
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি। ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মা। এবার অবশ্য ফিফটির দেখা পাননি। তবে ২৯ বলে ৪৮ রানের আগ্রাসী ইনিংসে এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই ভারতীয় ওপেনার।
জাপানের নিশিনে এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছে ভারত। এশিয়ান গেমস তো বটেই, নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও নেই। ফলে স্বর্ণপদক জিততে শ্রীলঙ্কাকে গড়তে হবে নতুন ইতিহাস।
ভারতের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা ও রিচা ঘোষ। তিনজনই ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন লঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন শেফালি ও মান্ধানা। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১০ ওভারে দুজন যোগ করেন ৯৯ রান। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম উদ্বোধনী জুটি হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তারা।
ফাইনাল শেষে শেফালি-মান্ধানা জুটির মোট রান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইশা ওঝা ও তীর্থ সতীশ জুটি তাদের সংগ্রহ ২ হাজার ৯৪৯ রান। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিসা হিলি ও বেথ মুনির জুটি করেছে ২ হাজার ৭২০ রান।
দশম ওভারে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আউট হন শেফালি। তার আগেই ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৯ বলে করেন ৪৮ রান। এই ইনিংসই তাকে এনে দেয় চলতি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড।
২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত শেফালির সংগ্রহ ৮৬৩ রান। এ সময়ে ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার করেছেন সাতটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্টকে। চলতি বছর উলভার্টের সংগ্রহ ৮২৪ রান।
এ তালিকায় এরপর রয়েছেন হংকংয়ের নাতাশা মাইলস, যার ২০২৬ সালে রান ৮০০। চলতি বছরের আগে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইশা ওঝার দখলে। ২০২৫ সালে তিনি করেছিলেন ৭৭৯ রান। একই সংখ্যক রান করেছেন ২০২৬ সালে হংকংয়ের ইয়াসমিন দাসওয়ানিও।
শেফালি ফেরার পরও ভারতের রানের গতি কমতে দেননি মান্ধানা। ৫টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪৫ বলে ৭৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার এই ইনিংসের মাঝেই ইতিহাসের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মান্ধানা।
শেষ দিকে ভারতের ইনিংসে ঝড় তোলেন রিচা ঘোষ। ভারতি ফুলমালির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ১৯ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন উইকেটকিপার-ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন রিচা।
তাদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে ৩ উইকেটে ২১৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে ভারত। এখন এই লক্ষ্য পেরিয়ে স্বর্ণপদক জিততে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে নারী টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে অন্যতম কঠিন রানতাড়াগুলোর একটি।
আরটিভি/এসকে




