
সরকারি সিদ্ধান্ত আসায় চট্টগ্রামে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের উপযুক্ত সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেনি পণ্য পরিবহন নেতারা। এদিকে পণ্য পরিবহনে লাগাতার কর্মবিরতি চট্টগ্রামে রপ্তানি খাতে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
গত শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে এখন পর্যন্ত চারদিন কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছে পণ্য পরিবহন মালিকরা। ডিজেল ও কেরোসিনের বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহার, যমুনা ও মুক্তারপুর সেতুর বর্ধিত টোল প্রত্যাহার এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে পণ্যবাহী পরিবহনে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পণ্য পরিবহন নেতারা। তাদের এমন সিদ্ধান্তে রীতিমত শঙ্কা প্রকাশ করছেন রপ্তানিকারকরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পণ্যবাহী পরিবহণগুলোর এমন সিদ্ধান্তে কারখানা থেকে কোনো পণ্য ডিপোতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পণ্যের জাহাজীকরণ করাও সম্ভব হচ্ছে না।ফলে রপ্তানি পণ্যগুলো যথাসময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে পাঠানো নিয়ে এক প্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে পণ্যপরিবহনে লাগাতার কর্মবিরতির সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে বন্দর। ডিপো থেকে বন্দরে পণ্য আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে জাহাজে পণ্য তোলায় বাধা-বিপত্তিতে পড়তে হচ্ছে। পণ্য পরিবহন না চলায় বন্দরে ইতোমধ্যে কনটেইনার ও জাহাজ জট শুরু হয়ে গেছে। এর ফলে বন্দরের কাজের যে গতিধারা তা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে রপ্তানিখাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মোহাম্মদ উমর ফারুক আরটিভি নিউজকে জানিয়েছন, পণ্য পরিবহনের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়নি। এটি বন্দরের গতিশীল কার্যক্রমে বাধা তৈরি করছে। শুক্র ও শনিবার বন্দরে এমনিতেই পণ্য খালাস কম হয়। তাই এ দুদিনের কর্মবিরতি বন্দরের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে রোববার এবং সোমবারও কর্মবিরতি চলছে। এটা কবে শেষ হবে কারও জানা নেই। লাগাতার কর্মবিরতি চলতে থাকলে বন্দর, ব্যবসায়ী সকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দর কাস্টমসের লক্ষ্যমাত্রায়ও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরটিভি নিউজকে আরও জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে গত তিনদিনের লাগাতার কর্মবিরতিতে বন্দরে তিন হাজারের মতো কনটেইনার জট তৈরি হয়েছে। আজকেসহ হিসেব করলে তা সাড়ে তিন হাজার কনটেইনার ছাড়িয়ে যাবে। তাই কর্মবিরতি প্রত্যাহার না করলে অচলাবস্থায় পড়ে যাবে বন্দর।
কর্মবিরতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কার্ভাড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ আরটিভি নিউজকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময় আমাদের সাথে আলোচনা করা হয়নি। সরকারের উচিত ছিল আমাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করার। জ্বালানি তেলের সঙ্গে দেশের প্রতিটা খাত জড়িয়ে আছে। কিন্তু আমরা লোকসান দিয়ে পরিবহন চালাতে পারব না। তাই আমাদের পরিবহন বন্ধ রয়েছে। আমরা এখনও মাঠে আছি। উপযুক্ত সমাধান না আসা পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাবো।
এমআই/এসকে




