শেখ। তবে নো বল হওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন। আর নো বলের ভিডিওটা টিভিতে না দেখানোই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তালহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে খুলনার কোচ বলেন, প্রথম বলে দেখলাম উইকেট পড়েছে গেছে; তারপর দেখি যে নো বল। আমার ওই নো বল নিয়ে একটি সন্দেহ আছে। কারণ, আমি এটি রিপ্লেতে দেখতে পারিনি। এটা দেখানো উচিত ছিল। আমি এটি দেখতে চাইব। এক বলে ১৫ রান দেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এরকম আগে দেখিনি নো বল ওয়াইড আবার নো বল, ফ্রি হিট। আর হয়তো থমাসও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। আর এমনিতেই ওর নো বল দেওয়ার প্রবনতা রয়েছে। জাতীয় দলের হয়েও প্রায় নো বল করতে দেখা যায়। নো বল দেওয়ার জন্য থমাসের ফিটনেসকে দায়ী করেছেন তালহা। তার ভাষ্য, আসলে ওর যে ফিটনেস সেটা পেস বোলার হিসেবে ঠিক নেই। আর নিজের ফিটনেস এবং রানিং নিয়ে হয়তো এর আগে কোনো কাজ করেনি। তাই নো বল দেওয়ার প্রবনতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে ১ বলে ১৫ রান এটা নতুন। নাইম ইসলামের বিপক্ষে ওশান থমাস ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ লুফে নেন তিনি। আম্পায়ারের কলে সেটা ছিল নো বল। ফ্রি-হিটের পরের বলে ছিল ডট। সেটা ছিল লিগ্যাল ডেলিভারি। এরপরেই আসে ওশান থমাসের লিগ্যাল ডেলিভারির জন্য লম্বা সংগ্রাম। নো বলে ৬ রান হজম করেছেন। এরপর দুই ওয়াইড বল। পরের নো বলে হজম করেছেন ৪ রান। ততক্ষণে চলে এসেছে ১৪ রান। স্কোরবোর্ডে ১ বলের পাশে ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত বৈধ বল ওশান থমাস করেছেন। সেটায় ছিল ডট। তারপর ফের একটা নো-বল। সেই বলেও ক্যাচ হয়েছিলেন নাইম। দ্বিতীয়বার জীবন পান ওই এক ওভারেই। ফ্রি-হিটের পর অবশ্য নিজেকে আর বাঁচাতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। বোসিস্টোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। এর আগে এক বলে ১৩ রান নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের এই ওপেনার। অবশ্য সেবার ৭ রান তিনি পেয়েছিলেন নো-বল থেকে আর ১টা ছিল ছক্কার মার। এর আগে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) এর ম্যাচে ১ বলে ১৪ রান তুলেছিলেন ওশান থমাস। আরটিভি/ এসআর  
থমাসের নো বল নিয়ে সন্দেহ, আবারও দেখতে চান কোচ তালহা
আরও পড়ুন
শীর্ষে থেকেই বছর শেষ করল লিভারপুল 
টিভিতে আজকের খেলা 
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমীর বরখাস্তের আদেশ বাতিল
আমেরিকান প্রবাসী জায়ানের সঙ্গে যেসব কথা হলো বাফুফের