
নারী পর্যটককে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় দেশের সব মহল থেকে তুমুল আলোচনা-সমালোচনায় তোলপাড় সামাজিকমাধ্যম। বিভিন্ন মহলে এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে ‘চুলচেরা’ বিশ্লেষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নজন তাদের নিজস্ব ‘মতামত’ ব্যক্ত করছেন ভিন্নভাবে।
কতিপয় দুর্বৃত্তের হাতে দফায় দফায় ধর্ষণের শিকার উক্ত নারী পর্যটককে বুধবার রাত দেড়টায় শহরের হোটেল মোটেল জোনের ‘জিয়া গেস্ট ইন’ নামের আবাসিক হোটেলের ২০১নং কক্ষ থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজারের র্যাব-১৫ এর একটি দল। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওই নারীর অভিযোগ ছিল ৯৯৯-এ কল দেওয়ার পর কক্সবাজার সদর থানা থেকে তাকে জিডি করতে বলা হয়।
পরে র্যাবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন ওই নারী পর্যটক। র্যাবের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। সেখান থেকে বিকেলে যান সৈকতের লাবনী পয়েন্টে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগলে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার ৮ মাসের সন্তান ও স্বামীকে সিএনজি অটোরিকশায় করে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তাকে তুলে নেয় তিন যুবক। পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন। ধর্ষণ শেষে তাকে নেওয়া হয় ‘জিয়া গেস্ট ইন’ নামে একটি হোটেলে।
এদিকে পর্যটক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। ‘ফেসবুকে’ তাদের মতামতের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
কক্সবাজার চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, কক্সবাজারে কিছু হোটেলের পরিবেশ নিয়ে আমরা হতাশ। হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে না পারলে হোটেল পরিচালনা না উচিত।
কাউন্সিলর শাহেনা আক্তার পাখি বলেন, পর্যটকরা আমাদের মেহমান। তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা করা সকলের কাম্য। কক্সবাজারের এই ঘৃণ্য ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করাছি। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আমরা লজ্জিত।
কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, যে হোটেলে ধর্ষণ করা হয়েছে সে হোটেলের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।
গণমাধ্যমকর্মী নুপা আলম আক্ষেপ করে বলেন, আসুন নারীটিকে যৌনকর্মী হিসেবে প্রমাণ করি। বিনিয়োগে যা হওয়ার হলো, যারা এটা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবেন তারা পর্যটনের শত্রু। তুষার তুহিন ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, তারা তিন মাস ধরেই কক্সবাজারে।
সমাজকর্মী ও পরিবেশবাদী কলিম উল্লাহ বলেন, কক্সবাজারে যারা আসে তারা সবাই পর্যটক নয়, অনেকে পর্যটককে হয়রানিও করতে আসে। অনেকে আসে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাত করার জন্য। পর্যটক ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা তাড়াহুড়ো না করে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হউক।
আইনজীবী জহিরুল আমিন জহির বলেন, কক্সবাজার জেলাকে আর কত কলঙ্কিত করবেন? কক্সবাজার জেলার নেতা ও প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন রইল।
স্থানীয় দৈনিক সমুদ্রকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক মঈনুল হাসান পলাশ বলেন, দেশের অন্য জেলা থেকে কক্সবাজারে আসা মানেই, তারা পর্যটক এমনটাও কিন্তু না!
এমআই/টিআই




