
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ইলিশ রক্ষা অভিযানে শুরু থেকেই উপজেলা মৎস্য অফিসের মাছ বিতরণের অনিয়মের কথা স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচার হলেও আজ তা প্রকাশ্যে ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
অফিসের বাইরের কেঁচি গেইট লাগিয়ে ভেতরের বারান্দায় প্রতিদিনের মতোই জব্দকৃত মাছ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত ছিল নড়িয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা।
এতিমদের না দিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে জব্দকৃত মাছ ভাগাভাগি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অভিযান চালানোর পর জেলেদের নিয়ে আসা হয় স্থানীয় ভূমি অফিসে। আর মাছ নদীর পারে থেকেই কিছু এতিমখানায় দিয়ে বাকিটা নিয়ে আসে নড়িয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভূমি অফিসে বসানো হয়। যার ছবি বেশির ভাগ সময় সংবাদ কর্মীদের ধরতে দেয়া হয় না। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন সময়ে মৎস্য বিভাগের দায়িত্বরতরা বড় ইলিশ ভাগাভাগি করে।
বুধবার সকাল ১০টায় মাছ ভাগাভাগি হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে অফিসে গেলে কেটে পড়েন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল। এ সময় উপজেলা মৎস্য অফিসের রাসেদ ও আউব আলী, আক্তারসহ অন্যান্যরা মাছ ভাগাভাগি করছেন।
ক্যামেরার সামনে মৎস্য অফিসের কর্মচারীরা কথা বলতে না চাইলেও সংশ্লিষ্ট খণ্ডকালীনরা জানায় শেষের দিন মাছ দিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
এদিকে স্থানীয় দরিদ্র মানুষ ভিড় জমায় মাছ নেওয়ার জন্য। তারা বলেন, প্রতিনিয়ত মসজিদ-মাদরাসায় কিছু দিয়ে বাকি মাছ তারা ভাগাভাগি করে নেয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম কোনও কথা বলতে রাজি হয়নি। এর আগে ১৭ অক্টোবর আটককৃত ১২ জন জেলেকে থানা হাজতে না রেখে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে রাখেন তিনি।
তখন সেখান থেকে ১২ জন জেলেই পালিয়ে যায়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজনে জানায় অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জেবি




