
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ক্লডের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নিট লোকসান করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে আসেনি এমন আর্থিক নথির ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনটির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির লোকসান বেড়েছে। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে অ্যানথ্রপিকের লোকসান ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। প্রাথমিক বিবরণপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের লোকসান বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসাবসংক্রান্ত ব্যয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের জন্য অ্যানথ্রপিক যেসব রূপান্তরযোগ্য ঋণপত্র ও অন্যান্য আর্থিক উপকরণ ইস্যু করেছিল, সেগুলোর মূল্য পরিবর্তনের কারণে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারের হিসাবসংক্রান্ত ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয়ই বড় অঙ্কের লোকসানের প্রধান কারণ।
এদিকে আগামী কয়েক বছরে কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ৭৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে পারে। এ নিয়ে কয়েকটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নত চিপ ও তথ্যকেন্দ্র তৈরিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যানথ্রপিক। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা। তবে পণ্য ব্যবহারের ফলে ক্ষতির ঝুঁকি, উন্নত সাইবার হামলা এবং নিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের মতো বিষয়কে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যানথ্রপিক এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, ২০২৫ সালে অ্যানথ্রপিকের নিট লোকসান ছিল ৪২ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
তবে লোকসান সত্ত্বেও অ্যানথ্রপিকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো খাতে ব্যয় প্রায় চার গুণ বেড়ে ৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কোড লেখার সহায়ক ব্যবস্থা ক্লড কোড সফটওয়্যার নির্মাতা ও অ্যাপ তৈরির কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য বাজারমূল্য নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন চার ব্যক্তি বলেছেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন বর্তমান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির নতুন আর্থিক তথ্য প্রকাশের পর তুলনামূলক কম মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তাদের তিনজনের ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে শেয়ার বিক্রির সময় প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার হতে পারে। এর আগে তা প্রায় ২ লাখ কোটি ডলার হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কয়েক মাসের মধ্যেই ঘরের সাধারণ যন্ত্রে নিজেকে নিজে অনুলিপি করার সক্ষমতা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। প্রযুক্তিটির দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি এর নিরাপত্তা ও আর্থিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/জেএমএ



