
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের আয় দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলারে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সমন্বিত হিসাব অনুযায়ী মুনাফাও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এবার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য দুই লাখ কোটি ডলারের বেশি মূল্যায়ন পাওয়া।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব তথ্য জানায় অ্যানথ্রোপিক। বৈঠকে উপস্থিত দুজনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে অ্যানথ্রোপিকের আয় ছিল ৪৭০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬০ কোটি ডলারে। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় আরও বেড়ে ১৬৮০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তৃতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত হিসাব অনুযায়ী তারা মুনাফা করেছে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরি ও পরিচালনায় বিপুল ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে আয়ের এই প্রবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে। অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কৃষ্ণ রাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারে যাত্রা প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইয়ের আগে হতে পারে। এর মাধ্যমে বিপুল ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অ্যানথ্রোপিকের শেয়ারবাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিল রয়টার্স।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত আয় বৃদ্ধি ও মুনাফার পথে অগ্রগতিতে আশাবাদী বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তার ওপর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বৈঠকে আলোচনা করেননি বলে এক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন।
গত মাসে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতিমূলক নথিতে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানবজাতির জন্য বিপর্যয়কর বা অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
বৈঠকে অ্যানথ্রোপিকের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ব্যবসার কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। এর মধ্যে নিজস্ব নকশায় বিশেষ চিপ তৈরির কাজও রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজনকে ‘থিংকিং’ লেখা টুপিও দেওয়া হয়।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ অ্যানথ্রোপিকের বার্ষিক আয় ১১ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা কয়েকজন বিশ্লেষক।
গত বছর অ্যানথ্রোপিকের আয় প্রায় ১২ গুণ বেড়ে ৪৬০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে একই সময়ে দায়-দেনার মূল্যায়নসংক্রান্ত কিছু হিসাব বাদ দিয়েও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন লোকসান ছিল ৮০০ কোটি ডলারের বেশি। গত মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
এছাড়া আগামী ১০ বছরে মেঘভিত্তিক সেবা, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও অবকাঠামো খাতে অন্তত ৫১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওপেনএআইয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠিত অ্যানথ্রোপিক ক্লড নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলোর জন্য পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা একই সঙ্গে অ্যানথ্রোপিকের বিনিয়োগকারী, কম্পিউটিং সেবাদাতা ও বিতরণ সহযোগী; আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীও।
অ্যানথ্রোপিক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর থেকে নিজেদের আলাদা করার চেষ্টা করছে। তবে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি তৈরি ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটিও সক্রিয়।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষামূলক পরিবেশে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিছু ব্যবস্থা উদ্বেগজনক আচরণ করেছে। এর মধ্যে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করা ও সফটওয়্যারের সংকেতলিপি নষ্ট করার মতো ঘটনাও রয়েছে। তবে বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ ধরনের অসংগত আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রোপিক।
এদিকে, শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরি ও পরিচালনায় চিপ, তথ্যকেন্দ্র এবং কম্পিউটিং সক্ষমতার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করায় এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজরদারি বাড়ছে। ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি মূল্যায়ন পেতে অ্যানথ্রোপিককে তাই প্রমাণ করতে হবে, তাদের দ্রুত আয় বৃদ্ধির গতি একসময় প্রযুক্তি তৈরি ও পরিচালনার বিপুল ব্যয়কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/জেএমএ



