
ড্রাগ লর্ডস আর ফার্ক বিদ্রোহী অধ্যুষিত একটি হতদরিদ্র দেশ, যেখানে শুধু সেমসাইড গোল করার দোষে জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়কে গুলি করে মারা হয়। সেই কলম্বিয়া যেন ফুটবল নয়, তার জাতীয় সত্তাকে খুঁজে পায় ২০১৪ বিশ্বকাপে।
ফুটবল-পাগল কলম্বিয়াতেই এটা সম্ভব৷ কতোটা পাগল? ইউগভ ডট কম নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার হয়ে একটি জরিপ করে৷ সেই জরিপ অনুযায়ী কলম্বিয়ার মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ ফুটবলে আগ্রহী নন; যেমন মেক্সিকোর ৮ শতাংশ এবং আর্জেন্টিনার ১০ শতাংশ মানুষ ফুটবলে আগ্রহী নন কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ মানুষই ফুটবল – থুড়ি, ‘সকার' সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন৷
কলম্বিয়া জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী ফুটবল দল। কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক এ দলটি পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। কনমেবল অঞ্চলের অন্যতম সদস্য কলম্বিয়া বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১৬তম।

কলম্বিয়া তাদের ফুটবল ইতিহাসে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা সৃষ্টি করেছে। সাবেক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় মার্কোস কল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র অলিম্পিক গোল করে কীর্তিগাঁথা রচনা করেন। ১৯৬২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়ন দলের বিপক্ষে তিনি এ গোলটি করেন, যাতে সোভিয়েত দল ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও খেলাটি ৪-৪ ড্র হয়। সে সময় সোভিয়েত দলে লেভ ইয়াসিনের মতো সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের একজন এ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : টাইমের প্রভাবশালীর তালিকায় কোহলি
--------------------------------------------------------
১৯৯০-এর দশকে কলম্বিয়া ফিফা বিশ্বকাপে তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছিল। ১৯৯৩ সালে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা ৫-০ গোলের বিরাট ব্যবধানে জয় পায়। ১৯৯৫ সালে ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোলরক্ষক রেনে হিগুইতা তার স্করপিয়ন কিকের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের আক্রমণ ব্যর্থ করেছিলেন। এরপর ২০০৪ সালে ৬ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষেও ৫-০ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে। এরপর একই ব্যবধানে তারা ২০০৫ সালের ৪ জুন পেরু ও ২০১৩ সালের ২২ মার্চ বলিভিয়ার বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। তবে তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের তকমা লাগিয়ে দেয় ব্রাজিল। ১৯৫৭ সালের ২৪ মার্চ ব্রাজিলের বিপক্ষে কলম্বিয়া ৯-০ গোলের বিরাট ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে।

২০০১ সালের কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতায় অস্কার করদোবা প্রথম ও একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে কোন গোল হজম করেননি। কলম্বিয়ার অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়ের মধ্যে ছিলেন কার্লোস ভালদেরামা ও ফস্তিনো অ্যাস্প্রিলা। এ সময়কালে কলম্বিয়া দল ১৯৯০, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।
১৯৯০ বিশ্বকাপে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছালেও ৯৪ ও ৯৮ বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ স্টেজ থেকে বাদ পড়ে যায়। তারপর ২০০২ থেকে ২০১০ পর্যন্ত তারা আর কোয়ালিফাই করতে পারেনি। তবে তাদের সেরা সাফল্য আশে ২০১৪ বিশ্বকাপে। এ বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়। কিন্তু স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরে এখানেই তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
২০১৪ বিশ্বকাপে পরিচ্ছন্ন ফুটবল খেলায় কলম্বিয়া ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। তাদের দলের তরুণ প্রতিভা হামেস রদ্রিগেজ টুর্নামেন্টে ৬ গোল করে টপ স্কোরারে ট্রফি লাভ করেন।

|
ডাকনাম
|
:
|
লস ক্যাফেটেরোস
|
|
অ্যাসোসিয়েশন
|
:
|
ফেডারেশন কলম্বিয়ানা দ্য ফুটবল
|
|
কনফেডারেশন
|
:
|
কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা)
|
|
হেড কোচ
|
:
|
জোসে প্যাকারম্যান
|
|
অধিনায়ক
|
:
|
রাদাম্যাল ফ্যালকাও
|
|
সর্বাধিক ম্যাচ
|
:
|
কার্লোস ভালদেরামা (১১১)
|
|
সর্বাধিক গোলদাতা
|
:
|
রাদাম্যাল ফ্যালকাও (২৯)
|
|
হোম ভেন্যু
|
:
|
এস্তাদিও মেত্রোপলিটানো রবাতো মেলেন্দেজ
|
|
বর্তমান র্যাংকিং
|
:
|
১৬
|
|
সেরা সাফল্য
|
:
|
কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৪ বিশ্বকাপ
|
|
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ
|
:
|
১৯৬২, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০১৪, ২০১৮
|
|
সেরা খেলোয়াড়
|
:
|
রাদাম্যাল ফ্যালকাও
|
আরও পড়ুন :
এএ/পি




