
লিভারপুলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপ। এক সময়ের ধুঁকতে থাকা ইংলিশ জায়ান্টকে নিজের ছোঁয়ায় বদলে দিয়েছিলেন তিনি। ক্লপের হাত ধরেই লিভারপুল আবারও ফিরে পেয়েছিল ইউরোপসেরা মর্যাদা, জিতেছিল প্রিমিয়ার লিগেরও কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেকোচ হিসেবে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার আগে ক্লপের সামনে ছিল আরেকটা বড় সুযোগ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রস্তাব!
২০১৫ সালের অক্টোবর, সদ্য বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কোচিং অধ্যায় শেষ করেছেন ক্লপ। নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে ছিলেন তখন। ঠিক সেই সময়ই তাকে কোচ হিসেবে প্রস্তাব দেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু ক্লপ অবাক করে দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ জানিয়েছেন। ক্লপ বলেন, ওরা আমাকে বলেছিল তুমি যাদের চাও, আমরা তাদের আনবো; এই খেলোয়াড়, ওই খেলোয়াড়! তখনই বুঝে গিয়েছিলাম, এটা আমার ধাঁচের প্রজেক্ট নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, আমি পল পগবাকে ফিরিয়ে আনতে চাইনি, রোনালদোকেও না। ওরা ভাবছিল, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের এক জায়গায় জড়ো করলেই সাফল্য আসবে। কিন্তু কেউ ফুটবল নিয়ে ভাবছিল না! আমি চেয়েছিলাম একটা বিশুদ্ধ প্রজেক্টযা পরে লিভারপুল আমায় দিয়েছিল।
২০১৫ সালে লিভারপুলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্লপ তৈরি করেন এক অপ্রতিরোধ্য দল। তার আট বছরের শাসনামলে অলরেডরা জিতেছে প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, এফএ কাপসহ মোট আটটি বড় শিরোপা।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে দীর্ঘ নয় বছরের অধ্যায় শেষ করেন তিনি। বিদায়ের সময় ক্লপ জানান, মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তিই ছিল পদত্যাগের প্রধান কারণ।
বর্তমানে তিনি রেড বুলের গ্লোবাল হেড অব সকার হিসেবে কাজ করছেন এবং পরিবারকে সময় দিচ্ছেন। যদিও তিনি এখনই কোচিংয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা করছেন না, ভবিষ্যতে আবার মাঠে ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
তবে এক কথা স্পষ্ট করেছেন ক্লপ, আমি আর কখনও কোনো ইংলিশ ক্লাবের কোচ হব না। লিভারপুলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এতটাই গভীর যে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো ক্লাবে যাওয়া অসম্ভব। তবে লিভারপুলে ফিরে আসা তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব নয়।
আরটিভি/এসকে




