
কুষ্টিয়ায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ৬টি শিয়াল ছানাকে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাতে কুষ্টিয়া শহরের থানা পাড়া পলান বক্স রোডে ভূমি অফিসের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন বিবিসিএফ সহসভাপতি ‘দ্য ফক্স ম্যান’খ্যাত শাহাবউদ্দিন মিলন বলেন, আমার ১৬ জোড়া শিয়ালের এবার ছানা হয়েছে। কারও দুইটা, কারও চারটা আবার কারও ছয়টা। দলনেতা শেরু বাহিনীর এবার ছয়টি ছানা হয়েছে। মা কাঞ্চি সব সময় ওদের দেখভাল করে।
তিনি আরও জানান, ছানাগুলোর প্রশিক্ষণ চলছিল। সবেমাত্র ওদের নাম রাখা হয়েছে। মা-বাবার সঙ্গে আমার কাছে আসতে শুরু করেছিল ছানাগুলো। তাদের সঙ্গে এভাবেই ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয়। প্রতি বছর এভাবে প্রতিটি বাচ্চাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বড় করা হয় যেন কারও কোনো ক্ষতি না করে, কাউকে কামড় না দেয়। কিন্তু এ সমাজে কিছু মানুষরূপী অমানুষ আছে, যাদের মনে ভালোবাসা নেই। ক্রোধ আর হিংসায় ভরা এদের মন। আজ তাদেরই রোষাণলে পড়ে এ ছানাগুলোর জীবন দিতে হলো। খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বাচ্চাগুলোকে খেতে দিলে অবলা বাচ্চাগুলো না বুঝে খেয়ে মারা যায়। শেরু আর কাঞ্চি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে সন্তানদের এ মৃত্যু। তাদের দু’চোখ বেয়ে নীরবে শুধু অশ্রু ঝরে।
শাহাবুদ্দিন আরও জানান, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও বিবিসিএফের সঙ্গে কথা বলেছি। এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা নিতে হবে।
এ বিষয়ে বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, বিবিসিএফ সহসভাপতি শাহাবউদ্দিন মিলনের মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি কুষ্টিয়ায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ৬টি শিয়াল হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশে শিয়াল হত্যায় জেল-জরিমানার নজির অনেক আছে। তাই এ ধরনের কাজ না করার জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন করতে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক গণমাধ্যমকর্মী নাব্বির আল নাফিজ বলেন, কুষ্টিয়ায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ৬টি শিয়াল হত্যা করা হয়েছে। এভাবে মাঝে মধ্যে গোটা জেলায় শিয়াল, মেছো বাঘসহ বিভিন্ন ধরনের বিপন্ন বন্য প্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে সাধারণ মানুষ বন্য প্রাণী হত্যা করতে আরও উৎসাহী হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে প্রণীত আইন রয়েছে। আইন প্রয়োগ করে বন্য প্রাণী হত্যার শাস্তি দিলে মানুষ সচেতন হবে। না হলে এমন হত্যাকাণ্ডের ফলে আমাদের ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হবে।




