
রাজধানীর হাজারীবাগে ১০ তলা ভবন থেকে ফেলে সালেক খান বাবু (৩৫) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে হাজারীবাগ থানাধীন শংকর-জাফরাবাদ এলাকার ২৭৯/১ নম্বর আলী মঞ্জিল ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
সালেক খান বাবু নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিনি মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা সুফিয়া বেগম (৫৫) বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রায়েরবাজার জাফরাবাদ এলাকার আলী মঞ্জিলের নিরাপত্তাকর্মী বাঁধনের সঙ্গে বাবুর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে বাঁধন লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে বাবুর মাথায় আঘাত করেন।
বাবুর চিৎকারে ভবনের আরেক নিরাপত্তাকর্মী মিল্টনসহ কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। তারা বাবুকে আবারও মারধর করেন। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে মিল্টন বাবুকে ভবনের ছাদে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তারা নিচে নেমে আসেন।
এরপর ভবনের দক্ষিণ পাশে একটি টিনের চালের ওপর বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারের সময়ই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা সুফিয়া বেগম।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভবনের দক্ষিণ পাশের একটি প্লটের গ্যারেজের টিনের চাল থেকে বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ভবনের কেয়ারটেকার মিল্টন, বাঁধন চাকমাসহ কয়েকজন তার ছেলেকে প্রথমে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারধরের পর তাকে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মো. মিল্টন (৪২), বাঁধন চাকমা (৫০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
সুফিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত। ওই ভবনে রংয়ের কাজের বিল বাবদ তার ৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল। কোম্পানি তাকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছে, বাকি টাকা দিতে চায়নি। এ নিয়ে তাকে কয়েক দফা হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছিল।
হাজারীবাগ থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তদন্ত চলছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসআর



