
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ডা. মো. আবু হামেদ বাবুর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় নুসরাত জাহান নামের ২২ মাস বয়সী এক শিশুর হাত বিকলের অভিযোগ উঠেছে। নুসরাত আখাউড়া পৌরসভার মসজিদপাড়া এলাকার প্রবাসী মোজাহিদুর রহমান সাগরের মেয়ে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানান, খেলতে গিয়ে ডান হাতে ব্যথা পায় নুসরাত। ডা. মো. আবু হামেদ বাবু শিশুটিকে দেখে ডান হাত এক্স-রে করার কথা বলেন। পরিবার এক্স-রে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর তিনি জানান ডান হাত ভেঙে গেছে। তখন তিনি শিশুটির ডান হাতে প্লাস্টার করে দেন।
দুই সপ্তাহ পর হাতের প্লাস্টার খুলে দেখেন শিশুর হাত আরও বেঁকে গেছে। এ সময় পুনরায় হাত প্লাস্টার করে দেন ডাক্তার। এরপর হাতের অবস্থা আরও খারাপ হলে ওই চিকিৎসক শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, শিশু নুসরাত ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত খতিয়ে দেখা উচিত। সঙ্গে চিকিৎসককে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসারও দাবি জানান।
শিশুর চাচা হুমায়ূন আহমেদ বলেন, আমার ভাতিজি সুস্থ ছিল, খেলতে গিয়ে হাত ব্যথা পেয়েছে। কিন্তু ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার ভাতিজির হাত বিকলের পথে। ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অভিযোগ ও আদালতে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে ডা. আবু হামেদ বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে শিশুটিকে চিকিৎসার দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরে প্রেসক্রিপশন দেখে তিনি চিকিৎসা দেওয়ার কথা শিকার করেন। তিনি জানান, খেলাধুলা করতে গিয়ে হাত বেঁকে গেলে, ঠিক হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন ডা. একরামউল্লাহ বলেন, ভুল চিকিৎসার বিষয়ে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডা. হামেদ হোসেনের মালিকানাধীন গ্রিন ভিউ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় গত ৪ ডিসেম্বর মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটনা ঘটে। গ্রিন ভিউ স্পেশালাইজড হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জিনিয়া খানের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করানো হয় ওই প্রসূতিকে। চিকিৎসক জিনিয়া খান ডা. আবু হামেদ বাবুর স্ত্রী।




