
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০তম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই ম্যাচ মাঠে নামলেই দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন অঙ্কের টেস্ট খেলায় নাম লেখাবেন তিনি। দুই দশকের লম্বা যাত্রায় দেশের সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা ক্রিকেটারও মুশফিক।
এই অর্জনকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত পুরো ক্রিকেট অঙ্গন। সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেটাররা সকলের প্রশংসায় ভাসছেন সাবেক এই অধিনায়ক। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও ব্যতিক্রম নন। তার চোখে মুশফিকুর রহিম এখন নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেটের ‘কিংবদন্তি’।
আজ সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন,মুশফিক অবশ্যই একজন কিংবদন্তি। টেস্ট ক্রিকেটে তার মতো এতগুলো ডাবল সেঞ্চুরি খুব বেশি খেলোয়াড় করতে পারেনি। প্রায় ২০ বছর ধরে সে অবিশ্বাস্যভাবে পারফর্ম করে আসছে। দীর্ঘস্থায়িত্ব আর পারফরম্যান্স দুটিই তাকে কিংবদন্তি বানিয়েছে।
মুশফিকের সাফল্যের রহস্য নিয়ে সিমন্সের ব্যাখ্যা, তার (সাফল্যের) গোপন রহস্য হলো পেশাদারিত্ব। নিজেকে পরিচালনা করা, খেলার উন্নতিতে কাজ করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হওয়ার জন্য নিরলস চেষ্টা এসবই তাকে আজকের জায়গায় এনেছে। যারা ১০০ বা ১৫০ টেস্ট খেলেছে, তাদের সবার মধ্যেই ভালো করার প্রচেষ্টা ছিল, মুশফিকও সেই ধারারই একজন।
দলের জুনিয়র ক্রিকেটারদের জন্য মুশফিক আদর্শ এমনটাই মনে করেন কোচ সিমন্স। তিনি বলেন, মুশফিকের প্রতি সবার অগাধ সম্মান রয়েছে। খেলোয়াড়রা তার কথা শোনে, কারণ সে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে এবং তাদের দিকনির্দেশনা দেয়। বিশেষ করে ব্যাটিং নিয়ে তরুণরা নিয়মিতই তার সঙ্গে কথা বলে। তার কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে।
২০ বছরের আন্তর্জাতিক যাত্রা, ডাবল সেঞ্চুরির সংখ্যা, আত্মনিবেদন আর পেশাদারিত্ব সব মিলিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অনন্য এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়েছেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুরে আগামীকাল তার ১০০তম টেস্ট মাঠে নামা তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়।
আরটিভি/এসকে




