বিশ্ব ফুটবলে ‘ভোজিনহা’ নামেই পরিচিত কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জোসিমার এভোরা দিয়াস। তবে নতুন ক্লাব চিলির ঐতিহ্যবাহী কোলো কোলোর জার্সিতে তিনি পরিচিত সেই নামটি ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ, চিলিয়ান ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের জার্সিতে ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহারের অনুমতি নেই।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চিলিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএনএফপির নিয়ম অনুযায়ী, জার্সির পেছনে খেলোয়াড়কে অবশ্যই নিজের বাবার বা মায়ের পারিবারিক নাম ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে মূল নামের প্রথম অক্ষর যোগ করা যেতে পারে, তবে ডাকনাম বা পরিচিত ছদ্মনাম ব্যবহার করা যাবে না।
ফলে কোলো কোলোর হয়ে খেলতে গেলে ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে নিজের পারিবারিক নাম থেকেই একটি বেছে নিতে হবে। অর্থাৎ, তার জার্সিতে ‘এভোরা’ অথবা ‘দিয়াস’এই দুই নামের যেকোনো একটি থাকবে। অবশ্য এএনএফপি বিশেষ অনুমতি দিলে ব্যতিক্রম হতে পারে।
‘ভোজিনহা’ নামটির পেছনেও রয়েছে আবেগঘন একটি গল্প। পর্তুগিজ ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘দাদি’ বা ‘নানি’। ছোটবেলায় তিনি নানি মারিয়া সেনহোরিনহা ও নানা মানুয়েল দা লুজের কাছেই বড় হয়েছেন।
শৈশবে নিজের চেয়ে বয়সে বড় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন ভোজিনহা। খেলতে গিয়ে ফাউল বা চোট পেলে তিনি রেগে যেতেন। তখন সঙ্গীরা মজা করে বলত, তিনি বুঝি নানির কাছে নালিশ করতে দৌড়ে যাবেন। সেই ঠাট্টা থেকেই তার নাম হয়ে যায় ‘ভোজিনহা’, যা পরবর্তীতে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারেও তার স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়।
এদিকে তার আসল নাম ‘জোসিমার’ রাখার পেছনেও রয়েছে ফুটবলের ছোঁয়া। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফুল-ব্যাক জোসিমারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন ভোজিনহার বাবা জিল পেদ্রো, যিনি সে সময় কেপ ভার্দের সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। প্রিয় ফুটবলারের স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই সদ্যোজাত ছেলের নাম রাখা হয় ‘জোসিমার’।
আরটিভি/এসকে



