
নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের প্রধান সড়ক ও সেতু ভেঙে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। দ্বীপের প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থা। সড়কের অনেকাংশে বিশাল বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরটিলা ঘাট থেকে নামার বাজারে যাওয়ার পথে চেউয়াখালী এলাকার রাস্তায় বিশাল গর্ত। যাত্রী নামিয়ে খালি গাড়ি পার করছেন চালকরা। মোটরসাইকেল পার হলেও সিএনজি ও টমটম পার করতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। দু-তিন জন মিলে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করছেন।
সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন জানান, এই ভোগান্তি প্রতিদিন ভোগ করছি। গাড়ি থেকে নামিয়ে রাস্তার ভাঙা অংশে মালামাল মাথায় বহন করে পার করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে। পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আরেক সিএনজিচালক রুবেল জানান, আগে বন্দরটিলা ঘাট থেকে নামার বাজার পর্যন্ত সড়কে চার থেকে পাঁচটি ট্রিপ দেওয়া যেত। এখন এক টিপের বেশি দেওয়া যায় না। এই দ্বীপে গাড়ি চলানোর মতো অবস্থা নেই। পর্যটকরা রাস্তার অবস্থা দেখে বিরক্ত।
ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে এসেছি। এখানকার প্রধান সড়কের পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে বোনকে নামিয়ে রাস্তা পার হয়েছি। নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য দেখতে এসে ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন হলো।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে আইলা প্রকল্প থেকে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। বন্দরটিলা ঘাট থেকে নামার বাজার বিচ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের এই সড়ক সম্পূর্ণ আরসিসি ঢালাই দিয়ে তৈরি।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার নুর নাহার বেগম জানান, সিডিএসপি বাজারের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অন্যান্য সেবার সঙ্গে প্রসূতি রোগীদের সেবাও দেওয়া হয়। এখানে প্রতিমাসে গড়ে ৩০ জন রোগীর নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। কিন্তু প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থার ফলে, অনেক রোগী এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে পারছেন না।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান দিনাজ উদ্দিন জানান, সড়ক পথে নিঝুম দ্বীপে আসা পর্যটকদের এই রাস্তায় চলাচল করতে হয়। দ্বীপের চার পাশে বেড়িবাঁধ নেই। অস্বাভাবিক জোয়ার হলে সড়কের ওপর পানি প্রবাহিত হয়। অনেক আগে তৈরি করা সড়কটি জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গেলেও আর মেরামত করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাঝে মধ্যে মাটি দিয়ে গর্ত ভরে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে তা আরও দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। সড়কটি নতুন করে তৈরি করতে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হয়েছে।




