
নড়াইলের কালিয়ায় স্বামীর পরকীয়া প্রেমের কথা ফাঁস করে দেওয়ার অপরাধে সাথী বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কালিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীসহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সাথী বেগম কালিয়া উপজেলার বাহিরডাঙ্গা গ্রামের মো. ফসিয়ার মোল্লার মেয়ে। তার সাত মাস বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের ভাই সবুজ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওমর মৃধার ছেলে নাসিরের সাথে তার বোন সাথীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। প্রথমে সাথী কাউকে কিছু না জানালেও এক সময় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রতিবেশী এক নারীর সাথে তার স্বামী নাসিরের পরকীয়ার বিষয়টি ফাঁস করে দেয়। ইতোমধ্যে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নাসির তাদেরকে ফোনে সাথীর মৃত্যুর খবর জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারেন স্বামীর পরকীয়ার ঘটনা ফাঁস করার কারণে নাসির ও তার পরিবারের লোকজন তার বোনকে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখে। নিহত সাথীর স্বামী নাসিরসহ তার স্বজনরা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঘটনাটিতে পুলিশ সাথীর স্বামী নাসির মৃধা (২৬) ও নাসিরের ভাবি লাবনী বেগমকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। নাসিরের পরিবারের বাকি সদস্যরা পলাতক রয়েছে।
এ বিষয় কালিয়া থানার ওসি সেখ কনি মিয়া বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় কালিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী নাসির ও তার ভাবী লাবনী বেগমকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে ফলাফল পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএস/এসকে




