
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যার দয়ে স্বামীসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাবিবা মণ্ডল এ রায় দেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর উপজেলার পালসন গ্রামের মৃত আরিফ উল্ল্যাহ ফকিরের ছেলে জিল্লুর রহমান, মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে গোলাপ হোসেন ও খারতাপাড়ার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ মণ্ডল। নিহত গৃহবধূ চায়না খাতুন দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাপ হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে পরিবারের অমতে চায়নাকে বিয়ে করেন গোলাপ। পরে শেরপুরের মির্জাপুরে বসবাস করছিলেন তারা। সম্পর্কের বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের এক বছর পর বিচ্ছেদও হয়। তবে তালাক হলেও চায়না ও গোলাপের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে গোলাপকে তার পরিবার চাপ সৃষ্টি করে। এসব কারণে গোলাপ চায়নার সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে বিচ্ছিন্ন করতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
এদিকে হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ রাতে শেরপুর উপজেলার পালসন গ্রামে চায়নাকে ডেকে নেন গোলাপ। পরে গোলাপকে সহযোগিতার জন্য ফরহাদ ও জিল্লুর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে গল্প করার সুযোগে চায়নার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে তারা। পরে আসামিরা চায়নার মরদেহ একই গ্রামের এক বাড়ির সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে লুকিয়ে রাখেন। এ ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে চায়নার পরিবার মরদেহ শনাক্ত করে এবং নিহতের ভাই হাফিজার রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার দুই বছর পর চার্জশিট দেয় পুলিশ। এরপর মামলায় দীর্ঘদিন ধরে শুনানি চলছিল। এর মাঝে মামলার আরেক আসামি গোলাপের বাবা জহুরুল হক মারা যান। পরবর্তীকালে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার মামলার তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নাছিমুল করিম হলি জানান, হত্যা মামলায় দুই বছর পর জুন মাসে চার্জশিট দেয় পুলিশ। পরে মামলায় দীর্ঘ দিন ধরে শুনানি চলে। ইতোমধ্যে মামলার আরেক আসামি গোলাপের বাবা জহুরুল হক মারা যায়। তবে দীর্ঘ ২৬ বছর পর বুধবার দুপুরে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।




