
দিনাজপুরের বিরামপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সঠিক বিচার চেয়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন প্রসূতির পরিবার। পরে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ডাক্তারের দাবি তিনি সঠিক নিয়মেই সিজার করেছেন।
এদিকে অপারেশনের বিষয়ে রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে খবর সংগ্রহ করতে গেলে মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ বিরামপুর উপজেলার মুকন্দপুর ইউনিয়নের মতিয়ার রহমানের মেয়ে মাইমুন্না আক্তার মীমকে সিজারের জন্য নিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. তাহেরা খাতুনের মাধ্যমে সিজার করেন। সিজারের দুই সপ্তাহ পরে প্রসূতি মাইমুন্না আক্তার মীমের পেট ব্যথা ও যোনিপথে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একপর্যায়ে প্রসূতির পরিবার একই হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রোকছানা পারভীন মনির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, রোগীর পেটের ভেতরে ময়লা রয়েছে।
পরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হলে প্রসূতিকে চলতি মাসের ১ তারিখে তার পরিবার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে এসে অপারেশন করা ডাক্তারকে ফোন করলে তিনি ‘আসছি আসছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন এবং মোবাইলে রোগীকে রক্ত দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তিনি হাসপাতালে আসেননি। একপর্যায়ে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।
সেখানকার ডাক্তাররা পরীক্ষা শেষে আবারও অপারেশন করেন এবং অপারেশন শেষে রোগীর পেট থেকে মেডিকেল কাপড় বের করেন। পরে সুবিচার চেয়ে প্রসূতির বাবা বাদী হয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তাহেরা খাতুন জানান, তিনি নিজেই খুব ভালোভাবেই অপারেশন করেছেন। তার নামে যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে যা শাস্তি তাকে দেওয়া হবে তিনি মেনে নেবেন।
বিরামপুর রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের হিসাব রক্ষক মাহাবুব হোসেন বলেন, গত ৬ মার্চ তাদের ক্লিনিকে সিজারিয়ান এক রোগী আসেন। সিজারের ৪ দিন পর রোগীকে রিলিস দেন। রিলিস দেওয়ার সাত দিন পর রোগী সেলাই কাটতে আসেন। সেলাই কাটার পর রোগী সুস্থ ছিল। তখন পরিবারের কোনো অভিযোগ ছিল না। পরে ১ এপ্রিল রোগীর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে তারা আবার আসেন। তবে রক্তক্ষরণ কি কারণে হয়েছে তিনি বলতে পারেন না। রোগীকে তারা রিসিভ করার পর সিজার করা ডাক্তার তাহেরা খাতুনকে ফোন দেন। কিন্তু তিনি দিনাজপুর সদরে মিটিংয়ে থাকার কারণে সময়মতো আসতে পারেননি। পরে তাদের নিজস্ব গাড়িতে করে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
এদিকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রসুল রাখি বলেন, প্রসূতির সিজারিয়ান ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন দিনাজপুর সিভিল সার্জন। খুব দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।




