টানা পাঁচদিন বৃষ্টির আভাস, ভূমিধসের শঙ্কা

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ১২:০১ এএম


টানা পাঁচদিন বৃষ্টির আভাস, ভূমিধসের শঙ্কা
ফাইল ছবি

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা এবং উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ‘ভারি’ বৃষ্টি বলা হয়। আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে ‘অতি ভারি’ বর্ষণ বলা হয়।

আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধসের আশঙ্কার যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, সেটি আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রযোজ্য। এরপরও বৃষ্টি থাকবে, তবে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকবে না। বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে আসবে।’

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। আজ সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্তও দেশের বিভিন্ন বিভাগে একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করবে। পরবর্তী পাঁচদিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের আমবাগানে দেশের সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময়ে ঢাকায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে আজ বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে যানজট ও জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। বৃষ্টির শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গুলশান, বাড্ডা, পল্টন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। বৃষ্টির কারণে অনেক স্থানে সড়কে পানি জমে যায়। নিচু এলাকার রাস্তাগুলোতে পানি জমে থাকায় ছোট যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। পথচারীদের অনেককেই পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। রিকশা ও অ্যাপভিত্তিক পরিবহনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। স্বল্প দূরত্বের পথ অতিক্রম করতেও অনেকের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বা তার বেশি সময় লেগেছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গাইবান্ধার তারাপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল। কুশিয়ারার উজানে মিজোরামের আইজল স্টেশনের ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ভারতের মণিপুর রাজ্যের আঙ্গামি নাগা পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি স্রোতধারায় বিভক্ত হয়। এ দুই নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের কাছে মিলিত হয়ে মেঘনা নদী গঠন করে, যা চাঁদপুরে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।

গত একদিনে সুরমা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় এসব নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী লাগোয়া নিচু এলাকার কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে আগামী একদিনে গাইবান্ধায় তিস্তা লাগোয়া নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলেছে, গত একদিনে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী দুদিন কমতে পারে এবং তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার বিষয়ে বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। গঙ্গা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী লাগোয়া নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, নোয়াখালী খাল, রহমতখালি খাল ও ফেনী নদীর পানি গত একদিন বেড়েছে। এসব নদীর পানি আগামী দুদিন বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission