
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার গনকা বিদিরপুর মহল্লায় ককটেলকে খেলনা ভেবে খেলার সময় বিস্ফোরণে কবজি হারানো মহরমী আক্তার মায়ার দুই চোখ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মহরমী।
মহরমী আক্তার মায়ার সঙ্গে তার ছোট বোন মারিয়া খাতুন আহত হয়েছিল। তবে সে অনেকটায় সুস্থ। তারা গনকা উত্তর পাড়ার আশরাফুল হকের মেয়ে। মহরমী গনকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। আশরাফুল হক প্রবাসী শ্রমিক। দুবাইতে তিনি প্রায় ১০ বছর থেকে আছেন।
আজ বুধবার সকালে মহরমীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন শিশু মহরমীর সর্বশেষ কি অবস্থা। মহরমীর দাদী আকলিমা বেগম তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি সকালেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসেছেন।
তিনি বলছিলেন, হাতটা গেছিলো, তাও মনে করেছিনু যে বাড়িতে থাকবে। এখন চোখ দুইটায় মনে হয় নষ্ট হয়্যা গেছে। আর দেখতে প্যাবে কিনা বুঝতে পারছি না। ডাক্তাররাও এখনও কিছু বলতে পারছে না। আল্লাহ তুমি হ্যামার মহরমীকে দেখার শক্তিটা দাও।’
কথা বলতে বলতে তিনি বাড়ির পাশেই সেখানে ককটেল ফুটেছিল সেখানে নিয়ে গেলেন, সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে আকলিমা বলেন, ‘ছ্যালা মিলা কি বুঝাছিলো যে কোনটা বোম, লাল কট্যার মত পড়্যা ছিলো, দিয়্যা খেলছিল, তিনটা বাড়ি ম্যারাছিলো ওয়ালে ওখনি ফুট্যা গেছে, হামরা বড় মানুষই চিনতে পারব না কোনটা বম ওরা কেমন করয়া বুঝতে পারবে।’
কারা ককটেল ফেলে রেখেছিলা, এমন প্রশ্নে আকলিমা বেগম বলে উঠেন, হামরা এসব কিছু জানি না, হামরা আল্লাহর কাছে বিচার দিছি, আল্লাহ বিচার করবে।’
মহরমীর দাদা আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন,মহরমীর চোখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত চোখের আলো নিভে যায় কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, মহরমী নামে যে শিশুটি চিকিৎসাধীন আছে তার হাতের কবজির অপারেশন করা হয়েছে। সে অনেকটায় সঙ্কটাপূর্ণ। অন্যদিকে চোখের চিকিৎসাও চলমান। তার চোখের ক্ষতি কেমন হয়েছে তা আগামীকাল জানা যাবে। আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে।
প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলিনগর গনকা ও বিদিরপুর মহল্লায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মাঝে মধ্যেই ককটেল বাজির ঘটনা ঘটতো। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলাও করেছে। অন্যদিকে গ্রামের নেতৃবৃন্দ বসে দু’পক্ষকে ককটেল বাজি বন্ধের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল গেলো ২৫ জানুয়ারী। এরপর থেকে আর ককটেল বাজি না হলেও আগের পড়ে থাকা ককটেলেই কাল হয়েছে। খেলনা ভেবে খেলতে গিয়ে আহত হয়েছে দুই শিশু গত সোমবার বিকেলে।
জেবি




