
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কয়া মহাবিদ্যালয়ে ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি আনিছুর রহমান, সবুজ হোসেন ও হৃদয় আহমেদকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুমারখালী আমলি আদালতে শনিবার বিকেলে আসামিদের হাজির করে পুলিশ প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে। আদালত পরে শুনানির দিন ধার্য করবেন জানিয়ে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন জানান, কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিছুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কুমারখালীর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর এদেরকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকেল চারটায় তাদের আদালতে নেওয়া হয়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে ভাস্কর্য ভাঙার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনার সাথে মোট চারজন জড়িত রয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন। অপরজনের নাম বাচ্চু। সে এখনও পলাতক রয়েছে।
এসপি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মতে, কলেজ কমিটি নিয়ে বিরোধে এক পক্ষকে ফাঁসাতে হয়তো এই ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে। নৈশপ্রহরীর বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, রাত ১১টা থেকে আসামিরা আড্ডার ছলে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল। রাত পৌনে একটার দিকে তারা হাতুড়ি দিয়ে ভাস্কর্যে তিনটি আঘাত করে চলে যায়। জেলার সব ভাস্কর্যস্থলে সিসি ক্যামেরা বসানো ছাড়াও নিরাপত্তাপ্রহরী নিযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে কুমারখালীর কয়া মহাবিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়। কলেজের রাত্রিকালীন পাহারাদার খলিল মিয়া বলেন, ওই সময় তিনি দুটি মোটরসাইকেলযোগে ৪ জনকে চলে যেতে দেখেন।
ঘটনার পর গেল রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন কয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুনুর রশীদ। এতে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী নেতা বাঘা যতীন কুষ্টিয়ার এই কয়াতেই তার মামাবাড়িতে ১৮৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তিনি ১৯১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ভারতে বালেশ্বর বুড়িবালাম তীরে মাত্র ৪ জন যোদ্ধা নিয়ে বিশাল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে সশস্ত্র যুদ্ধ করেন। এই যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান। বাঘা যতীনের জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষে ২০১৬ সালে কয়া মহাবিদ্যালয়ের সামনে বাঘা যতীনের এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়।
এর আগে ৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরের ৫ রাস্তার মোড়ে পৌরসভার নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর হয়। সে মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদরাসা ছাত্রসহ চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
পি




