
লামিয়া ইসলাম সাহেবা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজে বিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মেয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অভাবের সংসারে আলো জ্বালবেন, এমন স্বপ্নে যখন বিভোর পরিবার, তখনই ভাগ্যের নির্মম ধাক্কা। অভাবের সংসারে হানা দিয়ে বসলো জটিল রোগ।
ছয় মাস ধরে তলপেটের ব্যাথায় ভুগতে ভুগতে ধীরে ধীরে হাঁটাচলার শক্তিও হারিয়ে ফেলছেন লামিয়া। পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ল ইউটেরাসে পাঁচ-পাঁচটি টিউমার। ডাক্তার জানালেন, সামনে উপায় দুটি— হয় অপারেশন, নয় মৃত্যু। আর অপারেশন করতে লাগবে দুই লাখ টাকা।
বর্তমান যুগে টাকার অংকটা কম শোনালেও লামিয়ার বেকার হয়ে পড়া বাবার জন্য এই অর্থ জোগাড় সুউচ্চ পর্বত জয় করার সমান। সেইসঙ্গে ‘পাহাড়সম’ এই অর্থের ব্যবস্থা করার জন্য হাতে সময়ও খুব অল্প। আগামী মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অপারেশনের তারিখ দিয়েছেন ডাক্তার।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুই রুমের একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটে থাকে লামিয়াদের ৬ জনের পরিবার। দীর্ঘদিন মেয়ের চিকিৎসা খরচ চালিয়ে সর্বস্বান্ত বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন। সঙ্গে ছোট দুই মেয়ের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সবার ছোট ছেলেটাকেও ভর্তি করাতে পারছেন না স্কুলে। তিনবেলার জায়গায় খেয়ে-না খেয়ে কোনরকমে চলছে পরিবার। ঘরভাড়াও বাকি পড়ে আছে কয়েক মাসের।
লামিয়ার অসহায় বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন সব মিলিয়ে পড়েছেন অকূল পাথারে। অসুস্থ মেয়েটাকে ভালোমন্দ খাওয়ানো দূরের কথা; ওষুধের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে খাচ্ছেন হিমশিম। লজ্জায় এতদিন মানুষের কাছে হাত পাততেও পারেননি সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্ত অংশের লোকটি। কিন্তু, মেয়ের জীবন বাঁচাতে এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের সামর্থ্যবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তিনি।
লামিয়ার বাবা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, মেয়ের চিকিৎসার জন্য যৎসামান্য জমি যেটুকু ছিল, সেটাও বেচে দিয়েছি। আত্মীয়-স্বজনের কাছেও দেনা হয়ে গেছে অনেক। চাকরি হারিয়ে পরিবারের তিনবেলা খাবারও জোগাড় করতে পারছি না এখন। আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে তো খুব বেশি টাকা লাগে না। এই সমাজে কত কত বিত্তবান মানুষ আছেন। তারা যদি একটু মুখ তুলে তাকান, আমার মেয়েটা বাঁচতে পারে।
লামিয়ার বাবা মো. ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় ও বিকাশ নম্বর: 01911490413 / 01994060281
আরটিভি/এসএইচএম


