
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলার অভিযোগে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ফাহিম আকরাম নামের এক ব্যক্তি। জাল ডাকটিকিট বিক্রির মাধ্যমে বড় ধরনের প্রতারণার চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী ফাহিম আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশটির জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের একটি বৃহৎ বিচারক প্যানেল আকরামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি ভুয়া ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ৫১ লাখের বেশি জাল ডাকটিকিট বিক্রি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনজীবীদের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ডাকটিকিট প্রায় ২ ডলারে বিক্রি করা হতো। এসব ডাকটিকিট ব্যবহার করে ক্রেতারা সরকারি নির্ধারিত ডাকমাশুলের চেয়ে কম খরচে পার্সেল পাঠাতে পারতেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা ডাক বিভাগের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ। এটি ওই ওয়েবসাইট থেকে অর্জিত আয়ের পরিমাণ নয়।
পাকিস্তানের তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আকরাম ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করে আসছিলেন। প্রতারণার কাজে তিনি নিজের ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে খোলা হিসাবসহ মোট ১৬টি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আকরামের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, জাল ডাকটিকিট তৈরি ও বিক্রি এবং ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রতারণার চারটি অভিযোগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিটি ইলেকট্রনিক যোগাযোগভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে হতে পারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
বর্তমানে আকরাম পাকিস্তানের হেফাজতে রয়েছেন। তবে তার বিচার পাকিস্তানেই হবে, নাকি তাকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/জেএমএ


