ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক শিক্ষকে চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সেন্ট মার্টিন ঘুরে এসে জানাচ্ছেন এইচ এম নাহিয়ান

প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১৪ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৪০ পিএম
জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেন্ট মার্টিন

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে জেগে ওঠা এই দ্বীপটির আয়তন ৮ বর্গমাইল। প্রায় ১১ হাজার মানুষের বসবাস সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নটিতে।তবে দ্বীপবেষ্টিত হওয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে যেমন পিছিয়ে আছে তেমনি শিক্ষা খাতেও পিছিয়ে আছে এখানকার মানুষ।

পুরো দ্বীপে একটিমাত্র সরকারি প্রাথমিক স্কুল ‘জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২০ জন।আর শিক্ষক মাত্র একজন।

বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে স্কুলে নিয়োগ পাওয়া চারজন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত আছেন মাত্র একজন শিক্ষক।একজন নারীঘটিত কেলেঙ্কারির কারণে সাময়িক বরখাস্ত ও বাকি দুজন রয়েছেন ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিইডি) ট্রেনিংয়ে। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজ উদ্দিন আরটিভি নিউজকে জানান, আমি একজনই শিক্ষক, অসুস্থ হলেও আমাকে স্কুলে আসতে হয়। ছুটি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ৭ জন শিক্ষকের কথা থাকলেও নতুন দুই শিক্ষকসহ স্কুলে আছে মাত্র তিনজন শিক্ষক।এর মধ্যে একজন আছেন ডিপিইডি ট্রেনিংয়ে।আর একজন মাত্র গেছেন।তাই আমাকে একাই পুরো স্কুল পরিচালনা করতে হচ্ছে।এর মধ্যে শুধু একজন গেস্ট শিক্ষক আছেন যিনি আমাকে সহযোগিতা করছেন।ফলে শিক্ষকের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে বলে তিনি জানান।

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এখানে সবচেয়ে বেশি সাফার করতে হয় শিক্ষকদের।কারণ, সেন্ট মার্টিনে স্থানীয় শিক্ষক না থাকায় টেকনাফ উপজেলা থেকে এখানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।তাই টেকনাফ থেকে জাহাজে আসা যাওয়া বাবদ খরচ হয় প্রায় একহাজার টাকার মতো। এমনকি ঘাটের যে নির্ধারিত ভ্যাট শিক্ষক হিসেবে তাতেও কোন ছাড় পাই না আমরা।সেই ভ্যাটও পরিশোধ করতে হয় আমাদের।তাছাড়া এই দ্বীপে সবকিছুর দাম কয়েক গুণ বেশি।

তিনি বলেন, আমার বেতন ১১ হাজার টাকা। অথচ মাসে চারবার আসা যাওয়া ও থাকা খাওয়াসহ আমার প্রতিমাসে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা।সরকারিভাবে যাতায়াত ভাড়া যা দেওয়া হয় তা খুবই সামান্য, নামে মাত্র। দ্বীপ এলাকা হওয়ার কারণে এখানে জীবন যাত্রার মান খুবই ব্যয়বহুল। তাই কোনো শিক্ষক পোস্টিং নিয়ে এখানে আসতে চায় না। আবার এলেও বেশি দিন থাকে না বলেও তিনি জানান।

দ্বীপ ভাতা পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্বীপ ভাতার কথা বলতে গেলে খুবই দুঃখ হয়, সবচেয়ে প্রত্যন্ত এলাকা হয়েও সেন্টমার্টিনে আমরা দ্বীপ ভাতা থেকে বঞ্চিত।সরকার শিক্ষার উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, যদি আমাদের জন্য দ্বীপ ভাতার ব্যবস্থা করতেন তাহলে থাকার একটু ঠাঁই হতো।

বিদ্যালয়ের গেস্ট শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্বাস উদ্দিন আরটিভি নিউজকে জানান, জিনজিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।কারণ, পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে দ্রব্যমূল্যের দাম তিনগুণ বেশি।তাছাড়া অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ দ্বীপ হওয়া সত্ত্বেও এখানে শিক্ষকরা দ্বীপ ভাতা পান না।তাই শিক্ষকরা নিয়োগ নিয়ে এখানে আসতে চায় না।

সেন্ট মার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল মিয়া জানান, শিক্ষকের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে। তাছাড়া পর্যটন এলাকা হওয়ায় টাকার নেশা তাদেরকে স্কুলবিমুখ করে দিচ্ছে। পর্যটকদের যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে পাচ্ছে কিছু টাকা, তাই পড়াশোনায় আগ্রহ নেই তেমন একটা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের চেয়ারম্যান শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক স্কুল, যেখানে শিক্ষক সংকট রয়েছে।তাছাড়া দ্বীপের দক্ষিণপাড়ায় কোনো স্কুল নেই।দক্ষিণ পাড়া থেকে জিনজিরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার।বর্ষাকালে ওই এলাকার রাস্তা তলিয়ে গেলে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারে না। তাই এই দ্বীপে আরও দু থেকে তিনটি স্কুলের দাবি জানান তিনি।

শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে টেকনাফ উপজেলা শিক্ষা অফিসার এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সাতজন শিক্ষকের পদ থাকলেও স্কুলটিতে কর্মরত আছেন চারজন শিক্ষক। তবে একজন নারীঘটিত কেলেঙ্কারির কারণে সাময়িক বরখাস্ত।আর দুজন আছেন ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন(ডিপিইডি)ট্রেনিংয়ে।পরীক্ষা শেষে একজনের ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বীপ ভাতার বিষয়ে শিক্ষা অফিসার বলেন, সেন্টমার্টিন একটা ছোট ইউনিয়ন হওয়ায় সরকার দ্বীপ ভাতা দিচ্ছেন না। যে উপজেলাগুলো পুরোপুরি দ্বীপ যেমন কুতুবদিয়া সেখানে দ্বীপ ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু মহেশখালী ও টেকনাফের কোথাও দ্বীপ ভাতা দেওয়া হয় না। তবে পর্যটন এলাকা হওয়ায় পর্যটন ভাতা দিতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে ঘাটের ভ্যাট ও সমুদ্র পথে যাতায়াত ভাড়া কমাতে স্কুল শিক্ষকদের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে জানান শিক্ষা অফিসার।

এমএন/টিআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন আরটিভির বার্তা সম্পাদক তাবিবুর রহমান তালুকদার। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও হিমালয় গ্রুপের সহযোগিতায় ভূঞাপুর, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দি বাজারে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় কম্বল পেয়ে খুশি হন ওই এলাকার গরীব-দুস্থ ও অসহায় মানুষরা। আরটিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা মুফাসসির পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখা ব্যাবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহআলম প্রামানিক, সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম তালুকদার, নীড় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান। এ সময় তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছর আমরা দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে হতাশায় নাফিজ (১৮) নামে এক তরুণ মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ওই ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের পিপলস ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা চেষ্টা করা ব্যক্তি হলেন, উপজেলার মথুরাপুর এলাকার ইহান সর্দারের ছেলে নাফিজ।  স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে আত্মহত্যার জন্য নাফিজ ওই টাওয়ারে উঠেন। এ সময় খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নাফিজের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ নানা রকম মতবিনিময় করেন। পরে তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সময় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।  তারা আরও জানান, এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ভালোবাসেন নাফিজ। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লাফিয়ে পড়তে সাহস না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে তাকে আত্মহননের হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশ। এ বিষয়ে ওসি মজিবুর রহমান জানান, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে নাফিজ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে কৌশলে তাকে বুঝিয়ে উদ্ধার করা হয়। 
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান ২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এম খুরশীদ হোসেন বলেন, নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি রয়েছি। আমরা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। গুলশান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস, ফাইভ স্টার হোটেল, সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি। র‍্যাব প্রধান বলেন, ডিএমপি থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থান ও ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলের অনুষ্ঠানে বাধা নেই। মাদকসেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে আমরা মাঠে আছি। সারাদেশে মানুষ উৎসব করবে। কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে তা করতে হবে। সারা বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নববর্ষের ভিন্ন আয়োজন থাকে। তেমনি আমাদের দেশেও গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের চাপ বেশি থাকে। এজন্যই আমরা এসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, তরুণরা গুলশানকেদ্রিক। তারা বিভিন্নভাবে এ এলাকায় আসতে চায়। আমরা কাউকে নববর্ষ উদযাপনে বাধা দিচ্ছি না। আমরা আধুনিকতা পছন্দ করি। কিন্তু এর নামে বেহায়াপনা করলে সেটাও সমাজ মেনে নেবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা পারিবারিকভাবে এটি পালন করতে উৎসাহ দিচ্ছি।
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
মাদারীপুরের ঘটকচর এলাকায় বাসের ধাক্কায় খালে পড়ে ডুবে গেল একটি প্রাইভেটকার। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা তিন যাত্রীসহ চালক আহত হয়েছে।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মওলা রসুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  আহত চালক চাপাইনবাগঞ্জের গোমস্তপুর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামের মিরাজ মণ্ডলের ছেলে জামিরুল ইসলাম মণ্ডল। স্থানীয়রা জানান, একটি পরিবারের তিন সদস্য শনিবার বিকেলে বরিশাল থেকে একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় প্রাইভেটকারটি যখন ওই এলাকায় পৌঁছায়, তখন পিছন থেকে যাত্রীবাহী পরিবহন প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি পাশের একটি খালে পড়ে ডুবে যায়।  তারা আরও জানান, প্রাইভেটকারটি থেকে তিন যাত্রী ও চালককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিল। আহতদের বাড়ি ভোলা জেলায়। তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে যাত্রীরা চলে যায়। এরপর হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।  ওসি মো. গোলাম মওলা রসুল জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। খালে পানি কম থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে যাত্রী ও চালক রক্ষা পেয়েছে। পরিবহনটিকে আটক করা যায়নি। 
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
আরও পড়ুন
কক্সবাজার সৈকতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটের’ আয়োজন নিষেধ
বাড়ির পাশের গর্ত থেকে মিলল ইয়াবা, গ্রেপ্তার ৩ 
খাল থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
সমুদ্রে গোসল করতে নেমে অজ্ঞান হয়ে পর্যটকের মৃত্যু