
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামাল মিয়া নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সে বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। গ্রেপ্তারকৃত কামাল মিয়া বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর গ্রামের মৃত ছলিম উদ্দিনের ছেলে।
দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফি উদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, মামলা দায়েরের পর থেকে কামাল মিয়া দীর্ঘ ১৬ বছর পলাতক ছিল। আজ সকালে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক আরও জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থিতা নিয়ে আসামি কামাল মিয়া ও নিহত রবিউল্লাহর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০০৫ সালের ২৫ এপ্রিল সকালে একটি মামলায় কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিতে যায় রবিউল্লাহ। এমন সংবাদ আসামি কামাল মিয়া জানতে পেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দলবল নিয়ে বাজিতপুর পশু হাসপাতালের কাছে অবস্থান করে। পরে রবিউল্লাহ পশু হাসপাতালের কাছে পৌঁছলে কামাল মিয়া তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র চাপাতি ও ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে আক্রমণ করে। এতে রবিউল্লাহ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার দশ দিন পর ৫মে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত দ্রুত বিচারের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামির ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেন।
দীর্ঘ দিন পর মামলার প্রধান আসামি কামাল মিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার বাদী নিহত রবিউল্লাহর ছেলে জাফর উল্লাহ ফুরকান সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
এমএন




