ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মাল্টা চাষে ভাগ্য খুলছে অনেকের 

নরসিংদী সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৩ পিএম
মাল্টা চাষ

নরসিংদীতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে মাল্টা চাষ। বিদেশি এই ফল চাষে ভাগ্য খুলছে অনেকের। তবে এই ফল ইউরোপের গন্ডি পেরিয়ে চাষ হচ্ছে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায়। হেক্টর প্রতি এক লাখের বেশি করে অর্থ উপার্জন হচ্ছে এই মাল্টা চাষে। অল্প পুঁজিতে লাভ অধিক লাভজনক হওয়ায় মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদের দিকে ঝুঁকছে বেকার যুবক ও কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নরসিংদীতে লেবুজাতীয় ফলগুলো ভালো ফলন হয়। এই মাটি লেবু জাতীয় ফসলের জন্য উপযোগী। সেই চিন্তা ভাবনা থেকে ২০১১ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে ২০১৩ সালে সাফল্য পেয়ে ২০১৬ সাল থেকে প্রথম মাল্টা আবাদ শুরু হয়েছে। এই এলাকায় বারি মাল্টা-১ চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। খরচ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় ফলটি অত্যন্ত লাভজনক। প্রতি বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি মাল্টা চারা রোপন করে একটানা ২০ বছর ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটা গাছ থেকে প্রথম বছর ১০ থেকে ২০ কেজি হারে ফল পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় বছর থেকে গড়ে এক মণের বেশি ফল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত চারা রোপণের দুই বছর পর গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।

জেলায় এ বছর ৫৩ হেক্টর জমিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শিবপুর, রায়পুরা, বেলাবো ও মনোহরদী এই চার উপজেলায় মাল্টার ভালো ফলন পাচ্ছে চাষিরা। আগামীতে মাল্টা চাষের আরও পরিধি বাড়াতে উপজেলা কৃষি অফিস ও নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস মনিটরিং ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মাল্টা চাষিদের ।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। বিশ্বের সর্বমোট উৎপাদিত সাইট্রাস ফসলের দুই তৃতীয়াংশ হলো মাল্টা। ভিয়েতনাম, উত্তর পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ চীন মাল্টার আদি উৎপত্তি স্থল। তবে বর্তমানে এই ফলটি বিশ্বের উষ্ণ ও অব–উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় বেশি চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে এই ফলটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং দিন দিন এর চাষ বেড়ে চলছে। কমলার তুলনায় এর অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায়, পাহাড়ি এলাকার ফলটি বর্তমানে নরসিংদী লাল মাটি এলাকায় সহজেই চাষ করা যাচ্ছে। এখানকার কৃষকরা মাল্টা চাষ করে সফল হচ্ছেন। এই এলাকার মাল্টা মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের বিরাজনগর গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়ার বাগানে একশ গাছে ঝুলছে মাল্টা।

কৃষক ইউসুফ মিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ২০১৭ সালে প্রবাস থেকে দেশে এসে বেকার হয়ে পড়েন। তখন তিনি নিজের জমিতে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৪০ শতক জমিতে ১০০ মাল্টার চারা লাগান।

তিনি আরটিভি নিউজকে আরও বলেন, প্রথম বছরে অল্প ফলন আসলেও বর্তমানে প্রতিটি মাল্টা গাছে ২৫০ থেকে ৩০০টি করে মাল্টার ফলন ধরেছে। বাগানের মাল্টার উপযোগী ফলন আনতে প্রতিটি গাছের পিছনে দিয়েছেন বাড়তি পরিচর্যা। বাগান করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। এই বছর ইতিমধ্যে তার এ বাগান থেকে ৪০থেকে ৪৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রিও করেছেন এবং আরও ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। তার এই বাগান দেখে স্থানীয় অনেক কৃষক মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বলে জানান তিনি।

মাল্টা চাষি ফোরকান আহমেদ আরটিভি নিউজকে বলেন, এক সময় বেকার ছিলাম, সবার দেখাদেখি আমি আমার বাড়িতে মাল্টা চাষ করেছি। মাল্টা চাষ করে অনেক লাভবান ও স্বাবলম্বী হচ্ছি। যদি আমার মতো আশেপাশে যারা বেকার রয়েছে তারা সকলে যদি অল্প অল্প করে মাল্টা চাষ করে তাহলে আমাদের দেশে যে বেকারত্ব রয়েছে তা একটু হলেও ঘুচবে। সবাই যদি মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হই তাহলে বিদেশি মাল্টা আর আমদানি করতে হবে না। আমাদের দেশের সবুজ মাল্টা দিয়ে একদিন চাহিদা মেটানো যাবে।

মাল্টা চাষি মো. আবুল হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, আমার বাগানে
১২০টা মাল্টার গাছ আছে। এই বাগান করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রথম বছর যখন ফল আসে তখন ১৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করি। এবার বাগানে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। আশা করি এবার ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি করতে পারবো। এই মাল্টা চাষ করে আমরা অনেক লাভবান। বাজারে এই ফল ১৮০ টাকা করে বিক্রি করে। অনেক পাইকার ফল কেনার জন্য যোগাযোগ করে বাগানে এসে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা করে ক্রয় করেন।

মাল্টা চাষি নিলুফা ইয়াছমিন আরটিভি নিউজকে বলেন, আমার বাগানে মাল্টা ৫ থেকে ৬টায় এক কেজি হয়। একটা গাছে ২৫০ থেকে ৩০০ মাল্টা আসে। এই ফল ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা করে বিক্রি করা যায়।
আমাদেরকে বাজারে যেতে হয় না। বেপারীরা বাড়ি থেকে ফল কিনে নিয়ে যায়।

মাল্টা চাষি মো. সুলতান মিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, হলুদ মাল্টা একটা বিদেশি ফল। এই মাল্টায় বিষাক্ত ঔষধ দেওয়া হয়। আমাদের দেশের সবুজ মাল্টা যখন খাওয়ার উপযুক্ত হয় তখন আমরা কোন বিষাক্ত ঔষধ দিই না। এই জন্য সবুজ মাল্টা খুব চাহিদা। নরসিংদীর আশেপাশে জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নেয়।

এই মাল্টা সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনেক ভাল এবং পরিশ্রম কম। অল্প খরচ হওয়ায় আমরা খুব লাভবান। এই মিলে যদি বাগানে ফলন আসে তাহলে আগামীতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাহিরেও দিতে পারবো।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রশিদ আরটিভি নিউজকে বলেন, নরসিংদীতে এই মৌসুমে ৫৩ হেক্টর জমিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করা হচ্ছে।

শিবপুর, রায়পুরা, বেলাবো ও মনোহরদী এই চার উপজেলায় মাল্টার ভালো ফলন পাচ্ছে চাষীরা। আমরা ভিয়েতনাম জাতের একটা মাল্টা সারা বছর ফলন আসে। সেইটাও আমরা অনেক বাগানে রোপন করতে দিয়েছে যাতে সারা বছর উৎপাদন হয়। আর এই মাল্টা উৎপাদন হলে বিদেশ থেকে যে কোটি টাকার মাল্টা আমদানি করতে হয় সে আমদানি নির্ভর কমে আসবে। এছাড়া প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১২ মেট্রিক টন ফল ওঠার আশা রাখছে কৃষিবিভাগ।

এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে দোয়া
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে-বরগুনাগামী লঞ্চ অভিযানে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে সভা ও আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পৌর মিনি পার্কে দোয়া মোনাজাতে (ভার্চুয়ালি) প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র, আমির হোসেন আমু এমপি।  এলাকাবাসীর আয়োজনে দোয়া মোনাজাত ও আলোচনা সভায় যুবলীগ নেতা মোঃ ছবির হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী,পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিল,হাফিজ আল মাহমুদ। পরে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।  দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন ঈদগাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ গাজী শহীদুল ইসলাম। এলাকাবাসী লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু ও আহতদের জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করে জলো প্রশাসকের কাছে। দোয়া মোনাজাতে নিহতদের স্বজনরাসহ শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করে।  গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী অতিক্রমকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৪৬ জনের প্রাণহানী ঘটেছে। প্রাণ বাঁচাতে নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এমএন  
লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে দোয়া
সিরাজগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, ৪ মামলায় ৭ শতাধিক আসামি
সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় জেলা বিএনপির বেশকজন শীর্ষ নেতাসহ সাড়ে ৭শ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বলেন, চার মামলার মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি ও উজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে অপর মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের মধ্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান দুলাল, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানাসহ একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন। পরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০/১৫০ জনকে আসামি করে একটি, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলীম হোসাইন বাদী হয়ে ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০/২৫০ জনকে আসামি করে একটি এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ হাসান বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২/৩শ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে রেলওয়ে কলোনি মহল্লার আওয়ামী লীগ কর্মী উজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশে মিছিল নিয়ে আসার সময় বিএনপির সাথে যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ, ইটপাটকেল নিক্ষেপের এক পর্যায়ে শহরের কলেজ রোড, ইলিয়ট ব্রীজ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এমএন
সিরাজগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, ৪ মামলায় ৭ শতাধিক আসামি
কিডনি-লিভার বিক্রি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
কিডনি ও লিভার পাচার চক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যােব। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের খুলশী থানার ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টারের পাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা র্যা ব-৭ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যা বের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ। চক্রটি এখন পর্যন্ত ৩০-৪০ জন লোককে প্রলুব্ধ করে অবৈধভাবে কিডনি ও লিভার বিক্রির জন্য ভারতে পাচার করেছে বলে দাবি র্যা বের। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মোহাম্মদ আলী ডালিম (৩৫), মো. আতিকুর রহমান রনি (৩৬) ও মো. আলম হোসেন (৩৮)। র্যা ব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাংলাদেশে এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা ডালিম। রনি আন্তর্জাতিক কিডনি ও লিভার পাচারকারী দলের সদস্য। ভারতে অবস্থান করেন শাহীন নামে আরেক বাংলাদেশি। তিনি রনি, আলমদের মাধ্যমে কিডনি ও লিভার বিক্রি করবে এমন লোকজন সংগ্রহ করে তাদের ওই দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ ক্ষেত্রে কিডনি ও লিভার দাতাদের ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয় চক্রটি। কিন্তু এসব কিডনি ও লিভার চক্রটি ভারতে ক্রেতাদের কাছে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করত।  তিনি আরও বলেন, আসামি ডালিমের নেতৃত্বে চক্রের সদস্যরা প্রথমে কিডনি ডোনেট সেন্টারসহ বিভিন্ন নামে ফেসবুক পেজ খোলে। পেজে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ডোনারদের নানাভাবে কিডনিও লিভার বিক্রির (ডোনেশনের) ব্যাপারে প্রলোভন দেখানো হয়। কিডনি বা লিভার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করবে এমন ব্যক্তি পাওয়া গেলে তাদের পাসপোর্ট তৈরি ও ইন্ডিয়ান ভিসা লাগানোর ব্যবস্থা করে দেয় চক্রটি। তারপর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাদের রক্ত, কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্ট ঠিক থাকলে তাদের ভারতে পাচার করে। এরপর ভারতে অবস্থানরত শাহীন ওই দেশে আবারও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কিডনি ও লিভার সংগ্রহের ব্যবস্থা করে।  এ চক্রটি এখন পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ জন লোককে প্রলুব্ধ করে অবৈধভাবে কিডনি ও লিভার দেওয়ার ব্যবস্থা করে বলেও জানায় র্যা ব। এমএন 
কিডনি-লিভার বিক্রি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইন্সটিটিউটের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
রাজশাহীতে ২ দিন ব্যাপী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইন্সটিটিউটের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর)সকালে নগরীর বড় বনগ্রাম ইনস্টিটিউট এর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভার প্রথম পর্বে মিলিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর বিকেলে ২য় পর্বের আলোচনা সভায় রাজশাহী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল জলিল। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আইডিএসইবি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সরদার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ২ দিন ব্যাপী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইন্সটিটিউটের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে আরটিভি। এমএন
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইন্সটিটিউটের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
ভোটের লড়াইয়ে দুই জা
পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন দুই জা। তারা একই এলাকায় সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই জায়ের এমন ভোটযুদ্ধকে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন স্থানীয় ভোটাররাও। এক পরিবারের মানুষ হয়েও দুজনই ভোটের মাঠে নিজেদেরকে তুলে ধরছেন আলাদা প্রতীকে। ওই দুই প্রার্থী হলেন, তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের শ্রী বিকাশ চন্দ্র সাহার স্ত্রী শ্রীমতি কনিকা রানী এবং শ্রী বিকাশ চন্দ্র সাহার ছোট ভাই শ্রী বিমান চন্দ্র সাহার স্ত্রী শ্রীমতি সাধনা রানী (সাথী)।   নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গুড়পিপুল দেশিগ্রাম ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে বড় জা বর্তমান ইউপি সদস্য শ্রীমতি কনিকা রানী মাইক প্রতীক ও ছোট জা শ্রীমতি সাধনা রানী (সাথী) হেলিকপ্টার প্রতীকে লড়ছেন। একই পদে দুই জা ছাড়াও রহিমা খাতুন কলম প্রতীকে এবং মেঘনা আক্তার সূর্যমুখী ফুল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই এলাকায় ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৫৫৯জন। এ নিয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য বড় জা শ্রীমতি কনিকা রানী আরটিভি নিউজকে বলেন, এ ওয়ার্ডের মানুষ আমাকে ভালোবেসে দুইবার তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। এবারও নির্বাচনে অংশ নিতে আমি আগে থেকেই মাঠে গণসংযোগ করে আসছিলাম। কিন্তু আমার জা প্রতিহিংসার কারণে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন। এখন ভোটাররাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। ছোট জা শ্রীমতি সাধনা রানী (সাথী) আরটিভি নিউজকে বলেন, রাজনীতিতে কোন আত্মীয় স্বজন নেই। কোন প্রতিহিংসা নয়, নির্বাচনে জয়লাভ করলে গরিব অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করবো। এমএন
ভোটের লড়াইয়ে দুই জা
আরও পড়ুন
জিপিএ ৫ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেওয়া সেই শিক্ষার্থী পাস করেছে
বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করলেন পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সংঘর্ষে কৃষকের মৃত্যু