
লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের বাইরেও নানা ক্ষেত্রে তাদের তুলনা চলে। এবার নিলামে ওঠা দুই কিংবদন্তির বিশেষ জার্সির দামেও দেখা গেল বড় ব্যবধান। রোনালদোর একটি জার্সির চেয়ে মেসির জার্সি বিক্রি হয়েছে প্রায় ছয়গুণ বেশি দামে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক মাসিউর রড থর্নলির ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ফুটবল স্মারকগুলোর নিলামে বিক্রি হয়েছে দুই তারকার জার্সি। বার্সেলোনায় খেলার সময় মেসির পরা একটি জার্সি বিক্রি হয়েছে ৬৬ হাজার ১০৭ মার্কিন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময়কার রোনালদোর একটি জার্সি বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৬০১ মার্কিন ডলারে, যা প্রায় ১২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
তবে দুই জার্সির দামের এত বড় পার্থক্যের পেছনে রয়েছে মেসির জার্সিটির বিশেষ ইতিহাস ও বিরলত্ব।
২০১২ সালে বার্সেলোনার ওল্ড ট্র্যাফোর্ড সফরের আগে রড থর্নলি মেসির জার্সি পাওয়ার জন্য জেরার্ড পিকের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেছিলেন। ম্যাচের দুই দিন আগে পিকেকে বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি তার কাছে কিছু চাইছেন এবং সেই ম্যাচের মেসির জার্সিটিই তার প্রয়োজন।
ম্যাচ শেষে থর্নলির সেই অনুরোধ রাখেন পিকে। গোলশূন্য ড্রয়ের পর তিনি তাকে বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। তখনও মেসির গায়ে ছিল জার্সিটি। পরে মেসি সেটি খুলে তাতে স্বাক্ষর করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে থর্নলির হাতে তুলে দেন।
মূলত এই জার্সিটি ম্যাচে পরা ছিল, মেসির নিজের স্বাক্ষর ছিল এবং সেটি সংগ্রহের পেছনে ছিল একটি বিশেষ গল্প। পাশাপাশি ফুটবলের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বার্সেলোনা এবং দুই কিংবদন্তির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মারক হওয়ায় সংগ্রাহকদের কাছে এর মূল্যও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, রোনালদোর জার্সিটি ছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের একটি ম্যাচের জন্য ইস্যু করা জার্সি। এতে থর্নলির উদ্দেশে রোনালদোর ব্যক্তিগত বার্তা থাকলেও সেটি মেসির জার্সির মতো সরাসরি ম্যাচে পরা ছিল না।
আর সেখানেই মূল পার্থক্য। ম্যাচে ব্যবহৃত, তারকার স্বাক্ষরযুক্ত এবং বিশেষ গল্প জড়িয়ে থাকা মেসির জার্সিটি তাই নিলামে রোনালদোর জার্সির চেয়ে প্রায় ছয়গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
আরটিভি/এসকে




