
২০২৩ ও ২০২৪ সালের পর বুড়ো হাড়ের ভেলকে দেখিয়ে ২০২৫ সালেও মাঠে দাপিয়ে দেখিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গত মৌসুমে আল নাসরের হয়ে ৪১ ম্যাচে করেছেন ৩৫ গোল করে জিতেছেন সৌদি প্রো লিগের গোল্ডেন বুট। তার নেতৃত্বেই পর্তুগাল নিশ্চিত করেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট ও জুনে জিতেছে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা।
চলতি মৌসুমেও প্রথম ১০ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন তিনি। যার ফলে এবারেও মধ্যপ্রাচ্যের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার জিতলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডের জমকালো অনুষ্ঠানে আল নাসরের পর্তুগিজ মহাতারকার হাতে তুলে দেওয়া হয় এই স্বীকৃতি। আল হিলালের সালেম আল দাওসারি, আল ইত্তিহাদের করিম বেনজেমা এবং আল আহলির রিয়াদ মাহরেজকে পেছনে ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের সেরার ট্রফি জিতলেন রোনালদো।
‘সিআর সেভেনের লক্ষ্য এখন জাদুকরী এক সংখ্যায় পৌঁছানো। গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডেও আসল ১ হাজার গোলের অসাধারণ মাইলফলকের আলোচনা। সবশেষ আল নাসরের হয়ে জোড়া গোল করার পর তার ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫৬।
তবে এই বয়সেও রোনালদো দারুণ ফিটনেস নিয়ে খেলে যাওয়ার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান গোল আর ট্রফি ক্ষুধার জন্যে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’র জয়ীর মুখ থেকেই শোনা গেল অনুপ্রেরণার উৎস।
তার ভাষ্য, খেলা চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়, কিন্তু আমার ভেতরের আবেগ এখনও আগের মতোই তীব্র। আমি এখনও খেলতে চাই, এখনও ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত। আমি কোথায় খেলছি—মধ্যপ্রাচ্যে হোক বা ইউরোপে—তা বড় কথা নয়। আমি ফুটবল খেলতে, ট্রফি জিততে আর গোল করতে ভালোবাসি।
পুরস্কারের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর ১ হাজার গোলের লক্ষ্য নিয়ে স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্ত দিয়ে রোনালদো বলেন, আমি থামতে চাই না। আপনারা জানেন আমার লক্ষ্য কী। আমি আরও ট্রফি জিততে চাই এবং সেই সংখ্যাটায় পৌঁছাতে চাই, যেটা সবাই জানে। ইনশাআল্লাহ, যদি কোনো চোট না আসে, আমি নিশ্চিতভাবেই সেই সংখ্যায় পৌঁছাব।
রোনালদোর মধ্যপ্রাচ্যের সেরা হওয়ার দিন ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার পর এবার গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসের পুরষ্কার উঠল ওসমান দেম্বেলের হাতে। এ ছাড়া মেয়েদের ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা আইতানা বোনমাতি।
সেরা ক্লাব পিএসজি, সেরা কোচ লুইস এনরিকে। ফরাসি ক্লাবটির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনিয়াকে দেওয়া হয় সেরা মিডফিল্ডারের পুরস্কার, আর সেরা উদীয়মান ফুটবলার দেসিরে দুয়ে। দু’টি পুরষ্কার উঠে বার্সার স্প্যানিশ তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাললের হাতেও।
ইয়ামালকে ‘বেস্ট ফরোয়ার্ড’ নির্বাচিত করা হয় এবং তাকে দেওয়া হয় ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোন অ্যাওয়ার্ড। বল পায়ে সর্বোচ্চ নৈপুণ্য ও প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে, প্রয়াত কিংবদন্তি মারাদোনার নামে এই পুরষ্কারের প্রচলন শুরু হয়।
আরটিভি/এসআর




