
হৃদরোগসহ শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কবি ও সাংবাদিক রথো রাফি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৫২।
গত সোমবার থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন রথো রাফি। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন এই নিভৃতচারী কবি। তার ছোট ভাই মো. এহতেশামুল হক মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এহতেশাম বলেন, তিন দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্টেও নেওয়া হয়েছিল।
আগামীকাল শুক্রবার রথো রাফির মরদেহ জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানায় নেওয়া হবে। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে দক্ষিন তারুয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে রথো রাফির মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ভাই এহতেশামুল হক।
রথো রাফি কবিতা ও অনুবাদে নিজস্ব ভাষাভঙ্গি তৈরি করেছিলেন। তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’। ৪৩২ পৃষ্ঠার এই বইয়ে স্থান পেয়েছিল দুই শতাধিক কবিতা। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুই দশকে লেখা কবিতাগুলোর সংকলন এটি। তার কবিতায় মানুষের জন্ম-মৃত্যুর দর্শন থেকে শুরু করে কৃষ্ণের বাঁশি ও যিশুর ক্রুশযাত্রার মতো নানা অনুষঙ্গ উঠে এসেছে। এছাড়া বিশ্বসাহিত্যের নানা কবির অনূদিত কবিতা রয়েছে তার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন তারুয়া গ্রামে ১৯৭৫ সালের ৩১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন রথো রাফি। তার মা-বাবা আগেই মারা গেছেন। বাবা আবুল কাশেম আশুগঞ্জ হাজি আব্দুল জলিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন। মা জাহানারা বেগম সরকারি চাকরি করতেন। বর্তমানে তার দুই ভাই রয়েছে। পেশা ও কবিতার জগতে রথো রাফি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হলেও তার মূল নাম মো. মোজাম্মেল হক। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএম


