
জয়পুরহাটে এই প্রথম অধিক খাদ্য গুণাগুণ সম্পন্ন বেগুনি ফুলকপির বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে। বাজারে সাধারণ ফুলকপি বা বাধাকপির চেয়ে বেগুনি ফুলকপি সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও রয়েছে প্রচুর ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা বেগুনি ফুলকপি চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।
জেলার সদর উপজেলার ভাদসা গুচ্ছগ্রাম এলাকার কৃষক আমেদ আলী ও আজেদা দম্পতি ১৫ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বেগুনি ফুলকপি চাষ করেছেন। বেগুনি ফুলকপি দেখতে সাধারণ ফুলকপির মতো হলেও এর ফুল ফলের রং বেগুনি। চাষ পদ্ধতিও সাধারণ ফুলকপির মতো। বেগুনি ফুলকপির চাষ নতুন হওয়ায় এলাকায় সাড়া ফেলেছে এবং তা দেখতে কৃষকরা প্রতিদিন ছুটে আসছেন। চাষ পদ্ধতি বাধাকপি ও সাধারণ ফুলকপির মতো।
চাহিদা থাকায় সাধারণ ফুলকপি থেকে এর দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। চারা রোপণ থেকে ৬৫ দিন মেয়াদী ১৫ শতাংশ জমিতে এ বেগুনি ফুলকপি চাষে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার টাকা। প্রথম দিকে এই ফুলকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা গ্রামের মাসুদ মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও তেঘর গ্রামের খোকন আহম্মেদ জানান, খেতে সুস্বাদু, অধিক গুন সম্পন্ন, বাজারে চাহিদা ও দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে শুনে দেখতে এসেছি। আমরাও সামনের বছর বেগুনি ফুলকপি চাষ করব।
কৃষক দম্পতি আমেদ আলী ও আজেদা বলেন, বেগুনি ফুলকপি বাজারে নতুন হওয়ায় চাহিদা প্রচুর। ফলে সাধারণ ফুলকপির চেয়ে কয়েকগুন বেশি দামে গ্রাহকরা কিনছে। এ ছাড়াও খরচের চেয়ে লাভের পরিমাণ কয়েকগুন তাই সামনের বছর আরও অধিক জমিতে বেগুনি ফুলকপির আবাদ করব।
জয়পুরহাট জাকস ফাউন্ডেশন কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন শাহিন জানান, বেগুনি ফুলকপিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মাত্রা বেশি থাকায় মানুষের
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে এর চাষাবাদে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কায়সার ইকবাল বিষমুক্তভাবে এ বেগুনি ফুলকপি চাষ করা হচ্ছে। পোকা মাকড় দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেরোমন ফাঁদ। বেগুনি ফুলকপি নতুন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ বেশি ও দামও ভালো পাচ্ছে ফলে এর চাষ সম্প্রসারণে আরও কাজ করবে কৃষি বিভাগ। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশনের সমন্বিত কৃষি ইউনিটের সার্বিক তত্বাবধানে বেগুনি ফুলকপি চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে এ জেলায়।




