
জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় বলার রাত এমনিতেই লিওনেল মেসির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকার কথা। সেই স্মরণীয় রাতেই আরও একটি বিশেষ স্মৃতি যোগ করল মেসির শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ বেনিন।
আফ্রিকার দেশটি নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক একটি ভাস্কর্যের ক্ষুদ্র সংস্করণ উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হাতে। তবে সেই উপহার আসলে মেসির জন্য নয়, তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর জন্য।
বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে টসের সময় মেসির সঙ্গে দেখা হয় বেনিন অধিনায়ক সেসি দ’আলমেইদার। সেখানেই মেসির হাতে একে একে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ কয়েকটি উপহার।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই উপহারগুলোর মধ্যে ছোট ভাস্কর্যের পাশাপাশি ছিল গোলাপ, বেনিনের পেন্যান্ট এবং দলটির খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে লেখা একটি চিঠি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল ভাস্কর্যটি। সেটি বেনিনের কোটোনু শহরে থাকা বিখ্যাত ‘আমাজন মনুমেন্ট’ এর ক্ষুদ্র প্রতিরূপ। দাহোমে রাজ্যের নারী যোদ্ধাদের স্মরণে তৈরি হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।
উপহারটি দেওয়ার সময় স্প্যানিশে মেসিকে এর অর্থও বোঝানোর চেষ্টা করেন দ’আলমেইদা। তিনি জানান, এটি আন্তোনেলার জন্য এবং তাদের দেশে এটি নারীর শক্তির প্রতীক। মেসিও মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনেন এবং হাসিমুখে উপহার গ্রহণ করেন।
বেনিনের কাছে ভাস্কর্যটির গুরুত্বও কম নয়। দেশটির সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কোটোনুতে স্থাপিত মূল ভাস্কর্যটি ৩০ মিটার উঁচু এবং ওজন প্রায় ১৫০ টন। ২০২২ সালে উদ্বোধন করা স্মৃতিস্তম্ভটি দাহোমে রাজ্যের ‘আগোজিয়ে’ বা ‘মিনন’ নামে পরিচিত নারী যোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত। সাহস, দৃঢ়তা ও দেশরক্ষায় তাদের ভূমিকার কারণে এই যোদ্ধাদের বেনিনের জাতীয় গৌরবের অংশ হিসেবে দেখা হয়।
মেসিকে এমন কিছু দেওয়ার পরিকল্পনা আগেই করেছিল বেনিন দল। ম্যাচের আগে দ’আলমেইদা জানিয়েছিলেন, নিজেদের কাছে অত্যন্ত প্রতীকী এই আমাজন ভাস্কর্যের একটি প্রতিরূপ তারা সঙ্গে করে এনেছেন।
এরপর মাঠে বিদায়ের রাতটাও নিজের মতো করেই শেষ করেন মেসি। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের দুই গোলে সহায়তা করার পর পেনাল্টি থেকে নিজেও গোল করেন। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি।
আরটিভি/এসআর




