ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

যে কারণে মুখ ঢেকে কথা বললেও লাল কার্ড দেখেননি কুকুরেলা

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলা।ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের ম্যাচে এক পর্যায়ে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা যায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলাকে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে শেষ পর্যন্ত কুকুরেলার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি ম্যাচ কর্মকর্তারা।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, মেসি রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুকুরেলার দিকে ইঙ্গিত করছেন। তার অভিযোগ ছিল, স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার মুখ ঢেকে কথা বলছেন, যা নতুন নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হতে পারে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি নতুন নির্দেশনা চালু করেছে ফিফা। এর পেছনে রয়েছে গত মৌসুমে বেনফিকার তরুণ ফুটবলার জানলুকা প্রেস্তিয়ানির বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ। ওই ঘটনায় প্রেস্তিয়ানি মুখ ঢেকে কথা বলায় কী বলা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরপর থেকেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

চলতি বিশ্বকাপেই এই নিয়মে শাস্তি পেয়েছেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন ও ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনক্যাপি। দুজনই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার দায়ে লাল কার্ড দেখেন।

তবে ফিফার নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধু মুখে হাত দিয়ে কথা বলাই অপরাধ নয়। কোনো সংঘর্ষ, তর্ক-বিতর্ক বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষ, রেফারি বা অন্য কারও সঙ্গে কথা বললে সেটি অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারেন।

ফাইনালের ঘটনাটি ম্যাচ কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করেন। সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কুকুরেলা মেসির দিকে এগিয়ে গিয়ে কথা বলার সময় অল্প সময়ের জন্য মুখ স্পর্শ করেছিলেন। তবে ভিডিওতে এমন কোনো আচরণ দেখা যায়নি, যা শত্রুভাবাপন্ন, অপমানজনক বা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ কারণে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে কুকুরেলার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ম্যাচ কর্মকর্তারা তাকে 'বেনিফিট অব দ্য ডাউট' বা সন্দেহের সুবিধা দেন।

আরও পড়ুন

ফলে মুখ ঢেকে কথা বলার অভিযোগ উঠলেও লাল কার্ড এড়ান স্পেনের এই ডিফেন্ডার। ফিফার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, মুখ ঢেকে কথা বলার চেয়ে সেটি কোন পরিস্থিতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সেটিই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেষ উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ে পাকিস্তানকে জয় উপহার দিলো শাদাব খান
অসম্ভবকে সম্ভব করে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। খাদের কিনারা থেকে দলের দায়িত্ব নিয়ে শাদাব খানের প্রথম সেঞ্চুরি এবং শেষ উইকেটে হারিস রউফের সঙ্গে অবিশ্বাস্য এক জুটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। একই সঙ্গে সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই দুই ব্যাটার।  রোববার (১৪ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। স্কোরবোর্ডে ১৫৪ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় দলটি। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল ৮৮ রান। তবে শেষ উইকেটে হাল ধরে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেন শাদাব খান ও হারিস রউফ। এই দুজন অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি গড়ে ৪৭.১ ওভারেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। চলতি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় জয়। ৯৬ বলে ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ১১৩ রানের দুর্দান্ত এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন শাদাব খান। অন্যদিকে, শেষ ব্যাটার হিসেবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন হারিস রউফ। সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে এটিই ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জুটির নতুন বিশ্বরেকর্ড। শাদাব ও হারিস পেছনে ফেলেছেন ১৯৭৫ বিশ্বকাপে গড়া ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির রেকর্ড। সেবার বার্মিংহামে পাকিস্তানের বিপক্ষেই এই কীর্তি গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই রেকর্ড নিজেদের করে নিলেন শাদাব ও হারিস। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বেন ডাকেটের সেঞ্চুরিতে (১০৫ রান) ২৪১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত শাদাব-হারিসের রূপকথার ইনিংসে ভর করে লাহোরে পাকিস্তানের এই জয় ক্রিকেট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে রইল। আরটিভি/এসআর
শেষ উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ে পাকিস্তানকে জয় উপহার দিলো শাদাব খান
ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল বরিশালে
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ডি-থ্রি ট্রফি। তিন সংস্করণের এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে ফাইনালসহ প্লে-অফের সব ম্যাচ হবে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে।  রোববার (২৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩১ ডিসেম্বর। তবে ফাইনালের জন্য ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিকে রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে হিসেবে। ৬টি দল নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল খেলবে প্লে-অফে। প্রতিযোগিতার কাঠামো হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আদলে। পয়েন্ট তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দল খেলবে এলিমিনেটর। প্রথম কোয়ালিফায়ারে জয়ী দল সরাসরি ফাইনালে উঠবে। পরাজিত দলটির সামনে অবশ্য আরেকটি সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এলিমিনেটরের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা। এই ম্যাচের বিজয়ী দল পাবে ফাইনালের টিকিট। বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের পাশাপাশি মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও হবে গ্রুপ পর্বের সাতটি ম্যাচ। ডি-থ্রি ট্রফিতে থাকছে তিনটি সংস্করণ। টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার পর জানুয়ারিতে হবে চার দিনের টুর্নামেন্ট। এরপর মে মাসে মাঠে গড়াবে ৫০ ওভারের আসর। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় নিলাম হবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে। নিলামের শীর্ষ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদা বলের অধিনায়ক লিটন দাসসহ ২২ জন ক্রিকেটার। সব মিলিয়ে নিলামে উঠবেন ২৬৩ জন খেলোয়াড়। আরটিভি/এসআর
ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল বরিশালে
বিনামূল্যে যেভাবে দেখবেন এল ক্লাসিকোর লড়াই
ক্লাব ফুটবলের জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এল ক্লাসিকো। যেখানে নিজেদের সম্মান ও আধিপত্যের জন্য লড়াই করে থাকে দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচটি দেখতে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলভক্ত অপেক্ষা করে থাকেন। এবার তাদের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ক্যাম্প ন্যুতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়। প্রথম ৯ ম্যাচের সব কয়টিতে জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। অন্যদিকে দুটি ম্যাচে হেরে পিছিয়ে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচটির আগে দুই দলের ব্যবধান ছয় পয়েন্ট। যেখাবে দেখবেন খেলা বাংলাদেশ থেকে দর্শকরা রাত ৯:১৫ মিনিটে ম্যাচটি সরাসরি বিগিন অ্যাপের মাধ্যমে উপভোগ করতে পারবেন। অন্যান্য অনলাইন উপায়: yalla1shoot ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক-ইউটিউবে সার্চ অপশনে ‘Real Madrid vs Barcelona live match today’ লিখে খোঁজ করলে কিছু চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার দেখা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক অনলাইন স্ট্রিমিং বিকল্পসমূহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনার এই এল ক্লাসিকোটি স্ট্রিম করা হবে। স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোর মধ্যে রয়েছে: FawaNews, Tabii, ScoreBat.com, SportyTv, SonyLIV app, 1xBet, Score808.com, DAZN Canada, Optus Sport, Sling TV, RaiPlay, Yeacin Tv। বিশেষ টিপস: আপনার ভৌগোলিক অবস্থান থেকে ম্যাচটি দেখা না গেলে, VPN (Virtual Virtual Private Network) ব্যবহার করে আপনি বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলো অ্যাক্সেস করতে পারবেন। আরটিভি/এসআর আরটিভি/ এসআর
বিনামূল্যে যেভাবে দেখবেন এল ক্লাসিকোর লড়াই
লিড নিয়েও পর্তুগালের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। গতকাল ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর আজ পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। রোববার (২৪ অক্টোবর) পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় মিনিটেই বায়েজিদের গোলে এগিয়ে যায় দল। তবে সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা। পরে তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় পর্তুগাল। এবারই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ের ফুটবল ফেস্টিভ্যালকে বৈশ্বিক আয়োজনে রূপ দিয়েছে ফিফা। এতে ১৯১টি দেশ ৩২টি গ্রুপে অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচ হচ্ছে এইট-এ-সাইড পদ্ধতিতে, যেখানে দুই অর্ধে ২০ মিনিট করে মোট ৪০ মিনিট খেলা হয়। এই আসরের জন্য দল গঠনে আগে থেকেই কাজ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ২০২৪ সালের শেষদিকে শুরু হওয়া অ-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রতিভাবান ফুটবলার খোঁজা হয়। সেখান থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। পরে ওপেন ট্রায়ালের মাধ্যমে চূড়ান্ত দল গঠন করা হয়। সব মিলিয়ে দুই মাসের কিছু বেশি সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে আজারবাইজানে খেলতে গেছে বাংলাদেশের কিশোররা। অভিজ্ঞতা ও ফুটবলের মানে ওয়েলস-পর্তুগাল বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তাদের বিপক্ষে ড্র এবং লিড নিয়ে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক। পরের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের খোঁজে নামবে বাংলাদেশ। আরটিভি/এসআর
লিড নিয়েও পর্তুগালের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
এল ক্লাসিকো / রিয়ালের প্রতিশোধ নাকি বার্সেলোনার আধিপত্য
চ্যাম্পিয়নস লিগে আধিপত্য ধরে রাখলেও লা লিগায় বার্সেলোনার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এসবের মাঝেই মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে আজ রাতে বার্সেলোনার মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফুটবলের অন্যতম মহাযুদ্ধ দেখতে মরিয়া হয়ে আছে কোটি কোটি ভক্তরা। লা লিগায় রীতিমতো উড়ছে বার্সেলোনা। ৯ ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়ের দেখা পেয়েছে তারা। ফলে এই ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে কাতালানরা। সেই সঙ্গে গত মৌসুমে রিয়ালকে ৫ বার হারানোর অভিজ্ঞতা বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে ইয়ামাল-রাফিনিয়াদের। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্প্যানিশ লা লিগার দশম রাউন্ডের ম্যাচটি হবে বার্সেলোনার মাঠ স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়। এই ম্যাচে জয় পেতে আত্মবিশ্বাসী দুই কোচ হান্সি ফ্লিক ও হোসে মরিনহো। সংবাদ সম্মেলনে জার্মান কোচ বলেন, এল ক্লাসিকো একেবারেই আলাদা। আমাদের খেলায় এটি সেরা ম্যাচগুলোর একটি। সবাই এই ম্যাচ দেখে। এটি অসাধারণ। আমরা অবশ্যই তিন পয়েন্টের জন্য খেলছি, কিন্তু ম্যাচটির গুরুত্ব তার চেয়েও বেশি। এই লড়াইয়ের অংশ হতে পেরে আমি খুশি। আমরা প্রস্তুত এবং নিজেদের দলের ওপর আমাদের প্রবল আস্থা আছে।  বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে লিগে তাদের দুর্দান্ত সূচনা। প্রথম ৯ ম্যাচের সব কয়টিতে জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। অন্যদিকে দুটি ম্যাচে হেরে পিছিয়ে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচটির আগে দুই দলের ব্যবধান ছয় পয়েন্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর বার্সেলোনার জন্য ম্যাচটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বার্সেলোনার ঐ পরাজয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে চান না রিয়াল কোচ হোসে মরিনিও।  সংবাদ সম্মেলনে মরিনিওর বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস, সমালোচনার জবাব এবং কৌশল গোপন রাখার প্রবণতা। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ ভালো খেললে প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তবে অন্যরা বার্সেলোনাকে নিয়ে কী বলছে, তা তাকে বিচলিত করে না। নিজের দলকে এখনো পূর্ণতা পাওয়া একটি দল হিসেবে দেখছেন না মরিনিও। তার মতে, ফুটবলে একটি দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলা কঠিন। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের লড়াইয়ের শিকড় আজকের ফুটবলে নয়। দুই দলের প্রথম মুখোমুখি দেখা ১৯০২ সালের ১৩ মে। মাদ্রিদের লা কাস্তেয়ানা হিপোড্রোমে কোপা দে লা করোনাসিওন প্রতিযোগিতায় সেই ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। ‘এল ক্লাসিকো’ শব্দটির অর্থ স্প্যানিশ ভাষায় 'দ্য ক্লাসিক' বা ধ্রুপদি দ্বৈরথ। ষাটের দশকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়।  বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পেছনে রয়েছে স্পেনের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব। বার্সেলোনা কাতালান পরিচয় ও আঞ্চলিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদকে ঘিরে স্প্যানিশ জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের আলোচনা দীর্ঘদিনের। পরিসংখ্যানেও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় সমানে সমান। প্রতিযোগিতামূলক এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ দুই দলই জিতেছে ১০৬টি করে ম্যাচ। ড্র হয়েছে ৫২টি। শুধু লা লিগার মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব ধরলে এগিয়ে রয়েছে রিয়াল। এই প্রতিযোগিতায় তাদের জয় ৮০টি, বার্সেলোনার ৭৭টি। ড্র হয়েছে ৩৫টি ম্যাচে। আরটিভি/ এসআর
রিয়ালের প্রতিশোধ নাকি বার্সেলোনার আধিপত্য
আরও পড়ুন
ওয়েলসকে রুখে বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের
নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের দায়িত্ব পেল যুক্তরাষ্ট্র
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ খেলতে বাকুতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ
দিবালা-মার্তিনেজসহ চোটে আর্জেন্টিনার ৫ অভিজ্ঞ তারকা