
ঝিনাইদহে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারকে অত্যাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে নির্যাতিত সংখ্যালঘু পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন তন্ময় মজুমদার। তিনি শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামের তুষার কান্তি মজুমদারের ছেলে।
এতে চিন্ময় কুমার মজুমদার, তুষার কান্তি, অমলা রানী মজুমদার ও তাপসি মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তন্ময় মজুমদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঝিনাইদহ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শিমুলের নির্দেশে ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ফরিদ মেম্বর ও মাহাতাব খা আমাকে শ্রীপুর বাজারে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যম্পে সই করিয়ে জমি লিখে নেয়।
এ ঘটনায় আমার বাবা তুষার কান্তি মজুমদার নিজের প্রাণ রক্ষা ও শিমুলের হাত থেকে জমিজমা রক্ষার্থে আমার নামে মামলা করে জেলে পাঠিয়ে দেন। আমি গেল বছরের ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছেরের ২৬ সেপ্টম্বর পর্যন্ত কারাভোগ করি। কারাগারে থাকা অবস্থায় শিমুলের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার পরিবারের উপর অকথ্য নির্যাতন ও অত্যাচার করে।
তন্ময় মজুমদার আরও বলেন, শিমুলের লোকজন বাড়ি হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, মিথ্য মামলা দিয়েও হয়রানী করে। তারা পুকরের মাছ ও গাছের নারিকেল লুটপাট করে।
এ সময় তন্ময় আরও অভিযোগ করেন, আলফাপুর রতনহাট বগুড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চল্লিশ শতক জমি দান করা হলেও দাতা সদস্য হিসেবে তার পিতার কোন নাম রাখেনি। এলাকার আতিয়ার, লাল মিয়া, কামাল ও বিল্লাল আমাদের বেনামাকৃত জমি ফেরত দিবে বলে কথা দিলেও যুবলীগ নেতা শিমুলের কারণে জমি ফেরত দিচ্ছে না।
এছাড়া দুইটি পুকুরের লীজের টাকাও দিচ্ছে না। শিমুল ও তার সন্ত্রাসী দলবলের হাত থেকে পরিবারকে রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তেক্ষেপ কামনা করেন তন্ময়।
বিষয়টি নিয়ে শফিকুল ইসলাম শিমুলের কাছে জানতে চাইলে, তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়। রাজনীতি ও সামাজিক প্রতিহিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার ছবি ও রাজনৈতিক পদপদবী উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে যে মিথ্যাচার করা হয়েছে এটা নিন্দনীয়। আমি দুই পক্ষকে ডেকে একটি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্ত নানান প্রতিকুলতার কারণে বিষয়টি সমাধান সম্ভব হয়নি। তাছাড়া তন্ময় মজুমদারের পরিবারের বিরুদ্ধে জমি বিক্রি নিয়ে নয়ছয় করার অভিযোগ আছে।
এদিকে তন্ময় মজুমদার সংবাদ সম্মেলেন করার পরপরই তার প্রতিপক্ষ মাহাতাব খাঁ সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন তন্ময় মজুদমার জমি বিক্রির জন্য অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করলেও তিনি টাকা নিয়ে জমি দিচ্ছেন না। তন্ময় মজুমদার তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় জমি বিক্রির চুক্তি করে অগ্রিম ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহন করেন। বাকি ৬০ হাজার টাকা জমি রেজিষ্ট্রির সময় নিবেন বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন।
এদিকে মাহাতাব খাঁ যে অঙ্গীকারনামা সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শন করেন তাতে জমির পরিমান ২৯ শতকের স্থানে ৬৯ শতক ও ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্থানে ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেখা আছে। ফলে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখা এই অঙ্গীকারনামা সঠিক কি না, তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে মাহাবাব খাঁ ও তার সঙ্গে উপস্থিত থাকা কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।




