
ভূমি সেবা নিয়ে ভয় কেটে গেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মানুষের। ভূমির মালিকদের আস্থার স্থলে পরিণত হয়েছে সেখানকার ভূমি অফিস। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া সেবা পাচ্ছেন ভূমি মালিকরা। এ কারণে সাধারণ মানুষের কাছে জনবান্ধব অফিসে পরিণত হয়েছে।
সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল আলমের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে সীতাকুণ্ড ভূমি অফিস একটি জনবান্ধব ভূমি অফিসে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, জনগণের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সহকারী কমিশনার নিজ অফিস রুমে বাইরে বসে প্রতি সপ্তাহের বুধবার গণশুনানি করেন। মনিটরিং করার জন্য ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুমে ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। তিনি আসার পর এ পর্যন্ত আদালতের জাল আদেশ দাখিল, জাল ওয়ারিশ সনদ, জাল দলিল সৃজনের কারণে বিভিন্ন দণ্ড প্রদান করেছেন। এ ছাড়া সমুদ্র থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা, মাটি কাটা, পুকুর ভরাট, সরকারি সম্পত্তি দখলের কারণে অনেককে দণ্ড দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়। ভাটিয়ারী থেকে আসা নন্দন রায় সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কয়েক বছর ধরে ঘুরেছেন, কিন্তু সমাধান পাননি। কমিশনার আশরাফুল আলমের সঙ্গে দেখা করে তার সমস্যার কথা বললে তিনি তাৎক্ষণিক তার সমস্যার সমাধান করেন।
আরেকজন সেবাপ্রার্থী রুপম দাস জানান, তিনি তার বিধবা ফুফুর জীবনস্বত্বের নামজারির জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেফিরে ব্যর্থ হয়ে সহকারী কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি গত বুধবার সংশ্লিষ্ট সহকারীকে নামজারি সৃজনের নির্দেশ দেন। ১ হাজার ১৫০ টাকা সরকারি ফি’র বিনিময়ে নামজারী খতিয়ান হাতে পান।
সেবাপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেনের কাছে বর্তমান ভূমিসেবা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সীতাকুণ্ডে আসার পর থেকে পাহাড়খেকো, ভূমিখেকো, দালালরা আতঙ্কে রয়েছেন।
সেবাগ্রহীতা হিসেবে কলেজশিক্ষক ইয়াকুব আলী বলেন, আমি বর্তমান সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সেবা ও আচরণে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। দিন বদলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম বলেন, জনবান্ধব জনসেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। একজন মানুষও যাতে ভোগান্তির শিকার না হয়, সেজন্য ভূমি অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তৎপর রয়েছেন। তবে আইনগত কারণেই সকল মানুষকে সকল সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। তারপরও আমরা সবসময়ই চেষ্টা করি সর্বোচ্চ সেবা দিতে। আমরা পাহাড়খেকো, সরকারি ভূমিখেকো, দালাল ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




