
কুয়াকাটার আলীপুরে দুই লাখ চিংড়ি রেণুসহ চারজনকে আটক করে দিনভর নাটকীয়তার পরে সন্ধ্যায় খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। পরে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বাদী হয়ে মহিপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৩ আগস্ট) প্রায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কোস্টগার্ড, থানা পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের টানাটানি। একটি বেসরকারি সংস্থার মাঠকর্মীরাও অনিয়মের বিষয়ে পুলিশ ও মৎস্য অফিসারকে তথ্য দিয়ে বেকায়দায় পড়েন। পরবর্তীতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহম্মদ শহীদুল হকের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়।
শেষ পর্যন্ত উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু সংগ্রহ ও বাজারজাত করার অভিযোগে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করে নাটকীয়তার অবসান হয়।
ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের ইকোফিশ-২ পটুয়াখালী জেলার দায়িত্বে থাকা সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, কুয়াকাটা সৈকতে অবৈধ উপায়ে চিংড়ি রেণু শিকারের পর সেখান থেকে নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করছিল একটি চক্র। এই চিংড়ি রেণু কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এ বিষয়টি নজরে রেখে মজুদ করার স্থানটি শনাক্ত করেন তারা। এ তথ্য থানা পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য অফিসারকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তার উপস্থিতিতে রেণু জব্দ না হওয়ার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা চালাতে থাকেন।
এরই মধ্যে আরও কয়েক হাজার চিংড়ি রেণু পরিবহন করে একই স্থানে নিয়ে আসার পথে কোস্টগার্ডের হাতে আটক হন তিনজন। এরপর কে মামলার বাদি হবেন এবং জব্দ তালিকা কে করবেন, এ নিয়ে শুরু হয় রশি টানাটানি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহম্মদ শহীদুল হকের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়।
উপজেলার নিজামপুর কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিজেন কমান্ডার হরি প্রসাদ সিংহ আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, অবৈধ চিংড়ি রেণু সরবরাহের সময় তারা আইউব আলী (৫০), জলিল (৪৬) ও দেলোয়ার (৫০) নামে তিনজনকে আটক করে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করেছেন।
মহিপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, আমরা খবর পেয়ে অবৈধ চিংড়ি রেণু মজুদ রাখার অপরাধে ছগির (৪৫) নামে একজনকে আটক করেছি। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রথমে দায়িত্ব নিতে না চাওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে সময় লেগেছে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা আরটিভি নিউজকে বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে চিংড়ি রেণু জব্দ এবং মজুদদারকে আটক করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া এ বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। পরে আদালতের মৌখিক নির্দেশে আমি এখানে এসেছি।
মৎস্য কর্মকর্তা চারজনকে আসামি করে মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে আরও বলেন, জব্দকৃত দুই লাখ চিংড়ি রেণু খাপড়াভাঙা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান আরটিভি নিউজকে বলেন, অবৈধ চিংড়ি রেণু পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাত কারার অভিযোগে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এমআই




