আলুর জেলা মুন্সীগঞ্জ। আলুর জন্য বিখ্যাত এই জেলা। দেশের সিংহভাগ আলুর চাহিদা মিটে এখানকার উৎপাদিত আলু থেকে। প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয় এই জেলায়। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের ভারি বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় ১৩ হাজারেরও বেশী হেক্টর আলুর জমি। উঁচু জমি থেকে পানি কিছুটা সরলেও নিচু অনেক জমিই এখন পানির নিচে। জমির আইল কেটে পানি নামানের চেষ্টা চলছে। বড় এ লোকসানে নতুন করে জমিতে আলু লাগানো নিয়ে বিপাকে এখানকার কৃষকরা। লোকসান পুষিয়ে উঠতে সহযোগীতার দাবি এখানকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।
সদরের চরাঞ্চলের টরকী এলাকার কৃষক হাজ্বী মোঃ বোরহান মিজি আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, এবার সাড়ে ৫ হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছিলো। এ আলু লাগাতে নানা উপায়ে ধার-দেনা করে যোগাতে হয়েছে। জাওয়াদের টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে জমি পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতো বড় ক্ষতির পর নতুন করে আবার আলু লাগানো বিপাকে পড়েছেন। ফলে সরকারের সহযোগীতা দাবি জানানো হয়।
একই এলাকার কৃষক মোঃ নজরুল ইসলাম মিজি জানালেন তারও ২ হেক্টর আলুর জমির একই অবস্থায়। এই কৃষি কাজের উপর নির্ভর তাদের পরিবার। এ ক্ষতি নিয়ে দিশেহারা একই দাবি তারও।
এদিকে, কৃষকের লোকসানের প্রভাব পড়েছে আলুর শ্রমিকদের উপর। কৃষকের কাছ থেকে আলু লাগানোর কাজের মজুরিসহ বাড়তি টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে আলু শ্রমিকরা। সরকারের সহযোগিতার দাবি তাদের।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয় এই জেলায়। জেলায় আলুর সঙ্গে প্রায় দেড় লাখ কৃষক জড়িত। দেশের সিংহভাগ আলুর চাহিদা মিটে এখানকার উৎপাদিত আলু থেকে। এবারের জেলার আলুর লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ হাজার ৯'শ হেক্টর। ইতোমধ্যে জেলায় ১৭ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছে। এরই মধ্যে ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের ভারি বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় ১৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর আলুর জমি। আক্রান্ত এ আলুর সময় হয়ে গিয়ে ছিল ১৫ দিন থেকে ১ মাসের। ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদের তিন দিন আগে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছিল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ খুরশীদ আলম আরটিভি নিউজকে জানান, জাওয়াদে আক্রান্তে পরিমাণ থাকলেও ক্ষতির পরিমাণ এখন নিরুপন করা হয়নি । আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মাঠ জরিপের মাধ্যমে নিরুপন করা হবে।
এছাড়াও তিনি আরো জানান, আলুর ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের পাঠানোর পর সরকার যদি প্রণোদনা আকারে দেয় তা কৃষকরা যেন সঠিক ভাবে পায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমআই




