ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদক সেবন করিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, মানতে না পেরে চলে গেলেন কিশোরী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মহাখালীতে গত ১৫ জুলাই ১৩ বছরের কিশোরী সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়ে ধর্ষণ, নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে সিমিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। সিমিদের বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর-টুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে সিমি, তার মা ও এক স্বজন বনানী থানায় গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে, বনানী থানা পুলিশের দাবি, সিমির মৃত্যুর আগে তাদের কাছে কেউ এমন অভিযোগ দিতে আসেনি।

গত ১৫ জুলাই মহাখালীর একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় মায়ের সঙ্গে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করে সিমি। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ভবনের ম্যানেজারের মাধ্যমে দুই সন্তানসহ সাইদুর ও টুম্পা দম্পতি ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠেন।

পরিবারের ভাষ্য, তারা বাসায় ওঠার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। ১ মে সাইদুর দম্পতি বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর সিমির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার মা। একই সময়ে বাসা থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে থাকে।

আরও পড়ুন

সিমির মা বলেন, বাসা সাবলেট দেওয়ার পর ওদের নানা অনিয়মের কথা জানতে পারি। তারা বাসা ছাড়ার পর থেকেই ঘর থেকে টাকা খোয়া যেতে শুরু করে। পরে স্বজনদের চাপের মুখে কিশোরী সিমি জানায়, তাকে হুমকি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

পরিবারের দাবি, পরে সিমিকে বনানী থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সে সেখানে ঘটনার বিস্তারিত জানায় এবং নির্যাতনের কথাও বলে। সিমির মা বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা তাদের কথা বিস্তারিত শোনেন। এরপর অভিযুক্তের ছবি দেখানো হলে পুলিশ পরদিন থানায় আসতে বলে।

তবে পরদিন থানায় যাওয়ার বিষয়ে ফোন করে জানতে চাইলে তাদের যেতে নিষেধ করা হয় বলে দাবি করেন সিমির মা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বনানী থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে তারা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একইসঙ্গে সিমির মৃত্যুর আগে থানায় উপস্থিত হয়ে মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

এদিকে, বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে সাইদুর ও টুম্পা দম্পতির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কোনো তথ্য যাচাই না করেই বাড়ির ম্যানেজার সাইদুরকে সাবলেট হিসেবে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন।

সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় করা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলামোটরে গোলাগুলি, গুরুতর আহত ১
‎রাজধানীর বাংলামোটরে কথা কাটাকাটির জেরে সোহান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে হাতিরঝিল থানার যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনের বিরুদ্ধে।
বাংলামোটরে গোলাগুলি, গুরুতর আহত ১
ঢাকার হকারদের জন্য ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর বার্তা
প্রশাসক বলেন, দফায় দফায় হকারদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং নতুন করে নোটিশ দেওয়ার কোনও বিষয় নেই।
ঢাকার হকারদের জন্য ডিএসসিসি প্রশাসকের কঠোর বার্তা
অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তরুণরা 
অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে হাফপ্যান্ট পরার কারণে মেট্রো স্টেশনে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়েছেন কয়েকজন তরুণ। 
অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তরুণরা 
গৃহকর্মীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, অতঃপর...
রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক গৃহকর্মীকে বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গৃহকর্মীকে আটকে রেখে ধর্ষণ, অতঃপর...
আইল্যান্ড থেকে রাস্তায় নামতেই জিসানকে পিষে দিলো প্রাইভেটকার
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান জাদুঘরের সামনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  
আইল্যান্ড থেকে রাস্তায় নামতেই জিসানকে পিষে দিলো প্রাইভেটকার
আরও পড়ুন
স্বামী মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে স্ত্রী, একসঙ্গে সৎকার
স্ত্রীর গলায় ছুরিকাঘাতের পর স্বামীর আত্মহত্যা
এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: মামা ওবায়দুর কারাগারে
হাসপাতালে ছেলের জন্ম দিলেন স্ত্রী, খরচ জোগাতে না পেরে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিলেন হালিম