
কুষ্টিয়ায় ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করেছেন কয়া কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ। পুলিশি হেফাজত থেকে এসে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমারখালী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনি মামলা করেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ১২ দিনের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের কোনও একসময় কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কয়া মহাবিদ্যালয়ে অবস্থিত ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার গেলো রাতের কোনও একসময়ে দুর্বৃত্তরা এই ভাস্কর্যের মুখের চোয়াল ও নাকে আঘাত করে ভেঙে ফেলে। আজ শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান।
খবর পেয়ে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মামলার আগে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজামুল হক চুন্নু ও রাত্রিকালীন পাহারাদার খলিল মিয়াকে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যার পর তাদের ছেড়ে দেন। ফিরে এসে মামলা করেন অধ্যক্ষ।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে ও কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সদস্য করে এই কমিটি গঠন করা হয়। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
উল্লেখ্য, বাঘা যতীন কুষ্টিয়ার এই কয়াতেই তার মামা বাড়িতে ১৮৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তিনি ১৯১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বরে ভারতের বালেশ্বর বুড়িবালাম তীরে মাত্র চারজন যোদ্ধা নিয়ে বিশাল ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে সশস্ত্র যুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। এ সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। ২০১৬ সালে কয়া মহাবিদ্যালয়ের সামনে বাঘা যতীনের এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। এর আগে গেলো ৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌরসভার নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়।
জেবি/পি




