
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার আঁতোয়ান গ্রিজম্যান। চলতি মৌসুমের মাঝামাঝি থেকেই গ্রিজম্যানের বার্সায় যোগ দেয়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনালের পরপরই সকলে মনে করেছিলেন তিনি বার্সায় যোগ দেয়ার বিষয়টি ঘোষণা করবেন। কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট কোন ঘোষণার জন্য বিশ্বকাপ শুরুর আগ পর্যন্ত সময় নিয়ে রাখেন।
সুয়ারেজ তো আগেই বার্সায় তাকে স্বাগত জানিয়ে রেখেছিলেন। স্বয়ং মেসি নিজেও মনভরে চাইছিলেন বার্সার জার্সিতে একসঙ্গে মাঠ মাতাবেন। তাকে দলে নেয়ার জন্য বার্সা বস পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন গত মৌসুম থেকে। নেইমার বার্সা ছেড়ে যাওয়ার পর তার জায়গায় একজন পারফ্যাক্ট লোককে নিতে চাইছে বার্সা। আর বার্সা মনে করেছিল গ্রিজম্যান সে জায়গার জন্য যোগ্য।
অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন গ্রিজম্যান নিজেই। ফরাসি এই ফরোয়ার্ড শেষ পর্যন্ত জানালেন তিনি অ্যাথলেটিকোতেই থাকছেন। রীতিমতো ঘটা করেই নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার স্প্যানিশ একটি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে ওয়ান্ডা মেত্রোপলিটানোতে থেকে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। ২০১৪ সালে রিয়াল সোসিয়েদাদ ছেড়ে তিনি অ্যাথলেটিকোতে যোগ দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার গ্রিজমান বলেন, আমি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অ্যাথলেটিকোর উন্নতির জন্য তারা সবকিছু করছে, যাতে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলতে পারে; আশা করি নিজেদের মাঠেই (২০১৯ সালে)।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গ্রিজম্যান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক টুইটে লিখেন, আমার ভক্তরা, আমার দল এবং আমার বাড়ি, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
মাদ্রিদের ক্লাবটির হয়ে ইতিহাসে নাম লেখাতে চেয়ে তিনি আরো বলেন, অ্যাথলেটিকোর হয়ে কিছু করার আছে বলে মনে করছি। যদি, তারা ভালো খেলোয়াড় কেনে, তাহলে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারি এবং ক্লাবের ইতিহাসে ঠাঁই পেতে পারি। এখানে আমি ইতিহাস লিখতে পারি কিন্তু বার্সেলোনায়, আমি শুধু আরো একজন বেশি হতাম।
অ্যাথলেটিকোয় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা তিনি অনেক ভেবেচিন্তেই নিয়েছেন বলেও জানালেন গ্রিজম্যান, ‘সিদ্ধান্তটা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে নিয়েছি। যেমনটা রিয়াল সোসিয়েদাদে নিয়েছিলাম বা এখানে আসার সময় নিয়েছিলাম। এ নিয়ে আমি আক্ষেপ করব না।
এদিকে গ্রিজম্যানের এ সিদ্ধান্ত নেয়াও নাকি সহজ হয়নি। এমনটিই মনে করছেন স্পেনের স্কাই স্পোর্টসের ফুটবল এক্সপার্ট গুলেম বালাগে। তিনি বলেন, সে এটার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার এ কথাগুলো সে এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছে। সে ঘোষণা দেয়ার আগেও আধ ঘণ্টা ভেবেছে ‘আমি থাকবো না যাবো’। সেখানে এতো জটিলতা ছিল না কিন্তু এটা এমন কিছু যার জন্য সবাই অপেক্ষা করছিল।’
এএ




