ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নুরকে নিয়ে ওই রাতে যা ঘটেছিলো, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

কাজী ফয়সাল

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৪৩ পিএম
ডিসি হারুন-অর-রশিদ, ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গাড়ি ব্যবসায়ী সাকিব আহমেদ এবং দূর্ঘটনার শিকার সেই প্রাইভেটকার

রাজধানীর মালিবাগে একটি হোটেল সংলগ্ন সড়কে ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে নুর, পুলিশ এবং এক গাড়ি ব্যবসায়ীর পৃথক বক্তব্য পাওয়া গেছে। যাতে নুর অভিযোগ করছেন, তিনি প্রতিদিন যে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরেন ওই মোটরসাইকেলকেই টার্গেট করে বাসে ধাক্কা লাগিয়ে দিয়েছে একটি প্রাইভেটকার, যা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। যদিও তিনি ওই রাতে সেই মোটরসাইকেলে না থেকে পাশেই অন্য একটি প্রাইভেটকারে ছিলেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে দূর্ঘটনা ঘটলেও মোটরসাইকেল সংক্রান্ত কোনও দূর্ঘটনা ঘটেনি। এমনকি হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে নুর মিথ্যা জিডি করেছেন। এদিকে যে প্রাইভেটকারটি ঘিরে এতো কাণ্ড সেই প্রাইভেটকারের ভেতরে ছিলেন সাকিব আহমেদ নামের এক গাড়ি ব্যবসায়ী। তিনিও এ নিয়ে আরটিভি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন।

দুর্ঘটনার শিকার ধুসর রঙের গাড়ির মালিক সাকিবের বক্তব্য:

‘আমার নাম সাকিব আহমেদ। আমি প্রাইভেটকারের ব্যবসা করি। বিজয় স্বরণীতে অটোডিল এবং গুলশানে অটোবিজ নামের গাড়ির দুইটা শো রুম আছে আমার। দূর্ঘটনার শিকার আমার গাড়িটি এখন আছে খিলাগাঁওয়ের একটি গ্যারেজে।

আমি বেইলী রোড থেকে খিলাগাঁয়ের দিকে যাচ্ছিলাম, গাড়িটি চালাচ্ছিলো আমার ড্রাইভার। এসময় আমি শান্তিনগর মোড় থেকে ফ্লাইওভারে উঠে মালিবাগ আবুল হোটেলের ঢাল দিয়ে নামতেছিলাম। ওই সময়ে আমার গাড়িটা একটু বেশি স্পিডে ছিলো, ঘণ্টায় আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার হবে। ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় যখন ঢালে আমার ড্রাইভার গাড়িটির ব্রেক ধরে স্পিড কমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু কোনোভাবেই গাড়িটা থামতেছিলো না। তখন আমার ড্রাইভার হ্যান্ড ব্রেক ধরলেও গাড়িটি দাঁড়ালো না। সড়কে আশপাশে অনেক লোকজন দেখে ডানে বা বামে না কেটে তাৎক্ষণীক সিদ্ধান্ত নিয়ে গাড়িটি স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা সু-প্রভাত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের পেছনে মেরে দেয় আমর ড্রাইভার। যাতে কোনো মানুষজনের ক্ষতি না হয়। জোরে ধাক্কা লাগায় আমি গাড়ির ভেতরেই মাথায় এবং পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হই, আমার শরীর থেকে রক্তও বের হতে শুরু করে। পরে স্থানীয় ৫০-৬০ জন লোক আমাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ঘটনার ৩ থেকে ৪ মিনিটের মধ্যেই স্পটে রামপুরা থানার পুলিশ চলে আসে। ওই সময়ে আমি ঘটনাস্থলে ১ ঘণ্টা যাবৎ অবস্থান করছিলাম। তখন আমার গাড়িটা যে বাসে লেগেছিলো, সেই বাসের চালক এবং যাত্রীদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম কারো কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা? কিন্তু তারা বলেছে, কারোই কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এরপরেই আমি গাড়িটি গ্যারেজে পাঠিয়ে দেই এবং পুলিশ আমার নাম-ঠিকানা সব লিখে রাখে। এরপর যখন আমি বাসায় চলে গেলাম, ওই রাতেই ৩ টার দিকে হঠাৎ আমার স্ত্রী নুরদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আমার দূর্ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে আমাকে দেখায়। তখন আমি অবাক হয়ে যাই!

যে নুরকে আমি ছিনিও না, কখনো দেখিও না, তবে নাম শুনেছি কেবল। তার অনেক আলোচনা-সমালোচনাও দেখেছি। কিন্তু আমি রাজনীতি করিনি কখনো, যেহেতু আমি ব্যবসায়ী, এমনকি রাজনীতির কোনো লোকের সাথে আমার কোনো সম্পর্কও নেই।

এরপর আজ সকালে যখন আমি গ্যারেজে যাই, তখন পুলিশ আমাকে ফোন করে জানায়, আমার নামে নাকি নুর জিডি করেছে। এরপর হাতিরঝিল জোনের পুলিশের এডিসি আমাকে ফোন করে জানান যে আমার নামে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আমি থানায় গেলে নুরদের জিডির বিষয়টি জানতে পারি। পুলিশ যাচাই করে দেখেছে এটি একটি এক্সিডেন্ট মাত্র, আর কিছু নয়। এই দূর্ঘটনা কেবল আমি এবং আমার গাড়ির চালক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আর কেউ না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আমার অনেক ক্ষতি করেছে। আমর মানহানি করেছে। আমার নামে বিভিন্ন রকমের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অবশ্যই সে (নুর) রাজনৈতিক কোনো ফায়দা নিতে আমাকে বলির পাঠা বানিয়েছে। অথচ নুরকে আমি জীবনে কখনোই সামনে থেকে দেখিনি। আমি কেনো তাকে হত্যা করতে যাবো! সে কখনোই দেখাতে পারবে না যে, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত আছি।

নুরুল হক নুরের বক্তব্য:

গতকাল বুধবার আনুমানিক রাত ১১টার সময় আমি পল্টন থেকে বাড্ডায় বাসায় ফিরছিলাম। পথে মালিবাগ ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় একটি প্রাইভেটকার পেছন থেকে আমার নিয়মিত ব্যবহৃত মোটরসাইকেলকে অনুসরণ ও তাড়া করে। ফ্লাইওভার থেকে নামার পর প্রাইভেটকারটি আমার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মোটরসাইকেলের চালক আমিনুল ইসলাম কৌশলে তা এড়িয়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারটি মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। অবশ্য ঘটনার সময় আমি নিজে ওই মোটরসাইকেলে ছিলাম না। আমি ছিলাম পাশের একটি গাড়িতে। তবে ঘটনাটি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে।

আজ সংবাদ সম্মেলনে নুর বলেন, চিরতরে কণ্ঠ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমার প্রাণনাশের পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এর সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি ।

ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদের বক্তব্য:

আজ বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) ডিসি হারুন বলেন, ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুর মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়নি। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। উল্টো দূর্ঘটনার শিকার এক যুবকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুর মিথ্যা রটিয়েছে। পুরো ঘটনা সাজানো। আর প্রাইভেটকারটি কোনো সচিবের নয় বা সচিবালয়ের স্টিকার ছিলো না, এটি ব্যক্তিগত গাড়ি।

কেএফ/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
মাদারীপুরে একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগ ও তার পরিবারের নারী সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।  বৃহস্পতিবার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানাধীন দর্শনা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।  এ সময় বক্তারা দ্রুত এই ঘটনার সাথে জড়িত ও অভিযুক্ত ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজের বিচার দাবী করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের কমিটি করাকে কেন্দ্র করে কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ একেডি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র নাগের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী সদস্যসহ প্রধান শিক্ষককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদ ও দোষীর বিচারের দাবীতে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। উল্লেখ, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ইয়াবাসহ ডাসার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী সবুজ। পরে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। এর আগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অভিযোগে এনে পদত্যাগ দাবী করে একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তবুও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জিএ
শিক্ষকের পরিবারের নারী সদস্যকে গালিগালাজ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন করা হয়েছ। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নির্মাণ করা হয়েছে এ জাদুঘরের। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নকশার একশ’টি নৌকার অনুকরণে শুরু হল এই জাদুঘরের। বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন ৭৮ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে জাদুঘরটি। বিশাল নৌকার আদলে তৈরি এ জাদুঘরটির দৈর্ঘ্য ১৬৫ ফিট এবং প্রস্থ ৩০ ফিট। এখানে থাকবে নৌকা গবেষণা কেন্দ্র, আধুনিক পাঠাগার, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশু বিনোদন কেন্দ্র এবং ফুড কর্নারসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় মহামারি করোনা প্রতিকূলতার মাঝেও মাত্র ৮১ দিনে সম্পন্ন হয় দেশের প্রথম নৌকা জাদুঘর নির্মাণের কাজ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীমাতৃক দেশের প্রধান বাহক হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে এই নৌকা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক বিভিন্ন অভিযানে নৌকা ব্যবহার করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে এই নৌকা। বঙ্গবন্ধু জাদুঘরটির মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন অনুকরণের নৌকার দেখা পাবে দেশের নতুন প্রজন্মরা- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জিএ 
দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘরের উদ্বোধন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় চার মাস তদন্ত শেষে পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তবে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তিতাস গ্যাসের অভিযুক্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির নারায়ণগঞ্জ শাখার তদন্ত দল। চার্জশিটে প্রধান আসামি করা হয়েছে ওই মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর মিয়াকে (৬০)।  মামলায় প্রধান আসামি আবদুল গফুর মিয়া ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- সামসুদ্দিন সরদার (৬০), শামসু সরদার (৫৭), শওকত আলী (৫০), অসিম উদ্দিন (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৪০), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল (৪৫), নাঈম সরদার (২৭), কাইয়ুম (৩৮), মামুন মিয়া (৩৮), আলমগীর সিকদার (৩৫), মাওলানা আল আমিন (৪৫), সিরাজ হাওলাদার (৫৫), নেওয়াজ মিয়া (৫৫), নাজির হোসেন (৫৬), আবুল কাশেম (৪৫), দেলোয়ার হোসেন, বশির আহমেদ (হৃদয়) (২৮), তানভীর আহমেদ (৪৫), আল আমিন (৩৫), আবদুল মালেক (৫৫), মনিরুল (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮), আসলাম আলী (৪২), আলী তাজম (মিল্কী) (৫৫), রিমেল (৩২), আরিফুর রহমান (৩০), মোবারক হোসেন (৪০) ও রায়হানুল ইসলাম (৩৬)।  তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। সিআইডি পুলিশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় তিতাসের অভিযুক্ত আট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে আপাতত চার্জশীটে লিপিবদ্ধ করা না হলেও তাদেরকে মামলায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তাদেরকে আসামি হিসেবে চার্জশীটে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সিআইডি আদালত পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চার্জশিট জমা দিয়েছে। রোববার তা আদালতে পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মসজিদের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে স্পার্ক ও অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের মিশ্রনে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। এই বিস্ফোরণে ৩৭ জন গুরুতর দ্বগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা যান। জিএ
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: সিআইডির চার্জশিট, নাম নেই তিতাস কর্মকর্তাদের
আরও পড়ুন
রাণীনগরে ৫৫০ কেজি ভিজিডির চাল উদ্ধার
ঢাকা ওয়াসার বিরুদ্ধে জিডি করলো ডিএনসিসি
হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন নুরুল ইসলাম জিহাদী
ফুটবলের তারকা হারানোর বছর