
নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন ফারুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে অনাস্থা জানিয়েছেন ওই ইউনিয়নের আট সদস্য।
রোববার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ফখরুল হাসানের নিকট অভিযোগপত্র জমা দেন তারা। এ ছাড়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর বরাবর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
ইউপি সদস্যরা হলেন, রাজিয়া বেগম, হোসনেআরা বেগম, গাজী হাফিজুর রহমান, খন্দকার মঈন, আলী ইমাম সরদার, জাহাঙ্গীর আলম, সাধন কুমার বিশ্বাস ও পান্না বিশ্বাস।
অভিযোগে তারা উল্লেখ দাবি করেন, চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন ফারুক প্রায় এক বছর ধরে ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে এলজিএসপি, এডিবিসহ বিভিন্ন সরকারি ভাতার কাজ গোপনে একা বাস্তবায়ন করছেন। অধিকাংশ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত ৮ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান তার বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়ে কয়েকজন সদস্যকে আহত করে। পরে এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ইউপি সদস্য আলী ইমাম সরদার অভিযোগ করে বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে হামলার শিকার হতে হয়। গত ৮ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে রুখালী গ্রামের মনোর খাল এলাকার আলমের চায়ের দোকানে আমাদের কয়েকজন মেম্বারের ওপর চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। এ সময় আমাদের ওপর এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় আমরা নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেই। এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছি।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন ফারুক বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে করে যাচ্ছি। কয়েকজন ইউপি সদস্য এসব কাজের ক্ষেত্রে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আমি কোন অনৈতিক সুবিধা দেয়নি। যার কারণে আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। অভিযোগে বিষয়গুলি তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি শাস্তি ভোগ করতে রাজি আছি।
তিনি আরও বলেন, মেম্বররা আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়ার কে? জনগণ যদি কখনো আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা দেয়, তাহলে পদত্যাগ করবো। ইউপি সদস্যদের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মেম্বারদের ওপর হামলার বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে।
নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বরত উপ-পরিচালক মো. ফকরুল হাসান বলেন, বিছালী ইউনিয়নের আটজন সদস্য উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবো। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




