
বিভিন্ন প্রকল্প চেয়ারম্যান নিজে বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও মেম্বারকে মারধরের মামলায় চেয়ারম্যান, তার ছেলে ও সহকারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠী হাজরা ডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে। আজ মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায়, ছেলে মানিক চন্দ্র রায় ও সহকারী কানাই চন্দ্র সেনকে জেলে পাঠানো হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায় ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প নিজেই বাস্তবায়ন করেন। প্রকল্পের ব্যাপারে ইউপি সদস্যদের অবগত না করলেও চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন। এ বিষয়ে ইউপি সদস্যরা বিভিন্ন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
গত ২৫ জুলাই চেয়ারম্যান স্থানীয় নতুন হাট এলাকায় নিজস্ব বৈঠকখানায় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় অনিল চন্দ্র রায়, তার ছেলে মানিক চন্দ্র রায় ও সহকারী কানাই চন্দ্র সেন শহিদুল ইসলামের ওপর চড়াও হন। অন্য ইউপি সদস্যরা শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মারধরের ঘটনার পর শহিদুল ইসলাম দেবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও তদন্তের অগ্রগতি হয় না। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করেন মেম্বার শহিদুল। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। পিবিআই’র তদন্ত প্রতিবেদন ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত উল্লিখিত তিনজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এফএ




