
মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা যে কতটা অসহায় দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে এসে তা হাড়ে হাড়ে টের পেলো আলবিসেলেস্তেরা। প্রথম প্রস্তুতিতে ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে আক্রমণভাগকে তেমন সংগঠিত মনে না হলেও জয় পেয়েছিল আর্জেন্টাইনরা। ম্যাচে খারাপ খেললে হারবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়!
হ্যাঁ, গতরাতে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে রিয়াল তারকা ইসকোর হ্যাটট্রিকে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। আর্জেন্টিনার হয়ে এদিন দলে ছিলেন না লিওনেল মেসি, অ্যাঞ্জেলো ডি মারিয়া ও সার্জিও আগুয়েরো। আগের ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ায় বাদ পড়েন ডি মারিয়া। মেসি ও আগুয়েরো প্রথম ম্যাচেও ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: আফগানদের হারিয়ে সিরিজ যুবাদের
--------------------------------------------------------
১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে প্রথমবার ১-৬ গোলে চেকোশ্লোভাকিয়ার কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। সেটাই ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম ৫ গোলের ব্যবধানে হারের ঘটনা। ৫১ বছর পর ২০০৯ সালে আবারও ফিরে আসে ১-৬। এবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলের ব্যবধানে হারায় পুঁচকে বলিভিয়া। এবারও সেই একই ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারালো স্পেন।
ইতিহাস বলে ৫ গোলের ব্যবধানে আরও দুবার পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল আলবিসেলেস্তারা। ১৯৫৯ সালে উরুগুয়ে ৫-০ গোলে হারায় আর্জেন্টনাকে। অপর হারটি আসে আর্জেন্টিনার মাটিতেই। ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টাইনদের তাদের মাটিতেই ০-৫ গোলের লজ্জার পরাজয় উপহার দেয় ল্যাটিন আমেরিকার আরেক দল কলম্বিয়া।
মঙ্গলবার রাতে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে ম্যাচের শুরু থেকে বেশই ছন্দহীন ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচে অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো মেসির আর্জেন্টিনা। মাক্সিমিলিয়ানো মেসার দারুণ ক্রস খুঁজে পায় হিগুয়েইনকে। কিন্তু জুভেন্টাসের স্ট্রাইকার খুব কাছ থেকেও বল পাঠান ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
উল্টো ১২তম মিনিটে গোল খেয়ে চাপে পড়ে যায় মেসির সতীর্থরা। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পায়ে লেগে বল পায় মার্কো অ্যাসেনসিও। পাশ পেয়ে তিনি বল পাঠান কস্তাকে। তারপর বাকিটা কাজ একাই সারেন দিয়েগো কস্তা। কস্তার গোল ঠেকাতে গিয়ে চোট পান সার্জিও রোমেরো। যার কারণে ২২তম মিনিটে তার বদলে মাঠে নামানো হয় চেলসি গোলরক্ষক উইলি কাবাইয়েরোকে।
২৫তম মিনিটে গোল শোধের দারুণ একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন সার্জিও রামোস। ইন্দেপেন্দিয়েন্তোর মিডফিল্ডার মেসা বল নিয়ে কিছুটা এগিয়ে বাড়ান লো সেলসোকে। পিএসজির মিডফিল্ডারের দারুণ পাসে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়ে যান মেসা। কিন্তু দারুণ স্লাইডে কর্নারের বিনিময়ে সে যাত্রায় দলকে বাঁচান রামোস।
২৭তম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি জর্দি আলবা। খুব কাছ থেকে বল ওপর দিয়ে পাঠান এই ডিফেন্ডার। খানিক পর অ্যাসেনসিওর নিচু ক্রস জালে পাঠান অরক্ষিত ইসকো।

২৯তম মিনিটে সুযোগ পেয়ে ব্যবধান কমান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ওতামেন্দি। কর্নার থেকে লাফিয়ে দারুণ এক শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড।
২-১ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। বিরতি থেকে ফিরে স্পেনের রক্ষণে প্রবল চাপ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। তবে এই অর্ধের প্রথম সত্যিকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ায় স্পেন। আসপাসের পাস থেকে বল পেয়ে ৫১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসকো।
তিন গোলে থাকা স্পেন তাদের তৃতীয় গোলের তিন মিনিট পর রিয়াল তারকা আলকান্তারাকে দিয়ে করান নিজেদের চতুর্থ গোল। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে অতিথিদের তালগোল পাকানোর সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড।

৬৭তম মিনিটে ফ্রি-কিকে ওতামেন্দির হেড পোস্টে লেগে ব্যর্থ হলে ব্যবধান কমেনি। ৭৩তম মিনিটে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান আসপাস। দুই মিনিট পর নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ইসকো। স্পেন তখন ৬-১ গোলে এগিয়ে।
লজ্জাজনক এ হারের পরে সাম্পাওলি অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন তার সামনে অপেক্ষা করছে কতটা চ্যালেঞ্জ। তবে আর্জেন্টিনার এ কোচের এখন আশা একটাই। মেসি ফিরবেন এবং ফেরাবেন আত্মবিশ্বাস।
আরও পড়ুন:
এএ/পি




