জীবন বাজি রেখে জন্মভূমিকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করে যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন শরীরে নিয়ে ফিরে এসেছিলেন যেসব বীরসেনানী, তাদের মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামের ১নং সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা দিদারুল আলম চৌধুরী।
বাংলাদেশের স্বাধীনতায় চট্টগ্রামের ভূমিকা অপরিসীম। ’৭১ সালের ২ মার্চ লালদিঘি ময়দানের প্রতিবাদের স্ফূলিঙ্গ দাবানলের মতো সারা চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য ভূমিকা রাখে। যুদ্ধ করেই দেশ ও স্বাধীনতা এনেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ ও যুদ্ধাহতদের রক্ত দিয়ে স্বাধীন দেশের মানচিত্র তৈরি করেছেন তারা।
ফলে এটাও জরুরি জাতির বীর সন্তানরা কোন দেশের স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা জানা। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ চট্টগ্রামে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। বিকেলে লালদিঘি ময়দানে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাকসুর তখনকার ভিপি মো. ইব্রাহিম। ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তৎকালিন ছাত্রনেতা মৌলভী সৈয়দ এস এম ইউসুফ, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আইয়ুব বাঙালি, আবদুল্লাহ হারুনসহ চট্টগ্রামের প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংসদের ভিপি-জিএসরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ সমাবেশে পাকিস্তানের পতাকায় আগুন দেওয়া হয়।
ডিসেম্বরের প্রথম দিন সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট থেকে আমিন জুট মিল হয়ে কালুরঘাট জুট মিল পর্যন্ত প্রায় ১০০ জায়গায় গেরিলা অপারেশন চলে। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী আগ্রাবাদ এলাকার বেইস ক্যাম্প ঘিরে ফেলে। আমরা লুকিয়ে পড়ি।
চট্টগ্রাম মুক্ত হওয়ার সেই মুহূর্ত স্মরণ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ জনগণ ছিল আমাদের পক্ষে। যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অনেক অবদান। ১৭ ডিসেম্বর সকালে ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন, মইন উদ্দিন খান বাদল, আমিসহ কয়েকজন রেডিও স্টেশন দখল করে ‘চট্টগ্রাম মুক্ত’ এই ঘোষণা দিই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা দিদারুল আলম চৌধুরী আরটিভি নিউজকে আরও বলেন, আমি এক নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। যুদ্ধ চলাকালে আমি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম। চট্টগ্রাম বন্দরে অস্ত্রবোঝাই করে যে সোয়াত জাহাজ এসেছিল সেটা প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ি। আমি ১নং সেক্টরে গোয়েন্দাগিরি করেছি। আমি পাকিস্তানি আর্মিদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য এনে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সরবরাহ করতাম। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই ঘোষণাপত্র আমি হাতে নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দিয়েছিলাম। বিজয়ের ৫০ বছরে যা হওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। তবে এখন গত ১০ থেকে ১২ বছরে সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হচ্ছে। দেশের মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্য রয়েছে এবং সে কারণে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না বলে মনে করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আরও বলেন, আমরা এখন যে অবস্থায় আছি আরও উন্নতি হতে পারত। তবুও এখন আমরা আশাবাদী। তবে পঞ্চাশ বছরে দেশ যে অনেক কিছুতে এগিয়ে গেছে, সেটাও মানেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের যে উন্নতি, তা নিয়ে সন্তুষ্টি যেমন আছে অন্যদিকে না পাওয়ার খুদাও আছে।
এই ভাবেই কথা বললেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম আবহানীর প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম।
এমআই/টিআই




