
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নলতা গ্রামের মৃত তালেবালী সরদারের মেয়ে বকুলী বেগমকে (৫৩) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন নিতিরা গ্রামের তৎকালীন ভূমখাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবদুর রাজ্জাক পেদা (৬০)।
এলাকায় জানাজানি হলে বকুলি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দ্বারা বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাজ্জাক পেদা সেটা না করে দিয়েছেন। পরে ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন বকুলি। মামলার পর একই বছরের ২০ জানুয়ারি তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বকুলিকে বিয়ে করেন রাজ্জাক। এ ছাড়া তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধারও নেন রাজ্জাক। তিনি রাজ্জাকের দ্বিতীয় স্ত্রী।
পাঁচ বছর সংসার জীবন ভালোই কাটছিলো এই দম্পতির। পরবর্তীতে সামান্য বিষয় নিয়ে রাজ্জাক তার স্ত্রী বকুলিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। তাই স্বামীর কাছে ওই ৮০ হাজার টাকা দাবি করে বকুলি। ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি এ বিষয় নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাজ্জাক তার বাড়ি থেকে বকুলিকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত রাজ্জাক তার স্ত্রীকে দেখভাল করছেন না, বাড়িতেও নিচ্ছেন না। তাই বকুলি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আবারও নারী নির্যাতন মামলা করেছেন। এ মামলায় আসামি রাজ্জাক পেদা। বর্তমান রাজ্জাক জামিনে আছেন।
এ ব্যাপারে বকুলি বেগম বলেন, আবদুল রাজ্জাক পেদা আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ভরণপোষণ, পোশাক দেয় না। আমার অনেক টাকা, স্বর্ণগয়না মেরে খেয়েছে রাজ্জাক। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। তাই আমি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। আমি গরিব বলে কোনো বিচার পাচ্ছি না।
তিনি বলেন, যে মানুষ নিজের স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ খবর নেয় না, ভরণপোষণ দেয় না। সে আবার করবে জনসেবা। যার বিরুদ্ধে মামলা চলমান সে কীভাবে মেম্বার পদে নির্বাচন করে? নির্বাচন অফিস কি তার কাগজ যাচাই-বাছাই করেনি।
অন্যদিকে, নড়িয়া নিতিরা গ্রামের সংখ্যালঘু নিত্যানন্দ মণ্ডলের জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর তোলে আবদুর রাজ্জাক পেদা। গত ২৪ এপ্রিল নিত্যানন্দ মণ্ডলের ছেলে হৃদয় মণ্ডল ও অলক মণ্ডল বাঁধা দিলে তাদের মারধর করে আহত করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় পরের দিন ২৫ এপ্রিল হৃদয় বাদী হয়ে রাজ্জাক পেদাসহ পাঁচজনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি রাজ্জাক পেদা। এই মামলায়ও রাজ্জাক জামিনে আছেন।
নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় আসামী আবদুর রাজ্জাক পেদা জামিনে এসে নড়িয়া উপজেলার ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদ প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন।
এমআই/টিআই




