
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে গুণগত মান ঠিক রাখতে চলতি মাস থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে খাবারের দাম বাড়িয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। ফলে দুপুরের খাবারে ২৪ টাকার পরিবর্তে ২৮ টাকা এবং রাতের খাবারে ১৮ টাকার পরিবর্তে ২২ টাকা গুণতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তবে খাবারের দাম বাড়লেও মান বাড়েনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
রোববার (৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ তথ্য পাওয়া যায়।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা, মাদার বখশ, নবাব আব্দুল লতিফ, শাহ মখদুম হলসহ প্রায় প্রতিটি হলে পূর্বের মতোই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। হল কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি হলে একই খাবার পরিবেশন করার কথা জানালেও কোনো প্রকার তালিকা ছাড়াই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে ডাইনিংগুলোতে। পাশাপাশি খাবারের মান তদারকির জন্য ডাইনিংগুলোতে পরিদর্শক দলের যাওয়ার কথা থাকলেও এ কয়দিনে পরিদর্শনে যায়নি কোনো পরিদর্শক দল।
শিক্ষার্থীরা জানান, ডাইনিংয়ে খাবারের মান পূর্বের মতোই রয়েছে। খাবারের মান বা পরিমাণ কোনোটা বাড়েনি। পাশাপাশি ভর্তুকি না দিয়ে প্রশাসনের খাবারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে হল প্রশাসন জানান, খাবারের মান যে একদম বাড়েনি তা না, আর চার টাকা দিয়ে খাবারের মান খুব একটা বাড়ানোও সম্ভব না।
এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহলের সঙ্গে। খাবারের মান বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪ টাকা দিয়ে তো দুয়েকটা ক্ষেত্রেই খাবারের মান বৃদ্ধি করা যাবে। সব ক্ষেত্রে বাড়ানো যাবে না। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারে ভর্তুকি দেওয়ার সিস্টেমও নেই। আমরা এ বিষয়ে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসেছি, ইউজিসিতে কথা বলেছি, কিন্তু তারা আমাদের ভর্তুকি দিতে রাজি হয়নি।
খাবারের তালিকা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের এই প্রাধ্যক্ষ বলেন, গত ৩০ জুন আমরা প্রতিটি হলের ডাইনিংয়ে বাবুর্চিদের সঙ্গে বসেছিলাম। আমরা তাদের একটা তালিকা দিয়েছি, আবার তাদের থেকেও তালিকা চেয়েছি। তারা আমাদের তালিকা দেয়নি এখনও। এ প্রসঙ্গে আমরা আবার বসব।
পরিদর্শক দলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা হলের কর্মকর্তা এবং আয়াদের দেখভাল করতে বলেছি। আর কয়দিন আমরা হলে সিট সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আগামীকাল (সোমবার) থেকে এ বিষয়গুলো ভালোমতো পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, টাকা বাড়ানোর পরেও খাবারের মান অপরিবর্তিত থাকবে এমনটা তো হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলব। আর খাবারের তালিকাটা শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নির্ধারণ করলে ভালো হয়। তাহলে সে অনুযায়ী আমরা প্রতিদিনের খাবারের তালিকা নির্ধারণ করব। আর তদারকির বিষয়েও আমি প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলব।




