ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চিনির লোকসান মাথায় নিয়েই কেরুর আখ মাড়াই মৌসুম শুরু

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:০৫ পিএম
ছবি : আরটিভি

চিনিখাতের লোকসান মাথায় নিয়েই ২০২২-২৩ অর্থ বছরের আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করেছে ৮৩ বছরেরও বেশি পুরনো প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। এবার প্রায় ৪ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনিশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু। চলতি মৌসুমে ৫৩ মাড়াই কার্য দিবসে ৬২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেরু কর্তৃপক্ষ।


চলতি মৌসুমে চিনিখাতে লোকসান কমিয়ে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কেরু। চিনিখাতে লোকসান হলেও চলতি বছর দেশে বিদেশী মদের আমদানি কমে যাওয়ায় মদের বেচাবিক্রি ও মুনাফায় রেকর্ড করে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। এই প্রথমবারের মতো বিভিন্ন ইউনিট থেকে মোট বেচাবিক্রি ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানটি। যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ বছর শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট বা মদ বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকা। লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকারও বেশি যা কোম্পানিটির এযাবৎ কালের রেকর্ড। গত বছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ প্রুফ লিটার বেশি মদ বিক্রি করেছে কেরু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাফফুজুর রহমান মনজু, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা বেগম প্রমুখ।

বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনিশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু জানান, আখের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আখচাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে এক দফায় আখের দাম বাড়ানে হয়েছে। আগামী মৌসুমে আবারও আখের দাম বাড়ানো হবে। এতে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ ফিরবে।

দেশের চিনির বাজারে চাহিদা নিয়ে তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ চিনির চাহিদা রয়েছে তা দেশের চিনিকলগুলো পূরণ করতে পারে না। তাই আমদানীর ওপর নির্ভর থাকতে হয়। যদি আখচাষ বাড়ে, তাহলে সে চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, চিনিখাতটি লাভজনক পর্যায়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ডিস্ট্রিলারির মতো কেরুর সবখাতকে লাভজনক করা হবে। আখচাষে আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে কৃষকদের। আখচাষীদের সকল ধরণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষদের সঙ্গে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক চলমান রয়েছে।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, এবার ৪ হাজার ২৩০ একর জমিতে আখ দণ্ডায়মান রয়েছে। যার মধ্যে কেরুর নিজস্ব জমির পরিমাণ ১ হাজার ৫০ একর। বাকী ৩ হাজার ১৮০ একর কৃষকদের জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। আখের সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক পদ্ধতিতে আখচাষ ও মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের সার্বিক দেখভালের কারণে এবার আখের ফলন ভালো হয়েছে। যে কারণে ধারণা করা হচ্ছে, আখ মাড়াইসহ চিনি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জন সক্ষম হবে।

অপরদিকে, ২০২২-২৩ আখ রোপণ মৌসুমে আনুষ্ঠানিকভাবে আখ রোপণ শুরু করা হয় গত ১ সেপ্টেম্বর। এ বছর ৭ হাজার জমিতে আখ রোপনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭০০ একর জমিতে আখ রোপন সম্পন্ন হয়েছে। তবে, গতবারের তুলনায় এবার আখের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। মিল গেটে ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০ টাকা। এছাড়া আখক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ১৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭৬ টাকা।

কেরুর দেয়া তথ্য মতে, চলতি বছর শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট বা মদ বিক্রি হয়েছে ৩৬৭ কোটি টাকার। যা কেরুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই প্রথম ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে কেরু। গত বছর এই ইউনিট থেকে লাভ ছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা। এদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও চিনি ইউনিটে বড় ধরণের লোকসান হয়েছে কেরুতে যা প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে চিনি ইউনিটে লোকসান সমন্বয়ের পরও কোম্পানির নীট মুনাফা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। যা গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে ছিল ১৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ সালে অন্য বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়ে কেরুর উৎপাদিত মদের বেচা বিক্রি। গত বছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৩০ শতাংশ বেড়েছে কেরুর মদের চাহিদা। অর্থাৎ, প্রায় ১০ লাখ প্রুফ লিটার বেশি মদ বিক্রি করেছে কেরু। প্রতি মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার কেস কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি হয়ে থাকে। উৎপাদনও সে অনুযায়ী করা হয়। কেরু অ্যান্ড কোং ১৭৫ মিলিলিটার, ৩৭৫ মিলিলিটার ও ৭৫০ মিলিলিটারের বোতলে মদ বাজারজাত করে থাকে। একটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি, ৩৭৫ মিলিলিটারের ২৪টি ও ১৭৫ মিলিলিটারের ৪৮টি মদের বোতল থাকে। কেরুতে রয়েছে মদের ৯টি ব্র্যান্ড। ব্র্যান্ডগুলো হচ্ছে- ইয়েলো লেবেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, চেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, অরেঞ্জ কুরাকাও, জারিনা ভদকা, রোসা রাম ও ওল্ড রাম।

কেরু সূত্র আরও জানায়, দেশে বিদেশি মদের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় কেরুর মদের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। গত বছর শুল্ক ফাঁকি রোধে মদ আমদানিতে নজরদারি বাড়ায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বৈধপথে হ্রাস পায় মদ আমদানি। তাই বিদেশি মদের সংকট দেখা দেয় দেশের অনুমোদিত বারগুলোতে। তারপর থেকে ক্রমেই বৃদ্ধি পায় দেশে উৎপাদিত মদের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে উৎপাদন বাড়ায় কেরু। এতেকরে কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে মুনাফার পরিমাণ। কেরুতে বর্তমানে ৯টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত ১০ লাখ ৮০ হাজার প্রুফ লিটার মদ, ২৬ লাখ লিটার দেশি স্পিরিট ও ৮ লাখ লিটার ডিনেচার্ড স্পিরিট উৎপাদন করা হয়। মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সার, চিনি ও গুড়ের মতো অন্যান্য পণ্যও উৎপাদন করে থাকে কেরু।

কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ফিদাহ হাসান বাদশা জানান, বর্তমানে কেরুতে চিনি, ডিস্টিলারি, ফার্মাসিউটিক্যালস, বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়িয়া খামার (পরীক্ষামূলক) এবং জৈব সার এই ছয়টি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে শুধু ডিস্টিলারি ও জৈব সার ইউনিটই লাভজনক। আখের রসের গুড় থেকে অ্যালকোহল ও বিভিন্ন ধরনের স্পিরিট তৈরি করে থাকে কোম্পানিটি। যা চিনি উৎপাদনের উপজাত। চিনি উৎপাদনের জন্য আখের রস আহরণের পর তিনটি উপজাত পাওয়া যায়। এরমধ্যে রয়েছে গুড়, ব্যাগাস ও প্রেস মাড। মদ বা অ্যালকোহল উৎপাদনের প্রধান উপাদান হল গুড়। গুড়ের সাথে ইস্ট প্রক্রিয়াকরণের পরে তৈরি করা হয় অ্যালকোহল।

দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি শেষ হলে উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া পাবনার রূপপুর, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ১টি করে বিক্রয় কেন্দ্র এবং রাজশাহী ও রামুতে ১টি করে ওয়্যারহাউস নির্মাণের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে সারাদেশে কেরুর ১৩টি ওয়্যারহাউস ও ৩টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।এরইমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কেরুর ২টি নতুন বিক্রয়কেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, বিক্রয়কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করার জন্য পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে।

কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার অপব্যবহার রোধে তৈরি একটি সফটওয়্যার ব্যবহার নিয়ে রেষারেষি হয় বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বেসরকারি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলোর মধ্যে। এই কারণে কমে গেছে বিদেশি মদের সরবরাহ। এরই জেরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদের চাহিদা। সারাদেশে ১৩টি ওয়্যারহাউস ও তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যে বাড়তি চাহিদা পেয়েছি। এরমধ্যে ঢাকা ও শ্রীমঙ্গল ওয়্যারহাউসের চাহিদা সব থেকে বেশি।

তিনি জানান, গত বছরের থেকে এবার ৩০ শতাংশ বেড়েছে বেচাবিক্রি। বর্তমানে দেশে মদের চাহিদা পূরণে কোম্পানির বিদ্যমান ক্যাপাসিটির ব্যবহার বেড়েছে। এখনও একটি বড় অংশ অব্যহৃত রয়েছে। এরপরও চাহিদা বাড়লে তা পূরণে মদ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দর্শনা চিনিকলে আখ মাড়াই মৌসুম কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে ও কেরুকে আধুনিকায়ন করতে দ্বিতীয় একটি ইউনিট নির্মাণের কথা জানান শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

কারণ মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জৈব দ্রাবকের মতো অন্যান্য পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। দেশে অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে বিয়ার তৈরির লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইউনিটটি স্থাপন করা হবে বলে কেরুর একটি সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যে ওই বিষয়ে আগ্রহও দেখিয়েছে বেশকিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন আরটিভির বার্তা সম্পাদক তাবিবুর রহমান তালুকদার। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও হিমালয় গ্রুপের সহযোগিতায় ভূঞাপুর, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দি বাজারে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় কম্বল পেয়ে খুশি হন ওই এলাকার গরীব-দুস্থ ও অসহায় মানুষরা। আরটিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা মুফাসসির পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখা ব্যাবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহআলম প্রামানিক, সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম তালুকদার, নীড় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান। এ সময় তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছর আমরা দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে হতাশায় নাফিজ (১৮) নামে এক তরুণ মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ওই ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের পিপলস ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা চেষ্টা করা ব্যক্তি হলেন, উপজেলার মথুরাপুর এলাকার ইহান সর্দারের ছেলে নাফিজ।  স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে আত্মহত্যার জন্য নাফিজ ওই টাওয়ারে উঠেন। এ সময় খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নাফিজের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ নানা রকম মতবিনিময় করেন। পরে তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সময় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।  তারা আরও জানান, এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ভালোবাসেন নাফিজ। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লাফিয়ে পড়তে সাহস না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে তাকে আত্মহননের হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশ। এ বিষয়ে ওসি মজিবুর রহমান জানান, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে নাফিজ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে কৌশলে তাকে বুঝিয়ে উদ্ধার করা হয়। 
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান ২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এম খুরশীদ হোসেন বলেন, নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি রয়েছি। আমরা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। গুলশান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস, ফাইভ স্টার হোটেল, সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি। র‍্যাব প্রধান বলেন, ডিএমপি থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থান ও ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলের অনুষ্ঠানে বাধা নেই। মাদকসেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে আমরা মাঠে আছি। সারাদেশে মানুষ উৎসব করবে। কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে তা করতে হবে। সারা বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নববর্ষের ভিন্ন আয়োজন থাকে। তেমনি আমাদের দেশেও গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের চাপ বেশি থাকে। এজন্যই আমরা এসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, তরুণরা গুলশানকেদ্রিক। তারা বিভিন্নভাবে এ এলাকায় আসতে চায়। আমরা কাউকে নববর্ষ উদযাপনে বাধা দিচ্ছি না। আমরা আধুনিকতা পছন্দ করি। কিন্তু এর নামে বেহায়াপনা করলে সেটাও সমাজ মেনে নেবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা পারিবারিকভাবে এটি পালন করতে উৎসাহ দিচ্ছি।
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
মাদারীপুরের ঘটকচর এলাকায় বাসের ধাক্কায় খালে পড়ে ডুবে গেল একটি প্রাইভেটকার। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা তিন যাত্রীসহ চালক আহত হয়েছে।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মওলা রসুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  আহত চালক চাপাইনবাগঞ্জের গোমস্তপুর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামের মিরাজ মণ্ডলের ছেলে জামিরুল ইসলাম মণ্ডল। স্থানীয়রা জানান, একটি পরিবারের তিন সদস্য শনিবার বিকেলে বরিশাল থেকে একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় প্রাইভেটকারটি যখন ওই এলাকায় পৌঁছায়, তখন পিছন থেকে যাত্রীবাহী পরিবহন প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি পাশের একটি খালে পড়ে ডুবে যায়।  তারা আরও জানান, প্রাইভেটকারটি থেকে তিন যাত্রী ও চালককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিল। আহতদের বাড়ি ভোলা জেলায়। তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে যাত্রীরা চলে যায়। এরপর হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।  ওসি মো. গোলাম মওলা রসুল জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। খালে পানি কম থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে যাত্রী ও চালক রক্ষা পেয়েছে। পরিবহনটিকে আটক করা যায়নি। 
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
আরও পড়ুন
গরুর গুঁতোয় প্রাণ গেল বৃদ্ধের
গণমিছিলের প্রস্তুতিকালে বিএনপির সদস্য সচিবসহ আটক ৮, কর্মসূচি পণ্ড
নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়