ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতিহাসের দুর্ভাগা ৫ ফুটবলার

কুশল ইয়াসির

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:২০ পিএম

আগামী ১৪ জুন মস্কোর লুজিনিকি স্টেডিয়ামে সৌদি আরব বনাম স্বাগতিক রাশিয়ার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর আসর বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮। এটি বিশ্বকাপের ২১তম আসর হবে। এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ৩২টি দল খেলবে, যেখানে রাশিয়া স্বাগতিক দল হিসেবে এবং বাকি ৩১টি দল বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে খেলবে।

১১টি শহরের ১২টি স্টেডিয়ামে সর্বমোট ৬৪টি খেলা সম্পন্ন হবে। ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামেই এই আসরের ফাইনাল হবে।

১৯৩০ সাল থেকে শুরুর পর ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ওই দুইবার বন্ধ ছিল এই মহাআসর। এ যাত্রায় ফুটবলপ্রেমীরা দেখেছেন অনেক বড় বড় তারকাকে। শৈল্পিক নৈপুণ্য দেখিয়ে ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছেন তারা। কেউ গোল করে কেউ গোল করিয়ে পৌঁছেছেন সর্বোচ্চ শিখরে। তবে বিশ্ব ফুটবলে এমন বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি আছেন যারা বিশ্বখ্যাত তারকা হয়েও খেলতে পারেননি বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে।

রায়ান গিগস (ওয়েলস)

সময়ের সেরাদের সেরা হয়েও এ বিশ্বকাপে কখনই অংশ নিতে পারেননি রায়ান গিগস। ওয়েলেসের সাবেক এই ফরোয়ার্ড কয়েকদিন আগেই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের খাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। ১৩ বার প্রিমিয়ার লিগ, দুই বার ইউরোপ সেরা ও ৪ বার এফএ কাপ ট্রফি জয় করেছেন।

১৯৮৭ সালে রেডডেভিলসদের হয়ে জুনিয়র লেভেলে খেলতে এসে আর ফিরে যাননি। তিন বছর পর সিনিয়র লেভেল শুরু করার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্যারিয়ারে মোট ১১৪টি গোল করেন।

এখানেই শেষ নয় ওল্ডট্রাফোডেই শুরু হয় কোচিং ক্যারিয়ার। টানা দুই বছর অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার পর সম্প্রতি যোগ দেন নিজ দেশ ওয়েলসে।

অন্যদিকে মাতৃভূমির হয়ে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ৬৪টি ম্যাচে মোট ১২টি গোল করেন গিগস। দীর্ঘদিন পালন করেছেন অধিনায়কের দায়িত্বও। তবে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তার ক্যারিয়ারে দল কখনো বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোর মূল আসরে পৌঁছাতে পারেনি।

এরিক কান্তোনা (ফ্রান্স)

চার চারটি প্রিমিয়ার লিগ ও দুটি এফএ কাপের শিরোপা জিতেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নির্ভরযোগ্য এরিক কান্তোনা। ইংলিশ দলটির হয়ে প্রায় পাঁচ বছরে নিজের সেরাটা দিয়ে পেয়েছেন ‘কিং কান্তোনা’ বিশেষণ। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই ফ্রেঞ্চ তারকা ১৪৩ ম্যাচে মোট গোল করেছেন ৬৪টি।

৯০ এর দশকে মাঠে জার্সির কলার উঁচু করে নামতেন এই ফরোয়ার্ড। ৭ নম্বর জার্সিতে মাতিয়েছেন ওল্ডট্রাফোর্ডের মঞ্চ। ১৯৯৫ সালে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে থাকা দর্শককে কুংফু কিক মেরে শিরোনাম হয়েছিলেন ম্যানইউ তারকা। আর সে কারণে শ্রীঘরেও যেতে হয়েছিল তাকে।

১৯৮৭ সালে জাতীয় দলে যোগ দিয়ে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মোট ৪৫ ম্যাচে ২০ গোল করেন কান্তোনা। অভিষেক হবার পরের বছর দল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন। টেলিভিশনের পর্দায় তৎকালীন কোচ হেনরি মিশেলকে গালি দিয়ে সবার নজরে প্রথমবারের মতো আসেন এই ফরোয়ার্ড।

যদিও ১৯৯০ সালে মিশেল ফ্রান্সকে মূল পর্বে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। চার বছর পর নতুন কোচ জেরাড হউলিয়ারের অধীনেও বাছাই পর্ব পার করতে পারেনি ইউরোপের দলটি।

এতে তৎকালীন ইউরোপের অন্যতম এই সেরা তারকাকে কখনই বিশ্বকাপে দেখতে পাওয়া যায়নি। তার জায়গায় দলের প্লে-মেকারের ভূমিকায় নেমে ১৯৯৮ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে নায়ক হয়ে যান তরুণ তারকা জিনেদিন জিদান।

জর্জ ওয়েহা (লাইবেরিয়া)

১৯৯৪-৯৫ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১৯৯৫ সালের ফিফ প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার এবং ব্যালন ডি’অর জিতে নেন। আর এই কারণে আফ্রিকার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নেন। ইংল্যান্ড, ইতালি ও ফ্রান্সে ঘরোয়া লিগের পরিচিত মুখ জর্জ ওয়েহা কখনোই বিশ্বকাপের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারেননি।

মোনাকো, প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), এসি মিলান, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলগুলোতে গোলের বন্যা ভাসিয়েছেন। আর তাই তাকে ‘কিং জর্জ’ বলে ডাকা হতো।

ফুটবলের মাঠের রাজা ১৯৮৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত লাইবেরিয়ার জয়ে ৬০ ম্যাচে ২২ গোল করেন। ২০০৭ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার পর পুরো দমে দেশ সেবায় নেমে পড়েন।

২০১৭ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ফিফার সর্বকালের সেরা ১০০ খেলোয়াড়ের লিস্টে থাকা এই স্ট্রাইকার।

জর্জ বেস্ট (নর্দান আয়ারল্যান্ড)

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা আরেক তারকা ফুটবলার বিশ্ব সেরার লড়াইয়ের খুব কাছে গিয়েও বাছাই পর্বে থামতে হয়েছে। ষাটের দশকে জর্জ বেস্ট দেখিয়েছেন দুই পায়ের ফুটবলের জাদু। স্পিড, স্কিল ও ব্যালেন্সের জন্য নামের মতো তার কাজ ছিল।

১৯৬৪-৬৫ ও ১৯৬৬-৭ পর পর দুই বার নর্দান আয়ারল্যান্ডের এই তারকার হাত ধরে দুটি ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা ঘরে তোলে ইংলিশ ক্লাবটি। ১৯৬৮ সালে দলকে ইউরোপিয়ান কাপও উপহার দেন এই ফরোয়ার্ড। সে বছর ইউরোপিয়ান সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্টাইলিশ এই তারকা।

১৯৬৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হবার পর ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত মোট ৯টি গোল দেন।

১৯৬৬, ১৯৭০ ও ১৯৭৪ সালে ব্যর্থ হন বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে। তবে ১৯৮২ সালে সুযোগ পায় দল। সেসময় ৩৬ বছর বয়সী বেস্টকে ফেরাতে আগ্রহ দেখায়নি দল। এমনিতেও মদের প্রতি আসক্তি থাকার কারণে বেশ কয়েকবার শিরোনাম হতে হয় বেস্টকে।

আল ফ্রেডো ডি স্টেফানো (আর্জেন্টিনা ও স্পেন)

স্বপ্ন ভঙ্গের আরেকটি ইতিহাস। তিনি তো দুই দেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। শুধু তাই নয় দুই দলের হয়ে গোল করেছেন। তবে গ্রেটেস্ট ‘শো অন আর্থে’ দেখা যায়নি এই কিংবদন্তিকে। মজার বিষয় হচ্ছে এই ফুটবলার কলম্বিয়া একাদশের হয়েও মাঠ মাতিয়েছিলেন যদিও সেগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচের তকমা পায়নি।

১৯৪৭ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয় স্টেফানোর। ১৯৫০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পাড়ি জমানোর সুযোগ ছিল এই আর্জেন্টাইনের কাছে। সেবার দল মূল আসর খেলতে রাজি হয়নি। আর তাই সৌভাগ্য হয়নি ২৪ বছরের তরুণের। পরেরবার একই অবস্থা হয়। ১৯৫৪ সালেও আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বকাপ খেলতে অপরাগতা জানায়।

দুই বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলতে ডাক আসে। পাড়ি জমান স্পেনে। ১৯৫৭ সালে লা লিগার ক্লাবটির হয়ে খেলার সময় স্পেনের নাগরিক হবার সূত্রে জাতীয় দলে সুযোগ হয় তার। অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে দলকে ৫-১ গোলের বড় জয় এনে দেন।

যদিও পরের বছর বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব উতরাতে পারেনি স্প্যানিশরা। তবে দমে যাননি স্টেফানো। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে মোট পাঁচটি ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নেন। ১৯৬২ বিশ্বকাপে স্পেন জাতীয় দলকে নিয়ে যান বিশ্বসেরাদের চূড়ান্ত মঞ্চে। তবে শেষ মুহূর্তে ইনজুরির কারণে আর দলের সঙ্গে ব্রাজিল বিশ্বকাপে যেতে পারেননি। সেখানেই আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিদায় নেন এই তারকা।

আর্জেন্টিনার হয়ে ৬ ম্যাচে ৬ গোল ও স্পেনের হয়ে ৩১ ম্যাচে মোট ২৩ গোল করেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত রিয়ালের হয়ে খেলেছেন। মোট ২৮২ ম্যাচে ২১৬টি গোল করে দলটির সর্বকালের সেরা ফুটবলার বনে যান। পরের দুবছর স্প্যানিওলের হয়ে খেলেও আরও ১১টি গোল করেন।

ব্লন্ড অ্যারো খ্যাত এই ফুটবলারকে অনেকেই বিশ্বে সবচেয়ে ‘দুর্ভাগা’ ফুটবলারও বলে থাকেন।

ওয়াই/পি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
মেয়ে সন্তানের বাবা হয়েছেন ভারতের ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। সুখবর পেয়েই অস্ট্রেলিয়া থেকে স্ত্রী রীতিকার কাছে চলে গেছেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইনের অন্যতম ভরসা। গেল ২১ ডিসেম্বর ছিল রোহিতের স্ত্রীয়ের জন্মদিন। অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকায় বিশেষ দিনটি পাশে না পারার জন্য রীতিকার কাছে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান রোহিত। তবে বাবা হবার খবর পেয়েই ভারত ছুটে গেলেন রোহিত।  দেশে ফেরার কারণে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ও শেষ টেস্টে মাঠে নামা হচ্ছে না হিট ম্যান খ্যাত এই তারকার।   আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ম্যাচটি। চার ম্যাচের সিরিজের ফল এখন ২ -১। এগিয়ে থাকা ভারত এই সিরিজটি নিজেদের করে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। অন্যদিকে সিরিজ বাঁচাতে জেতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই অস্ট্রেলিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে থাকা হচ্ছে না রোহিতের। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোহিত ভারতীয় টিমের সঙ্গে  যোগ দেবেন নতুন বছরের ৮ জানুয়ারি।  টেস্ট সিরিজ শেষে তখন ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেবে বিরাট বাহিনী। দুই দলের মধ্যে ১২, ১৫ এবং ১৮ তারিখ তিনটি একদিনের ম্যাচ রয়েছে।  সেই সময় উপস্থিত থাকবেন অভিজ্ঞ রোহিত। চলতি সিরিজে প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন রোহিত। চোটের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে দলের বাইরে ছিলেন ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ওয়াই
সুসংবাদ শুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে উড়ে স্ত্রীর পাশে রোহিত
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
বছরের শেষ টেস্টটিও খেলা হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া-ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কার টেস্টগুলো একই দিনে (২৬ ডিসেম্বর) শুরু হওয়ায় এই তিনটি টেস্টই ২০১৮ সালের শেষ টেস্ট। এবার পালা বছরের সেরাদের সামনে নিয়ে আসার। বছরজুড়ে কারা কারা ক্রিকেট বিশ্বে ছড়ি ঘুরিয়েছে তাদের নিয়ে একাদশ তৈরি করছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বর্ষসেরা টেস্ট একাদশ করল ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টসকিড়া’। জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটের সেরা টেস্ট একাদশে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পুরো বছরেই বারবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তাইজুল। চলতি বছরে ৪৩ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ রফিকের সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেটের রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬ উইকেটের পাশাপাশি ৪ বার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন এই বামহাতি এই অর্থোডক্স।   বছরজুড়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারদের মধ্যে তিনি রয়েছে ৮ নম্বরে এবং স্পিনারদের মধ্যে যা তৃতীয়। আর বামহাতি স্পিনারদের মধ্যে রয়েছে প্রথমে।  তাই বর্ষসেরা টেস্ট দলে স্পিনার কোটায় তাইজুলকে বাছাই করতে দ্বিধায় ভুগতে হয়নি স্পোর্টসকিড়ার। ১৭ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে অবদান রাখায় সেরাদের দলে জায়গা তাইজুলের জায়গা হয়েছে বলে উল্লেখ করে ওয়েবসাইটটি। এই দলের অধিনায়ক করা হয়েছে বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান ও ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। এই দলে রয়েছেন জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, ও জেসন হোল্ডারের মতো আরও তিন জাতীয় দলের অধিনায়ক।  ওপেনারের দায়িত্ব পালন করবেন দুই শ্রীলঙ্কান দিমুথ কারুনারত্নে ও কুশল মেন্ডিস। তিন নম্বর পজিশনের জন্য দলে নেয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুটকে। কোহলি ও নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে রাখা হয়েছে মিডল অর্ডার সামলানোর জন্য।  উইকেটের পিছনে রাখায় হয়েছে বছরজুড়ে ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক জস বাটলারকে। বোলিং অলরাউন্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে।  তাইজুলের সঙ্গে স্পিন বিভাগ সামলাবেন অস্ট্রেলিয়ান নাথান লায়ন। পেস বোলিংটা দেখবেন দক্ষিণ আফ্রিকান কাগিসো রাবাদা ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস।  স্পোর্টসকিড়ার বছরের সেরা টেস্ট একাদশ দিমুথ কারুনারত্নে (শ্রীলঙ্কা), কুশল মেন্ডিস (শ্রীলঙ্কা), জো রুট (ইংল্যান্ড), বিরাট কোহলি (অধিনায়ক, ভারত), কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড), জস বাটলার (ইংল্যান্ড), জেসন হোল্ডার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), নাথান লায়ন (অস্ট্রেলিয়া), তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ), কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা), মোহাম্মদ আব্বাস (পাকিস্তান)। এস/ওয়াই
বিরাটের অধিনায়কত্বে বর্ষসেরা টেস্ট দলে তাইজুল
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
দীর্ঘদিন ধরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ ও দলের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে হোসে মোরিনহোর বিরোধের খবর চাউর ছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারের পর ছাটাই হতে হয় মোরিনহোকে। পর্তুগালের হেভিওয়েট এই কোচের বদলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ওলে গানার সোলসকায়েরকে নিয়োগ দেয়া হয়। দলটির সাবেক এই ফুটবলার দায়িত্বগ্রহণের পরপরই চিত্র পাল্টে যায়। নরওয়ের জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের অধীনে রোববার রাতের ম্যাচে বড় জয় নিয়ে বছরটা শেষ করল রেড ডেভিলসরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ৪-১ এ জয় পেয়েছে ইউনাইটেড। বড় এই জয়ের পর ম্যানচেস্টার ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা এক প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, ‘ওলে গানার সোলসকায়ের অধীনে স্বরূপে ফিরছে আসল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড’। ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত মোরিনহোকে বিদায় জানানোর পর প্রিমিয়ার লিগের শেষ তিন ম্যাচে ১২টি গোল করেছে ম্যানচেস্টারের ঐতিহ্যবাহী দলটি। ২২ ডিসেম্বর কার্ডিফকে ৫-১ গোলের উড়িয়ে দেয় ম্যানইউ। পরের ম্যাচে হাডার্সফিল্ড টাউনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পায় সোলসকায়েরের শিষ্যরা।  ওলে গানার সোলসকায়েরের সঙ্গে পল পগবা। দলের সঙ্গে গেল দুই ম্যাচে উজ্জ্বল পল পগবাও। হাডার্সফিল্ডের বিপক্ষে গেল বুধবার দুটি গোল করার পর বছরের শেষ ম্যাচেও বোর্নমাউথের জালে দুই বার বল জড়িয়েছেন ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী এই মিডফিল্ডার। এই নিয়ে চলতি মৌসুমে ১৭ ম্যাচে সাতটি গোল করলেন ২৫ বছর বয়সী পগবা। লিগ টেবিলে ২০ ম্যাচে ১০ জয় নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পাঁচ ড্র ও পাঁচ হারে বর্তমান পয়েন্ট ৩৫। সমান সংখ্যক ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছে লিভারপুল। এস/ওয়াই 
মোরিনহোর বিদায়ে স্বরূপে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরজুড়ে যেমন দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দল তেমনি সমান তালে সাফল্য অর্জন করেছে নারী ক্রিকেট দলও। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সাফল্যটাও এসেছে নারীদের হাত ধরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ট্রফি ঘরে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি এনে দিয়েছে এবছরে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে।  ছয় বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ফাইনালে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সালমা-রুমানারা। এবার সেই সাফল্যের রেশ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সেরা একাদশে জায়গা করে নিলেন টাইগ্রেস ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ।  লাল-সবুজদের হয়ে অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করলেও লেগ স্পিনার হিসেবে সুযোগ মিলেছে সেরাদের এই দলে।  সোমবার আইসিসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বর্ষসেরা নারী টি-টোয়েন্টি একাদশ।  ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউরকে করা হয়েছে এই দলের অধিনায়ক। ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আরও দুই ক্রিকেটার। তবে সবচেয়ে বেশি চার নারী অজি ক্রিকেটার রয়েছে এই দলে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুজন ও ইংল্যান্ডের হয়ে একজন রয়েছেন বর্ষসেরার এই টি-টোয়েন্টি একাদশে।   বাংলাদেশের হয়ে মোট ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৬৬৩ রানের পাশাপাশি ৫২ উইকেট নিয়েছেন রুমানা। আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি একাদশ স্মৃতি মানদানা (ভারত), অ্যালিসা হেইলি (অস্ট্রেলিয়া), সুজি বেটস (নিউজিল্যান্ড), হারমানপ্রীত কাউর (ভারত), নাটালি স্কাইভার (ইংল্যান্ড), এলিসা পেরি (অস্ট্রেলিয়া), অ্যাশলেগ গ্রাডনার (অস্ট্রেলিয়া), লেইগ ক্যাসপেরেক (নিউজিল্যান্ড), মেগান স্কুট (অস্ট্রেলিয়া), রুমানা আহামেদ (বাংলাদেশ), পুনম পান্ডে (ভারত)।    এস/ওয়াই
আইসিসির সেরা একাদশে বাংলাদেশের রুমানা
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
শেষ হলো ২০১৮ সালের সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্য দিয়ে বছরের ওয়ানডের সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। এখন বিশ্বজুড়ে চলছে বছরের দলগত ও ব্যক্তিগত পারফর্মেন্সের কাটছেরা। ক্রিকেট ভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে বছরের সেরা একাদশ গুলো। তবে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটল ক্রিক ট্র্যাকার। এবার ক্রিকেট সংক্রান্ত জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইট প্রকাশ করল বছরের ‘ফ্লপ’ ওয়ানডে একাদশ। বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর যে এই একাদশে নেই কোনও টাইগার ক্রিকেটার। সেরা একাদশের মতো ফ্লপ একাদশেও আধিপত্য ছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। মহেন্দ্র সিং ধোনির নের্তৃত্বে এই দলে আরও রয়েছে আরও দুই ভারতীয় হার্দিক পান্ডিয়া ও ভুবেনশ্বর কুমার। ফ্লপ দলটির ওপেনিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো ও ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান এভিন লুইসকে। মুনরো বছরজুড়ে ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১৯.৫৩ গড়ে করেছেন মোটে ২৫৪ রান। এদিকে অপর ওপেনার লুইস বেশিরভাগ সিরিজে ওয়ানডে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করলেও সারাবছরে ১০টি ম্যাচ খেলে ২৭.৪০ গড় নিয়ে করেছেন মাত্র ২৭৪ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক প্রতিনিধি হিসেবে তিন নাম্বার পজিশনে জায়গা পেয়েছেন মারলন সামুয়েলস। বছরের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষেও ফ্লপ ছিলেন এই জ্যামাইকান। ২০১৮ সালে ১৫টি ওয়ানডে খেলে করেছেন ৩৬৫ রান। এরপরই জায়গা হয়েছে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ধোনির। যার ২০ ওয়ানডেতে ২৫.০০ গড়ে সংগ্রহ ২৭৫ রান। তাই ‘আস্থা’ রেখেই এই দলের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। মিডল অর্ডার সামলাবেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের নেতৃত্ব দেয়া রোভম্যান পাওয়েল। চলতি বছরে ১৭টি ওয়ানডে খেলে ২৬.৬৪ গড়ে তার ঝুড়িতে রয়েছে ৩৭৩ রান। দলের অলরাউন্ডারের ভূমিকায় থাকবেন হার্দিক পান্ডিয়া। ইনজুরির কারণে বছরের সব ম্যাচ খেলতে না পারলেও ১০ ম্যাচে মাত্র ১৩.৬০ গড়ে ৬৮ রান তুলেছেন ভারতের এই উদীয়মান ক্রিকেটার। স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে থাকছেন মঈন আলী। ২৪ ওয়ানডে খেলে ১৭.৩১ গড়ে ২৭৭ রান সংগ্রহ করেছেন এই ইংলিশম্যান। চতুর্থ ক্যারিবিয়ান হিসেবে থাকছেন লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশু। ১০ ম্যাচ খেলে যার উইকেট রয়েছে ৬টি। পেস বোলিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন ভুবেনশ্বর কুমার। ১৪ ম্যাচে ১১ উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। দলের বাকি দুই পেস বোলার হচ্ছেন ইংল্যান্ডের মার্ক উড ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির। উড ১৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিতে পারলেও পাকিস্তানের বোলিংয়ের সেরা অস্ত্র আমির ১০ ম্যাচে নিয়েছেন মোটে ৩ উইকেট।   ক্রিক ট্র্যাকারের ২০১৮ সালের ফ্লপ একাদশ    কলিন মুনরো (নিউজিল্যান্ড), এভিন লুইস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মারলন সামুয়েলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), এমএস ধোনি (ভারত), রোভম্যান পাওয়েল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত), মঈন আলী (ইংল্যান্ড), দেবেন্দ্র বিশু (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ভুবেনশ্বর কুমার (ভারত), মার্ক উড (ইংল্যান্ড), মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান)।   এস/ওয়াই 
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
আরও পড়ুন
অবসরে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়
পাভার্ডের রকেট গোল বিশ্বকাপের সেরা
জেলেই কাটাতে হচ্ছে পুসি রায়ট সদস্যদের
ফিফার বিশ্বকাপ দলে নেই মেসি-রোনালদো